ভিনিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। দেশের জানমালের নিরাপত্তাকে নিজের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক বিভাজক স্থাপন ও সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় তিনি এ দাবি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি কমিটির বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর আত্মিক টান ও গভীর ভালোবাসা রয়েছে। হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সড়ক বিভাজক না থাকায় সম্প্রতি এক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকালমৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে সড়ক বিভাজক স্থাপনের পাশাপাশি সড়কটি যথাযথভাবে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
সরকারি জমি বরাদ্দ ও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার কোনো নজির দেশে আর হতে দেওয়া হবে না। ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষিজমি সুরক্ষার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতাধীন ‘চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন-১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের জন্য কর্ণফুলী থানার জুলধা মৌজায় ১.৩৯০৩ একর, শিকলবাহায় ৬.৯৭৩১ একর, শাহমীরপুরে ১০.৭৫৫৯ একর এবং আনোয়ারা থানার বাদলপুরা মৌজায় ২.৫৮৯০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এ ছাড়া ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ (এলওসি-৩)’ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় মোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুৎ, রেলপথ ও শিল্প খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। এর মধ্যে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নাজমা পেপার মিলস ও মেঘনা ইকোনমিক জোনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সড়ক উন্নয়ন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং যশোরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) জন্য জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পরিবর্তিত বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের কাজে ব্যবহারের অনুমোদনও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি।




