বিশেষ ফিচার
ভিনিউজ ডেস্ক : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে নানা ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। রোদে পোড়া, ব্রণ, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বয়সজনিত কারণে মুখে দেখা দিতে পারে কালচে দাগ, বাদামি ছোপ বা মেচেতা। উৎসবের মরসুমে বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে ত্বকের এই দাগছোপ নিয়ে অনেকেই বাড়তি চিন্তায় থাকেন। ঘরোয়া উপায়ে দাগ কমানোর চেষ্টা করলেও সময় লাগে। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অনেকেই এখন বিভিন্ন ধরনের ত্বকচিকিৎসা বা কসমেটিক থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন।
বর্তমানে অ্যান্টি-পিগমেন্টেশন বা ত্বকের অতিরিক্ত রং কমানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডার্মাপেন মাইক্রোনিডলিং, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বা পেপটাইডভিত্তিক ত্বকচর্চা এবং লেজ়ারভিত্তিক চিকিৎসা। তবে কোন পদ্ধতি কার জন্য উপযোগী, তা ত্বকের ধরন ও সমস্যার কারণের উপর নির্ভর করে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের চিকিৎসা করানো ঠিক নয়।
ডার্মাপেন মাইক্রোনিডলিং বর্তমানে আলোচিত একটি পদ্ধতি। এতে বিশেষ একটি যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকের উপরিভাগে অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র বা মাইক্রো-চ্যানেল তৈরি করা হয়। এর ফলে ত্বকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী এর সঙ্গে ভিটামিন সি, কোজ়িক অ্যাসিড বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। কোথাও কোথাও পেপটাইডভিত্তিক উপাদানও ব্যবহার করা হয়।
পেপটাইড মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল। ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত কিছু পেপটাইড কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে বলে প্রসাধনী ও ত্বকচিকিৎসায় এগুলোর ব্যবহার রয়েছে। তবে পেপটাইড ব্যবহার করলেই বয়স থেমে যায় বা ত্বকের সব ক্ষতি স্থায়ীভাবে মেরামত হয়ে যায়—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এই ধরনের মাইক্রোনিডলিং চিকিৎসা ব্রণের দাগ বা কিছু ধরনের পিগমেন্টেশন কমাতে ব্যবহার করা হয়। তবে ত্বকে সক্রিয় সংক্রমণ, র্যাশ, প্রদাহ, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা বা অন্য কোনও চর্মরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পদ্ধতি নেওয়া উচিত নয়। একটি সেশনের খরচ চিকিৎসাকেন্দ্র ও ব্যবহৃত উপাদানের উপর নির্ভর করে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আর একটি পরিচিত পদ্ধতি হল লেজ়ারভিত্তিক চিকিৎসা। নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করে ত্বকের নির্দিষ্ট অংশে কাজ করা হয়। পিগমেন্টেশন বা সূর্যের কারণে তৈরি কিছু দাগ কমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের লেজ়ার ও আলোভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। পিক্সেল লেজ়ারও ত্বকের দাগছোপ, ব্রণের দাগ কিংবা দীর্ঘদিনের কিছু পিগমেন্টেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের মেচেতা বা কালচে দাগের চিকিৎসা এক নয়। ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করলে উল্টো ত্বকের রং আরও গাঢ় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
তাই পুজোর আগে মুখের দাগছোপ দূর করার পরিকল্পনা থাকলে একেবারে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে আগে বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। দাগের কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বেছে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, রোদ এড়িয়ে চলা এবং ত্বকের উপযোগী পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থেরাপি করালেই দাগ আর কখনও ফিরবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই। সঠিক কারণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ত্বক পরিচর্যাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




