ভিনিউজ ডেস্ক : রূপচর্চা নিয়ে তারকাদের নানা ধরনের অভ্যাসের কথা প্রায়ই সামনে আসে। কেউ নিয়মিত ফেসিয়াল করেন, কেউ নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন, আবার কেউ ঘরোয়া উপায়েই ত্বক ও চুলের যত্ন নেন। তবে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। সংবেদনশীল ত্বকের কারণে খুব বেশি রূপচর্চা করতে গেলেই সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। সামান্য অসতর্ক হলেই মুখে দেখা দেয় ব্রণ বা ফোঁড়া। তাই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে বেশ নিয়ন্ত্রিতভাবেই রূপচর্চা করেন এই টলি অভিনেত্রী।
দুর্গাপুজোর আগে আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে আড্ডায় নিজের রূপচর্চার নানা অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন ঐন্দ্রিলা। অভিনেত্রীর ভাষ্য, যখনই তিনি ত্বকের ব্যাপারে বেশি সচেতন হয়ে নানা কিছু করার চেষ্টা করেন, তখনই মুখে টসটসে ফোঁড়া বেরিয়ে যায়। ফলে অন্যদের মতো ইচ্ছেমতো প্রসাধনী ব্যবহার বা নানা ধরনের ত্বকচর্চা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
ঐন্দ্রিলার মতে, তার ত্বক ভালো রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, যেদিন পর্যাপ্ত পানি পান করেন এবং প্রায় আট ঘণ্টা একটানা ঘুম হয়, সেদিন তার মুখে ব্রণের সমস্যা অনেকটাই কম থাকে। অন্যদিকে পানি কম খাওয়া বা ঘুমের সময়ের অনিয়ম হলে দ্রুতই ত্বকে তার প্রভাব পড়ে। মজার ছলে কপালে ওঠা ব্রণকে ‘হেডলাইট’ বলেও উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
তবে এই সমস্যা বংশগত নয় বলেই মনে করেন ঐন্দ্রিলা। তার মায়ের ত্বক বেশ ভালো। ঋতুস্রাবের সময় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো হরমোনজনিত সমস্যাও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর ধারণা, তার ত্বকের নিজস্ব সংবেদনশীলতার কারণেই মূলত এই সমস্যা। তাই কখন ত্বকের সমস্যা শুরু হতে পারে, সেটিও এখন কিছুটা বুঝতে পারেন তিনি।

নিজের শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে কি না, তা বোঝার একটি সহজ পদ্ধতিও অনুসরণ করেন ঐন্দ্রিলা। এক হাতের আঙুল অন্য হাত দিয়ে কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে ছেড়ে দেন। ত্বক দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে না এলে তিনি সেটিকে শরীরে পানির ঘাটতির একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখেন। তার মতে, শুধু মুখের ত্বক ভালো রাখলেই হবে না, শরীরের সামগ্রিক পানির ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রণের সমস্যার জন্য অবশ্য চিকিৎসকের পরামর্শও নেন অভিনেত্রী। চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রণের ওপর দুটি জেল ও একটি ক্রিম ব্যবহার করেন তিনি। এর মধ্যে একটি ক্রিম সরাসরি মুখে ব্যবহার করা যায় না; অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে তারপর লাগাতে হয়। এ ছাড়া দুবাই থেকে তার মাসি একটি বিশেষ ক্রিম পাঠান, যেটিও তার ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঐন্দ্রিলা। মাঝেমধ্যে হাইড্রাফেশিয়ালও করান তিনি। তবে তা নিয়মিত নয়, প্রায় ছয় থেকে নয় মাস অন্তর।
ত্বকের পাশাপাশি চুল নিয়েও বেশ সমস্যায় পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। দক্ষিণ কলকাতায় চলে আসার পর বাড়ির পানির মান নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কখনও কখনও পানিতে এমন দুর্গন্ধ থাকে যে সেই পানি দিয়ে চুল ধোয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীও।
এই কারণে চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয় ঐন্দ্রিলাকে। কখনও পার্লারে গিয়ে শ্যাম্পু করেন, আবার কখনও বোতলজাত পানি কিনে মাথা ধুয়ে নেন। চুলের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহার থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন তিনি।
সব মিলিয়ে ঐন্দ্রিলা সেনের রূপচর্চার মূলকথা যেন অতিরিক্ত প্রসাধনী নয়, বরং নিজের ত্বকের ধরন বোঝা, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। সংবেদনশীল ত্বক নিয়ে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই বার্তাই স্পষ্ট—সবার ত্বকের যত্নের নিয়ম এক নয়; নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।




