নেপালে রাইডশেয়ার চালকের আত্মহত্যা, জেন জি প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

 

ভিনিউজ ডেস্ক : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ২৫ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেলচালকের আত্মাহুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করে শত শত তরুণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত গণেশ নেপালি পেশায় একজন রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালক ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় মহানগর পুলিশের সদস্যরা এসে তার মোটরসাইকেলের চাকায় ‘হুইল লক’ লাগিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর থেকেই প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে জমে থাকা জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

রবিবার (১২ জুলাই) কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গরিবদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান।

 

২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন শাহ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং বস্তি অপসারণের মতো বিভিন্ন অভিযান জোরদার করেন। এসব অভিযানকে ঘিরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশ নিয়মিতভাবে তাদের আইনগত সীমার বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।

আইনজীবী রাজু চাপাগাই বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী মহানগর পুলিশের বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা নেই। তাদের দায়িত্ব প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করা এবং জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা। তার ভাষ্য, যানজট বা সড়ক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও মহানগর পুলিশের সদস্যদের হকারদের ধাওয়া করা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ করা এবং সাধারণ নাগরিকদের মারধরের মতো কর্মকাণ্ডে জড়াতে দেখা গেছে, যা আইনবহির্ভূত।

নেপালের সংবিধান স্থানীয় সরকারকে পৌর পুলিশ গঠনের সুযোগ দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে বালেন শাহর মেয়াদকালে ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপাল পুলিশ আইন’ প্রণয়ন করা হয়। তবে ওই আইনে মহানগর পুলিশকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার কিংবা জনতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পৌর সম্পত্তির নিরাপত্তা, পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা, পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং স্থানীয় উৎসব-অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করা।

নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র জোশি বলেন, মহানগর পুলিশ মূলত একটি সহায়ক বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বা বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হলে দায়িত্ব নেবে নেপাল পুলিশ। মহানগর পুলিশের নিজস্বভাবে জনতা নিয়ন্ত্রণের কোনো আইনি ক্ষমতা নেই।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বালেন শাহর প্রশাসনের অধীনে মহানগর পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর, পথের হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানের বহু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

পূর্বের খবরআগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি খবরমেসিকে থামানো এত কঠিন কেন? প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের চোখে আর্জেন্টাইন মহাতারকা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!