ভিনিউজ : সিন্ধু ও অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি মেনে চলতে ভারতকে নিজেদের ‘দায়িত্ব পালন’ করার নির্দেশ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (পিসিএ)। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে—এমন দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আন্তর্জাতিক এই সালিশি আদালত।
সোমবার দেওয়া সিদ্ধান্তে ট্রাইব্যুনাল জানায়, সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের চুক্তির বিধান মেনে চলতে হবে। ওই চুক্তিতে ছয়টি নদীর পানি ব্যবহারের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব নদীর উৎস ভারতে হলেও সেগুলো সিন্ধু অববাহিকার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে।
এই পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ নতুন করে তীব্র হয় ২০২৫ সালের মে মাসে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ওই হামলায় পাকিস্তানের মদত থাকার অভিযোগ তোলে নয়াদিল্লি। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

পিসিএর সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই সঠিক প্রমাণ করেছে। তাঁর দাবি, একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনো পক্ষই একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের অধিকার রক্ষায় তাঁর দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনুযায়ী, ভারতকে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি আগামী বছর বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আদালতের আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ চুক্তির বিধান লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তবে পিসিএর সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে ‘তথাকথিত রায়’ হিসেবে উল্লেখ করে তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এই সংস্থাটি অবৈধভাবে গঠিত হয়েছে এবং এর আগের ঘোষণাগুলোর মতো সর্বশেষ সিদ্ধান্তও ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পরও পানি বণ্টন নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের বিরোধ মিটছে না। বরং সিন্ধু অববাহিকার পানি ব্যবহার, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




