ভিনিউজ : ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটল চলতি বিশ্বকাপে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার পরাশক্তি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। আর আলবিসেলেস্তেদের এই জয়ের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়েছে ঐতিহাসিক এক রেকর্ড।
ফিফা র্যাংকিং অনুযায়ী, সেমিফাইনালে পা রাখা দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। র্যাংকিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।
শীর্ষে থাকা ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করে। আর নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে সেমির টিকিট কাটে র্যাংকিংয়ের চারে থাকা ইংল্যান্ড।
তবে এই অনন্য ইতিহাস গড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে টুর্নামেন্টের নতুন ড্র বিন্যাস ও কাঠামো। আসর শুরুর আগেই র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের চারটি ভিন্ন গ্রুপ বা অংশে ভাগ করা হয়েছিল।
সমীকরণ ছিল-তারা নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালের আগে কেউ কারো মুখোমুখি হবে না। বিশ্বসেরা চার দলই সেই লক্ষ্য শতভাগ পূরণ করায় শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে দেখা মিলছে সেরা চার শক্তিরই।
ড্রয়ের ছক অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে রাখা হয়েছিল ভিন্ন দুই ব্লকে। ফলে ফাইনালের আগে এই দুই পরাশক্তির দ্বৈরথের কোনো সুযোগ ছিল না। একইভাবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সও ছিল নকআউটের বিপরীত অংশে।
নিজেদের পথ ধরে দাপটের সঙ্গে সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে সেরা চারের মঞ্চে হাজির হয়েছে তারা।ফাইনালের টিকিট পাওয়ার এই মহারণে আগামী মঙ্গলবার মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর বুধবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ব্লকবাস্টার এই দুই সেমিফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এখন টানটান উত্তেজনা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ফিফা বিশ্বর্যাংকিং চালু হলেও সেবার বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা হয়নি। এরপরের বিশ্বকাপগুলোতে বারবারই দেখা গেছে শীর্ষ দলগুলোর মুখ থুবড়ে পড়ার দৃশ্য। ২০০২ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে ইতালি, ২০১৪ সালে স্পেন, ২০১৮ সালে জার্মানি এবং ২০২২ সালে বেলজিয়াম শীর্ষ চারে থেকেও গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি।




