বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি, চড়া দামে ক্রেতাদের অস্বস্তি

শীতের সবজিতে বাজার জমজমাট না হলেও আগাম বেশ কিছু শীতকালীন সবজি এরইমধ্যে চলে এসেছে বাজারে। তবে এর মধ্যে হাতেগোনা কিছু সবজির দামই নাগালের মধ্যে, বাকি সব সবজির দাম আকাশছোঁয়া।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনও পর্যাপ্ত সবজি আসেনি, যে কারণে দামও তুলনামূলক বেশি। তবে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে এই দাম কমে আসবে।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা এলাকার বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

শীতকালে বাজারে সাধারণত লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, দেশি পেঁয়াজ, ভারতীয় পেঁয়াজ, বেগুন, মূলা, লালশাক, পালংশাক, পটোল, ঢেড়স, বরবটি, ঝিঙা, পেঁপে, আলু, করলা, কচু, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ভরপুর থাকে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা, মূলা ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা। এ ছাড়া, প্রতি কেজি গোল বেগুন ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৯০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি পিস জালি কুমড়া (চাল কুমড়া) ৬০ টাকা ও লাউ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, আজকের বাজারে সবকিছুরই দাম বেশি মনে হচ্ছে। মূলার কেজি ৬০ টাকা, যা সাধারণত ৩০/৪০ টাকার মধ্যেই থাকে। এ ছাড়া ঢেঁড়শের কেজিও ৬০ টাকা, গত দুইদিন আগেও ছিল ৪০ টাকা।

তিনি বলেন, বাজারে কোনো পণ্যের দামে নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো যখন ইচ্ছে দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। আমি মনে করি এটা সরকারের বড় ব্যর্থতা। বাজারে শিম এসেছে আরও দুই সপ্তাহ আগে, তারপরও দাম এখন ২০০ টাকা কেজি।

রোকেয়া আক্তার নামে আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে জিনিসপত্রেন এতো দাম, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কেনার অবস্থা নেই। যে সবজিরই দাম জিজ্ঞেস করি, ৫০/৬০ টাকার নিচে কিছুই নেই। বাজারে এলেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।

তিনি বলেন, মাছ-মাংস কেনার অবস্থা নেই। ভর্তা-ভাত, সবজি খেয়ে থাকবো সেটারও অবস্থা নেই। আমরা গরীব মানুষ কতোটা বিপদে আছি বলে বোঝানোর ভাষা নেই।

সবজির দাম প্রসঙ্গে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা নুরুজ্জামান বাবু বলেন, শীতের সবজি বাজারে এলেও চাহিদা অনুপাতে পরিমাণ খুবই কম। আমরাও চাহিদা মতো আড়ত থেকে কিনতে পারছি না। যে কারণে বাধ্য হয়েই একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

দাম বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বাজারে সার-কীটনাশকের দাম অনেক বেশি। তাছাড়া মজুরির দামও বেড়েছে। সবমিলিয়ে কৃষক পর্যায়েই এখন দামটা কিছুটা বেশি। সেটা যখন বিভিন্ন হাত ঘুরে আমাদের কাছে আসে, স্বাভাবিকভাবেই দামটা বেশি হওয়ার কথা।

রফিকুল ইসলাম নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, এবার আগাম সবজির চাষ হয়েছে, যে কারণে বাজারেও দ্রুত চলে এসেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে সবজির দাম বাড়তি। এর কারণ হলো এখনও আসলে শীতকালীন সবজির পুরোপুরি মৌসুম আসেনি। ফলে এগুলোর দাম বেশি। বাজারে ফুলকপি-বাঁধাকপি থাকলেও সাইজ অনেক ছোট। শীতের একেকটা কপি যেখানে দুই থেকে আড়াই কেজি হয়, সেখানে এখন সর্বোচ্চ ৩০০/৪০০ গ্রাম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত শীতকাল আসার আগ পর্যন্ত সবজির দাম এমন বাড়তিই থাকে। কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য সব পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজিই প্রতি পাল্লায় দাম বেড়েছে। সে কারণে আমাদের কেনার খরচ আগের চেয়ে বেশি লেগে যাচ্ছে। এরপর তা পরিবহনসহ শ্রমিক খরচ, রাস্তা খরচ, যেখানে দোকান বসাচ্ছি তার খরচ সব মিলিয়ে খুচরা বাজারে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে।

পূর্বের খবরইসরায়েলে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ মোট ছয় ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা
পরবর্তি খবর২৭ অক্টোবর ময়মনসিংহে প্রথম নগর যুব কাউন্সিল নির্বাচন