রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে সেই ২০১২ সালে সবশেষ জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। সময়ের পরিক্রমায় ভারতকে টাইগাররা হারালেও ১১ বছর ধরে এশিয়া কাপের মঞ্চে জয় যেন অধরাই ছিল। অবশেষে আজ কলম্বোতে সেই আক্ষেপ মোচন করল সাকিব আল হাসানের দল। প্রেমেদাসায় বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভমন গিলের শতকে জয়ের ভীত গড়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ দিকে টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৫৯ রানে গুটিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ফলে ৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরান অভিষিক্ত তানজিম হাসান সাকিব। শূন্য রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা দেন ভারতীয় অধিনায়ক। দ্বিতীয় উইকেটে অভিষেক হওয়া তিলক ভার্মাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তরুণ সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভারতের হয়ে দলের হাল ধরেন লোকেশ রাহুল ও শুভমন গিল। শুরুর ধাক্কা সামলে এই দুই জন মিলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন।

তবে গিল বেশ স্বচ্ছন্দ্যে ব্যাট করলেও রাহুলকে হাত খুলে খেলতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। ধীরগতির রাহুলকে দলীয় ৭৪ রানে ফিরিয়ে প্রতিরোধ গড়া এই জুটি ভাঙেন শেখ মেহেদি।

চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে আসা ইষান কিশান বেশিক্ষণ উইকেটে থিতু হতে পারেননি। নিজের নামের পাশে ৫ রান যোগ করতেই মেহেদি হাসান মিরাজের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সূর্যকুমার যাদব আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকেন।

তবে এই ডানহাতি ব্যাটারকে বোল্ড করে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলীয় ১৩৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ভারত। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রবীন্দ্র জাদেজাও।

তবে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে লড়াই করে নিজের শতক তুলে নেন ওপেনার শুভমন গিল। দলীয় ২০৯ রানে এই ডানহাতি ওপেনার ফিরে গেলে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। কিন্তু অক্ষর প্যাটেলের ক্যামিও ইনিংস শেষ পর্যন্ত আশা জাগিয়ে রাখলেও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৫৯ রানে থামে ভারত। ফলে ৬ রানের জয়ে ভারতকে হারিয়ে নিজেদের এশিয়া কাপ মিশন শেষ করে টাইগাররা।

এর আগে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা আজ ভালো হয়নি লাল-সবুজের দলের। ছয় ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দলীয় ৫৯ রানে আউট হন মেহেদী মিরাজও। এরপর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং তাওহীদ হৃদয়ের ১০১ রানের জুটিতে বিপর্যয় সামলে ওঠে বাংলাদেশ। তবে এ দুজনের বিদায়ের পর টাইগাররা ফের চাপে পড়লেও নাসুম আহমেদের ৪৪ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা।

সুপার ফোরে টানা দুই হারের পর ভারতের বিপক্ষে ৬ রানের জয় দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছরের আক্ষেপও মোচন করল সাকিব বাহিনী।

পূর্বের খবরময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৯ টি গ্রামকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা
পরবর্তি খবরশেরপুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরুস্কার বিতরণ