ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল: ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া

 

ভিনিউজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে আবারও ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছে ইউরোপ। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন দেশেই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপ এ বছর ইতোমধ্যে তিন দফা তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে দাবানল আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরে দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ইতোমধ্যে গত দুই দশকের বার্ষিক গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো শহরের কাছে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় আর্কাকন বে’র আশপাশেও আগুন পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু পর্যটককেও এলাকা ছাড়তে হয়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আগুন নেভানোর সময় দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরেছে।

স্পেনেও দাবানল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে তোলেদো অঞ্চলের কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুয়াদালাজারা প্রদেশে ৩০টিরও বেশি গ্রামের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দাবানল-উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং সম্পদ ধ্বংস করছে, তা এখন আর রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা।

ইতালির সিসিলি দ্বীপেও কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ছয় হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে পানি নিক্ষেপ করেও অন্তত ৫০টি স্থানে আগুন জ্বলতে থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে ইতালির কালাব্রিয়া অঞ্চলে ১৬০টিরও বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব আগুনের অনেকগুলোই পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দাহ্য পদার্থে ভেজানো কাপড় পাওয়া গেছে। এমনকি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভবঘুরে বিড়ালের লেজে দাহ্য বস্তু বেঁধে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনার অভিযোগও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই শুধু জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নয়, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন নীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো।

পূর্বের খবরফাইনালের দিন কেন বার বার সতীর্থদের শান্ত হতে বলেছিলেন মেসি?
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!