ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে বলিউড তারকাদের অদ্ভত সব অভ্যাস, জানলে অবাক হবেন

 

বিনোদন ডেস্ক

ভিনিউজ: রূপালি পর্দায় তাঁরা নিখুঁত, আত্মবিশ্বাসী ও তারকাখ্যাতির শীর্ষে। অভিনয়, ফ্যাশন ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকেন বলিউড তারকারা। তবে ক্যামেরার ঝলকানি আর গ্ল্যামারের আড়ালে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে এমন কিছু অভ্যাস, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর, আবার কিছু ক্ষেত্রে বেশ অদ্ভুতও মনে হতে পারে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও প্রকাশ্য আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁদের এসব ব্যতিক্রমী অভ্যাসের কথা।

করিনা কপূর খান ছোটবেলা থেকেই দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অভ্যাস থেকে বিরত রাখতে তাঁর মা আঙুলে লঙ্কার গুঁড়ো পর্যন্ত মেখে দিতেন। এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সুন্দর নখের জন্য অনেক সময় কৃত্রিম নখ ব্যবহার করেন তিনি।

আমির খান সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই একটি মজার তথ্য প্রচলিত—শুটিং না থাকলে তিনি নিয়মিত স্নান করতে খুব একটা আগ্রহী নন। অন্যদিকে সলমন খান-এর নেশা আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে গেলে সেখানকার সুগন্ধি সাবান সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে নানা ধরনের বিরল ও সুগন্ধি সাবান।

সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন বদ্ধ জায়গার পরিবর্তে খোলা আকাশের নিচে স্নান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে শাহরুখ খান-এর অভ্যাস হলো, সকালে যে জুতো পায়ে দেন, তা রাত পর্যন্ত আর খুলতে চান না। কারণ হিসেবে তিনি মজার ছলে বলেছেন, জুতো খুললে দুর্গন্ধ বের হতে পারে—এমন আশঙ্কাই তাঁকে সারাদিন জুতো পরে থাকতে উৎসাহিত করে।

দীপিকা পাড়ুকোন মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিশেষ করে বিমানবন্দর বা জনসমাগমে তিনি নীরবে মানুষের চলাফেরা ও অভিব্যক্তি লক্ষ্য করেন। তাঁর ভাষায়, অভিনয়ের জন্যও এটি অনেক সময় কাজে লাগে। অন্যদিকে আলিয়া ভট্ট অবসর সময়ে প্রতিবেশীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করেন বলেই জানিয়েছেন।

খাবারের ক্ষেত্রে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া-র রয়েছে আলাদা পছন্দ। প্রায় সব ধরনের খাবারের সঙ্গে আচার খেতে ভালোবাসেন তিনি। এমনকি পিৎজার সঙ্গেও আচার খাওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন। আর সইফ আলি খান বইপড়ার প্রতি এতটাই অনুরাগী যে নিজের শৌচাগারেই ছোট একটি লাইব্রেরি তৈরি করেছেন, যাতে নিরিবিলিতে দীর্ঘ সময় বই পড়তে পারেন।

সঞ্জয় দত্ত বিছানার চেয়ে সোফা বা চেয়ারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমাতে পারেন। অন্যদিকে অমিতাভ বচ্চন-এর দুই হাতে দুটি ঘড়ি পরার অভ্যাস বহু বছর ধরেই ভক্তদের কাছে পরিচিত। পরিবারের সদস্যরা বিদেশে থাকলে ভিন্ন সময় অঞ্চলের সময় দেখার সুবিধার জন্য এই অভ্যাস গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়।

সমান্থা রুথ প্রভু জানিয়েছেন, জীবনে নেতিবাচক মানুষদের জায়গা দিতে চান না। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ফোনে এমন কাউকে পেলেই দ্রুত ব্লক করে দেন। অন্যদিকে রণবীর কপূর-এর একটি মজার বাতিক হলো, রাস্তায় চলার সময় গাড়ির নম্বর প্লেটের সংখ্যাগুলো যোগ করে এক অঙ্কে না আসা পর্যন্ত হিসাব করতে থাকা।

সবশেষে জাহ্নবী কপূর জানিয়েছেন, তিনি সহজেই মানুষের হাত ধরে ফেলেন এবং একবার হাত ধরলে সহজে ছাড়তে চান না। তাঁর কাছে এটি স্নেহ ও আন্তরিকতার প্রকাশ।

তারকাদের এই অভ্যাসগুলো কারও কাছে অদ্ভুত, কারও কাছে মজার মনে হতে পারে। তবে এগুলোই প্রমাণ করে, গ্ল্যামারের আড়ালে তাঁরাও সাধারণ মানুষের মতোই নানান ব্যক্তিগত অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আর সেই অজানা দিকগুলোই ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়।

পূর্বের খবরমানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
পরবর্তি খবরবিশ্বকাপে ২০২৬ কি শেষ নাচ? মেসি-রোনালদো-নেইমারসহ যে ১০ মহাতারকার বিদায়ের শঙ্কা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!