আলোচনা ব্যর্থ, ইসলামাবাদমুখী লংমার্চে পিটিআই

ভিনিউজ ডেস্ক : পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। রোববার (৪ অক্টোবর) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী লংমার্চ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে পার্লামেন্ট ভবনে সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলার পর রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তা শেষ হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় সিনেট নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জানান, আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের বিষয়েও কোনো সমাধান হয়নি।

সরকারের পক্ষের আলোচক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে না পারায় আলোচনা মূলত ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পিটিআই জানিয়েছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববারই লংমার্চ শুরু হবে। সরকার অবশ্য শর্ত দিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা ছাড়ের আগে ইসলামাবাদমুখী মার্চ প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু পিটিআইয়ের অবস্থান, কর্মসূচি প্রত্যাহারের আগে দলীয় প্রতিনিধিদের অবশ্যই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি জানিয়েছেন, লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, বান্নু, কারাক, কোহাট, পেশোয়ার ও চারসাদ্দা হয়ে ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ইমরান খান কারাগারে থাকলেও তার সমর্থকদের মধ্যে এখনো তার ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। চলতি সপ্তাহে পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ইমরান খানের তিন বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। লংমার্চের নেতৃত্বে থাকা সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

সোহাইল আফ্রিদির অভিযোগ, সরকার ইসলামাবাদকে কার্যত অবরুদ্ধ করে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তার দাবি, ইমরান খানের সমর্থনে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামবে এবং তাদের থামানো সহজ হবে না।

তবে একদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চ, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ইমরান খানের দলের বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে এবারের লংমার্চ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পূর্বের খবরফুল বদলে ফের রাজ্যসভায় কোয়েল, বিজেপির প্রার্থী হতেই তৃণমূলের নিশানায় অভিনেত্রী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!