ভিনিউজ ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপে যেন গোলের উৎসব চলছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ৪০ ম্যাচেই হয়েছে ১২১ গোল, যেখানে গোলশূন্য ড্র হয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচে। গড়ে প্রতি ম্যাচে তিনটির বেশি গোল হওয়ায় দর্শকরা পাচ্ছেন দারুণ উপভোগ্য ফুটবল।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের একই পর্যায়ের তুলনায় এবার গোলের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। ফলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলসমৃদ্ধ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোল বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, বিশ্বকাপের জন্য তৈরি নতুন ‘ট্রিয়োন্ডা’ বলের বিশেষ নকশা। গভীর সেলাই ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে বল দ্রুতগতিতে চলাচল করছে, যা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, জলপান বিরতি ও অতিরিক্ত সময় যোগ হওয়ার কারণে ম্যাচের কার্যকর সময় বেড়েছে। অধিকাংশ ম্যাচই ৯৬ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে এবং চোট বা অন্যান্য কারণে প্রায় সব ম্যাচই ১০০ মিনিটের কাছাকাছি সময় ধরে চলছে। ফলে গোল করার সুযোগও বাড়ছে।
তৃতীয়ত, এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ম্যাচও বেড়েছে, পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দলগুলো নিজেদের প্রমাণের তাগিদে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। এতে গোলের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এদিকে বিশ্বকাপে হওয়া মোট গোলের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলারদের পা থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল)। এখন পর্যন্ত ইপিএলে খেলা ফুটবলাররা করেছেন ২৮টি গোল।
সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ছয়টি গোলই এসেছে প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলারদের কাছ থেকে। ব্রাজিল ও আর্সেনালের তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতে, প্রিমিয়ার লিগের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হলেও বিশ্বকাপেও উচ্চমানের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলাররা।
সব মিলিয়ে নতুন বল, দীর্ঘ সময়ের ম্যাচ এবং দলসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিণত হয়েছে গোলের এক মহা উৎসবে।




