এমবাপ্পের ইতিহাসের রাতে ফ্রান্সের দাপুটে জয়

বিশ্বকাপের চিরকালীন স্মৃতিগুলো সাধারণত এমন কিছু ম্যাচ দিয়েই তৈরি হয়, যা সময়ের আবর্তনে ফুটবল রূপকথায় রূপ নেয়। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়টি স্রেফ শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচ ছিল না, বরং তা ছিল ফরাসি ফুটবলের নিখাদ সৌন্দর্য। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা মাঠের খেলায় যে নান্দনিকতার জন্ম দিলেন, তা লম্বা সময় ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে।

ফিলাডেলফিয়ায় পরবর্তী রাউন্ডে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই এক ম্যাচ দিয়েই ফুটবল ইতিহাসের একাধিক বিশ্ব রেকর্ড সম্পূর্ণ নিজেদের করে নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে সুইডেন বেশ জমাট ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে। তবে ৪৫ মিনিটে উসমান দেম্বেলের বুদ্ধিদীপ্ত পাসে বক্সে বল পেয়ে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে চতুর এক ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা, যেখানে অরেলিয়ে চুয়ামেনির পাস থেকে সুইডিশ ডিফেন্স চিরে মাইকেল ওলিসের বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত থ্রু বলটি ছিল দেখার মতো। পুরো ম্যাচে ওলিসে প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিলেন। ৭৫ মিনিটে ওলিসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে।

এই জয়ের রাতে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছেন এমবাপ্পে। চলতি আসরে ৬ গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে ওঠার পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে ১৮ গোল নিয়ে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে বসেছেন তিনি।

একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ১০ গোল নিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে মাত্র ৪ ম্যাচে এমবাপ্পের ৬ গোল ও ওলিসের ৫ অ্যাসিস্টের রসায়ন ফ্রান্সকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে অন্তত ২টি এবং টানা ৫ ম্যাচে অন্তত ৩টি গোল করার বিরল রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স।

পূর্বের খবরসাউথ আফ্রিকায় অভিবাসী-বিরোধী বিক্ষোভ
পরবর্তি খবরভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত প্রায় ২ হাজার, খাবার–ওষুধের জন্য হাহাকার
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!