ঢাকা উত্তরে এনসিপির প্রার্থী আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।

রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।

সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা।

এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।

সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।

উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।

জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।

পূর্বের খবরদেশের ৮টি বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়বে গরমও
পরবর্তি খবরইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, অল্পে বাঁচলেন ট্রেনযাত্রী বরিস জনসন
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!