কোটিপতি ‘মার্কিন নাগরিক’ হলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট, বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থী জনতোষণবাদী প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলার শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির জন্য ১০০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল শনিবার কলম্বিয়ার সাবেক সামরিক ঘাঁটির কাছে দেওয়া এক জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক ভাষণে দে লা এস্প্রিয়েলা দেশের সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ এবং কঠোর হস্তে দমন করার নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ‘নিরাপত্তা প্যাকেজ’ যৌথ লক্ষ্য অর্জনে—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে—নতুন কলম্বিয়ান প্রশাসনকে সহায়তা করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছিলেন।

‘টাইগারের যুগ’ ও কঠোর দমননীতি

বিগত রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভেঙে রাজধানী বোগোতার পরিবর্তে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী দে লা এস্প্রিয়েলা। নিজেকে ‘এল টাইগ্রে’ বা ‘বাঘ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর মেয়াদকাল হবে ‘বাঘের যুগ’। সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ন্যায্যতা বা শক্তি—যেকোনো উপায়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা হবে এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ডের একটি স্থানেও অপরাধীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারবে না।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দে লা এস্প্রিয়েলার এই কঠোর অবস্থান এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে এবং ইকুয়েডরের দানিয়েল নোবোয়ার গৃহীত ডানপন্থী ও কঠোর অপরাধ দমন নীতিরই অনুরূপ।

দে লা এস্প্রিয়েলার এই অবস্থান তাঁর পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রোর অনুসৃত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। পেত্রো তাঁর মেয়াদে ‘সামগ্রিক শান্তি’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে সামরিক অভিযানের চেয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং কোকা চাষিদের বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

তবে সমালোচকদের মতে, পেত্রোর এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সশস্ত্র দলগুলোর পরিধি আরও বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের জন্য পেত্রোর শিথিল নীতিকে দায়ী করে আসছিল।

ক্ষমতায় এসেই দে লা এস্প্রিয়েলা ঘোষণা করেছেন, কলম্বিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ নামক সামরিক ও নিরাপত্তা জোটে যোগ দেবে। এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গেও কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি—যা গাজা সংকটের কারণে বন্ধ করে দিয়েছিলেন পেত্রো।

লাতিন আমেরিকায় শক্ত অবস্থান ট্রাম্পের

লাতিন আমেরিকায় অর্থনৈতিক সংকট এবং গ্যাং সহিংসতার পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী নেতাদের বিজয়ের যে ধারা শুরু হয়েছে, দে লা এস্প্রিয়েলার জয় তারই ধারাবাহিকতা। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মতাদর্শিক মিত্রদের পুরস্কৃত করছেন। আর্জেন্টিনার লিবারটেরিয়ান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ইতিমধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য প্রতিবেশী পেরুতেও কেইকো ফুজিমোরির উত্থানের পর অঞ্চলে ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

কে এই ‘এল টাইগ্রে’?

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কোটিপতি ব্যবসায়ী আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার আগে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সাবেক আধাসামরিক সদস্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনি প্রতিরক্ষা দিয়ে পরিচিতি পান। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে নিজেকে ‘আউটসাইডার’ বা মূলধারার রাজনীতির বাইরের ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন এই নেতা।

নির্বাচনের প্রচারণা চলার সময়ে এক ডানপন্থী প্রার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে, তিনি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও বুলেটপ্রুফ কাচের পেছনে থেকে জনসভাগুলো পরিচালনা করতেন। ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া এই নেতা ট্রাম্পের নীতিগুলোর প্রকাশ্য সমর্থক। কলম্বিয়াকে সাবেক ব্যবস্থার হাত থেকে উদ্ধার করতে তিনি কোনো ধরনের আপস করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

পূর্বের খবররাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
পরবর্তি খবরমাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!