ডয়েসে ভেলে প্রতিবেদন : সাক্সনি-আনহাল্টে নির্বাচন: ক্ষমতার স্বপ্নে কট্টর ডানপন্থি এএফডি

 

ভিনিউজ : জার্মানির বহুল আলোচিত সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের রাজ্যপ্রধান নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রায় ১৭ লাখ ভোটারের এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুধু জার্মানিতেই নয়, গোটা ইউরোপেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ, জনমত জরিপে এবার রাজ্যটিতে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচলান্ড বা এএফডির বড় ধরনের সাফল্যের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সাক্সনি-আনহাল্টের রাজধানী মাগডেবুর্গের পার্লামেন্টে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। প্রতিটি ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। এর একটি পছন্দের প্রার্থীর জন্য এবং অন্যটি রাজনৈতিক দলের জন্য। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোট গণনা শেষ হতে সোমবার ভোর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, এএফডি এককভাবে ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেতে পারে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট। জরিপের এই পূর্বাভাস বাস্তবে পরিণত হলে জার্মানির কোনো একটি রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারে এএফডি।

তবে এএফডিকে ঠেকাতে ইতোমধ্যে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট না করার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে এএফডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিশ সিগমুন্ড নির্বাচনে জয়ী হলে সাক্সনি-আনহাল্টকে জার্মানির ডানপন্থি রাজনীতির একটি ‘আদর্শ মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়েছেন। দলটির প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসন ইস্যু। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের ফেরত পাঠানো এবং শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সাক্সনি-আনহাল্টের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা কম হলেও অভিবাসন ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করেছে এএফডি।

দলটির ঘোষিত প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনায় গণতন্ত্রপন্থি বেসরকারি সংগঠনের অর্থায়ন কমানো, শরণার্থীদের কাজের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের তুলনায় জার্মান জাতীয় পরিচয় ও আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে সিডিইউ প্রার্থী স্ফেন শুলৎসে এএফডির উত্থান ঠেকিয়ে সিডিইউকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। এখন সবার নজর ভোটের ফলাফলের দিকে-সাক্সনি-আনহাল্ট কি জার্মানির কট্টর ডানপন্থিদের নতুন রাজনৈতিক ঘাঁটি হয়ে উঠবে, নাকি মূলধারার দলগুলোই ক্ষমতা ধরে রাখবে, তার উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার পর।

পূর্বের খবরআজও অমলিন সালমানের স্মৃতি – মৌসুমী
পরবর্তি খবররয়র্টাসের প্রতিবেদন : পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে উইটকফ-কুশনার, শান্তি আলোচনায় নতুন তৎপরতা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!