ভিনিউজ : পৃথিবীর কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি বলিউডের ‘কিং খান’। কিন্তু তারকাখ্যাতি, বিলাসবহুল প্রাসাদ কিংবা বিপুল সম্পদের বাইরেও কিছু স্মৃতি থাকে, যার মূল্য অর্থে মাপা যায় না। তেমনই এক আবেগঘন স্মৃতিকে আবারও নিজের করে নিলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। দক্ষিণ দিল্লির পঞ্চশীল পার্কে অবস্থিত সেই বাড়ির অবশিষ্ট অংশও কিনে নিয়েছেন তিনি, যেখানে ১৯৯১ সালে স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে নতুন জীবনের প্রথম অধ্যায় শুরু করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে পুরো ভবনের একমাত্র মালিক এখন শাহরুখ খান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রায় ৩৭ কোটি রুপি ব্যয়ে বাড়িটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা কিনে নিয়েছেন শাহরুখ। এর আগে ভবনটির বেজমেন্ট ও প্রথম তলার মালিকানা তার কাছেই ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন পঞ্চশীল পার্কের পুরো বাড়িটির একক মালিকানা তার হাতে এসেছে।
প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গমিটার জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি দক্ষিণ দিল্লির অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকার জমির মূল্য প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৩৪ হাজার ২৬০ রুপি। ফলে সম্পত্তিটির আর্থিক মূল্য যেমন অনেক, তেমনি শাহরুখ ও গৌরীর কাছে এর আবেগঘন গুরুত্ব আরও বেশি।
আজ যে শাহরুখ খান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা, তার জীবনের শুরুটা কিন্তু ছিল অনেক সাধারণ। ১৯৯১ সালে গৌরী খানকে বিয়ে করার পর এই বাড়িতেই তারা প্রথম সংসার শুরু করেন। তখনও শাহরুখের বলিউড ক্যারিয়ার শুরু হয়নি। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে সংগ্রাম করছিলেন তিনি এবং মুম্বাইয়ে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্তও তখনো নেননি। দিল্লির এই বাড়িতেই তারা ভবিষ্যতের অসংখ্য স্বপ্ন বুনেছিলেন।
পরবর্তীতে অভিনয়ের টানে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান শাহরুখ। টেলিভিশন থেকে বড় পর্দা-ধাপে ধাপে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী তারকাদের একজন। বর্তমানে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ‘মান্নাত’ প্রাসাদ তার স্থায়ী ঠিকানা হলেও, দিল্লির এই বাড়িটি তাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুর স্মৃতি বহন করে চলেছে। সেই কারণেই বহু বছর পর বাড়িটির সম্পূর্ণ মালিকানা ফিরে পাওয়া শাহরুখের জন্য নিছক একটি সম্পত্তি কেনা নয়, বরং অতীতকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার মতো একটি মুহূর্ত।
গৌরী খানের কাছেও এই বাড়ির গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দিল্লির এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের অসংখ্য সুখস্মৃতি। পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি থাকা, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সংরক্ষণ করা এবং পুরোনো দিনের আবেগ ধরে রাখার জন্য তিনি বাড়িটির সাজসজ্জায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
গৌরী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাড়ির একটি দেয়ালজুড়ে রয়েছে একটি ‘নস্টালজিয়া ওয়াল’। সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ছেলে আরিয়ান খান, মেয়ে সুহানা খান এবং ছোট ছেলে আব্রাম খানের শৈশবের নানা স্মারক। পাশাপাশি রয়েছে শাহরুখ খানের আঁকা ছবি, পুরোনো পোস্টকার্ড, বিভিন্ন সময়ের সংগ্রহ এবং পরিবারের প্রিয় উপহার। এই দেয়ালটি তাদের পারিবারিক স্মৃতির এক অনন্য সংগ্রহশালা, যা অতীতের প্রতিটি মুহূর্তকে জীবন্ত করে রাখে।
শাহরুখ খানের এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সবসময় অর্থ বা বিলাসিতা নয়; বরং ভালোবাসা, সংগ্রাম এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই স্মৃতির টানেই বহু বছর পর নিজের জীবনের প্রথম সংসারের ঠিকানাটিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে পেলেন বলিউডের এই কিংবদন্তি তারকা।




