চৈতি আহমেদ
স্বাস্থ্য ফিচার | ভিনিউজ
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ-দুটিই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেকেই বছরের পর বছর এই দুই রোগ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, খাবারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখছেন, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা প্রায়ই ভুলে যাচ্ছেন। সেটি হলো কিডনি। অথচ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কিডনির ক্ষতি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। যখন শারীরিক অসুস্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি)। কিডনি আমাদের শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। পাশাপাশি শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু প্রস্রাবের ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকে না; হৃদ্যন্ত্র, রক্তনালি, হাড়সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডায়াবেটিসে রক্তে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এতে কিডনির রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা কমতে থাকে। আবার কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে যায়। অর্থাৎ একটি সমস্যা অন্যটিকে বাড়িয়ে দেয়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
খাবারের পাতে প্রথম পরিবর্তন: নুন কমাতে হবে
কিডনি সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ কমানো। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমাতে পারে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম হওয়া উচিত। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক আরও কম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
আমাদের দেশের খাদ্যাভ্যাসে লবণের একটি বড় অংশ আসে রান্নার বাইরের খাবার থেকে। যেমন-আচার, পাঁপড়, চানাচুর, চিপস, নোনতা বিস্কুট, শুঁটকি, অতিরিক্ত লবণ দেওয়া বাদাম এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার। সস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্যুপ ও ফাস্ট ফুডেও প্রচুর সোডিয়াম থাকতে পারে। তাই শুধু রান্নায় লবণ কমালেই হবে না, এসব খাবারের অভ্যাসও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (এনআইডিডিকে) বলছে, কিডনি রোগীদের খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ কমাতে এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে সাধারণ লবণের বিকল্প হিসেবে পটাশিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ভাত-রুটি বাদ নয়, নিয়ন্ত্রণ জরুরি
ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই ভাত খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেন। আবার কেউ কেউ ভাতের পরিবর্তে বেশি করে রুটি খেতে শুরু করেন। কিন্তু কিডনি ও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কোনো একটি খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই সমাধান নয়। বরং খাবারের পরিমাণ, পুষ্টিমান এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। তাই ভাত একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একইভাবে আটার রুটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। তবে ভাত বা রুটি বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা বিবেচনায় রাখতে হবে।
খাদ্যতালিকায় মৌসুমি শাকসবজি রাখা ভালো। লাউ, ঝিঙে, পটোল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে সব ধরনের সবজি সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে কিছু সবজি ও ফলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
ডাল, মাছ, মাংস ও ডিম কতটা খাবেন?
শরীরের পেশি ও কোষের গঠন এবং ক্ষয়পূরণে প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম প্রোটিন খেলে অপুষ্টি ও পেশি ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে।
ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ প্রোটিনের ভালো উৎস। কিন্তু ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ একসঙ্গে থাকলে কতটা প্রোটিন খাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে কিডনির বর্তমান অবস্থার ওপর। ২০২৬ সালের আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের (এডিএ) নির্দেশিকায় মাঝারি পর্যায় থেকে অগ্রসর দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত, ডায়ালাইসিস না করা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে প্রায় ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ নয়। রোগীর পুষ্টিগত অবস্থা ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা কিডনি বিষয়ে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
বিশেষ করে জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রোটিন পাউডার বা অতিরিক্ত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা রয়েছে। কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এসব গ্রহণ করা উচিত নয়।
ফল খেলেই কি কিডনির ক্ষতি হয়?
ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের মধ্যে ফল খাওয়া নিয়ে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকে মনে করেন, কলা, কমলা, ডাবের পানি কিংবা অন্যান্য ফল খেলে কিডনির ক্ষতি হয়। বিষয়টি এত সরল নয়।
ফলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়াম জমার আশঙ্কা থাকে। কলা, কমলা, খেজুর, অ্যাভোকাডো ও ডাবের পানিতে তুলনামূলক বেশি পটাশিয়াম থাকতে পারে। যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের এসব খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে।
অন্যদিকে আপেল, আঙুর, আনারস, পেয়ারা কিংবা পেঁপে অনেকের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে রাখা যায়। তবে কোন ফল কতটা নিরাপদ, তা নির্ভর করবে কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রার ওপর। ডায়াবেটিস রোগীদের ফলের পরিমাণ ও শর্করার দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। গোটা ফল খাওয়াই ভালো; ফলের রস বা মিষ্টি ফলের পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং এনআইডিডিকে-র খাদ্যবিষয়ক নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, কিডনি রোগের পর্যায় অনুযায়ী পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ও প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ কিডনি রোগ হলেই সবার জন্য একই ধরনের ফল বা সবজির নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
পর্যাপ্ত পানি পান, তবে নিয়ম মেনে
কিডনি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। তবে কিডনির অসুখ হলেই বেশি বেশি পানি পান করতে হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে গেলে কিংবা শরীরে পানি জমার সমস্যা থাকলে চিকিৎসক দৈনিক তরল গ্রহণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন। বিশেষ করে যাঁদের পা ফুলে যায়, শ্বাসকষ্ট হয় কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসে, তাঁদের নিজের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত নয়।
এ ছাড়া কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, এনার্জি ড্রিংক ও প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কিডনি বাঁচাতে কোন পরীক্ষাগুলো জরুরি?
কিডনির অসুখের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত কিডনির পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে দুটি পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, যার মাধ্যমে ইজিএফআর বা আনুমানিক গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়টি হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন ও ক্রিয়েটিনিনের অনুপাত বা ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (ইউএসিআর)। কিডনির ক্ষতি শুরু হলে প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিন বেরিয়ে আসতে পারে। তাই শুধু রক্তের ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক থাকলেই কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন এবং কিডনি রোগবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডনি ডিজিজ: ইমপ্রুভিং গ্লোবাল আউটকামসের (কেডিআইজিও) নির্দেশিকায় কিডনির কার্যক্ষমতা ও প্রস্রাবে অ্যালবুমিন—দুই ধরনের পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের অন্তত বছরে একবার এসব পরীক্ষা করানোর পরামর্শ রয়েছে। কিডনির সমস্যা শনাক্ত হলে রোগের পর্যায় ও ঝুঁকি অনুযায়ী পরীক্ষার ব্যবধান বাড়াতে হতে পারে।
ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনুন
কিডনি সুরক্ষায় শুধু খাবারের নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। কেডিআইজিওর নির্দেশিকায় শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেনের মতো কিছু ব্যথানাশক ওষুধ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ, অজানা উপাদানের কবিরাজি চিকিৎসা কিংবা বাজারে প্রচলিত কিডনি ভালো রাখার সাপ্লিমেন্টও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক কিডনি সুরক্ষায় বিশেষ কিছু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা কিংবা মাত্রা পরিবর্তন করা বিপজ্জনক হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলেই কিডনি বিকল হয়ে যাবে, এমন নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতি প্রতিরোধ করা কিংবা এর অগ্রগতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব। তাই কিডনি অসুস্থ হওয়ার অপেক্ষা নয়, সুস্থ থাকতেই তার যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।




