মতবিনিময়ে ফরিদা আখতার – বিএনপি-জামায়াতসহ সবার মতামত নিয়েই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল

মতবিনিময়ে ফরিদা আখতার –
বিএনপি-জামায়াতসহ সবার মতামত নিয়েই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল

ভিনিউজ ডেস্ক : বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগ-এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি হলেও বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই তা করা হয়েছিল। এ কারণে তারা কেউই এখন এই চুক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। চুক্তি অনুযায়ী চাইলে এটি বাতিল ও সংশোধন করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নয়াকৃষি আন্দোলন ও উবিনীগ আয়োজিত ‘হাওরে বোরো চাষে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সাবেক এই উপদেষ্টা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ফরিদা আখতার এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর বাস্তবায়নযোগ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সবার দাবি তোলা উচিত, এই চুক্তি নিয়ে যেন সংসদে আলোচনা করা হয়। দাবি করা উচিত, চুক্তিটি অবশ্যই সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সেখানে আলোচনা করে জনগণের সম্মতি নিয়ে যেন এটা করা হয়।

সাম্প্রতিক বন্যায় হাওরাঞ্চলে ফসল ও কৃষকের ক্ষতির কথা তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, প্রকৃতি ও জলবায়ুর ক্ষতির জন্য মানুষই দায়ী। হাওরের ক্ষতিও মানুষই করেছে।

সবুজ বিপ্লবের নামে নানা প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণের কারণে হাওরাঞ্চল ও ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সবুজ বিপ্লব যদি আসলেই এত ভালো হতো, তাহলে মানুষ এখনও কেন খাদ্য সংকটে পড়ে, দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে? নদনদী ও জলাশয়ে বাঁধ দিলে পানির সঙ্গে পলির বদলে বালু আসে। বাঁধ করতে হলে স্লুইসগেটসহ করতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, হাওরকে হাওরের মতো চলতে দিন। কেননা, হাওর ও সুন্দরবনে মানুষ যাবে বলে প্রকৃতি এগুলো সৃষ্টি করেনি। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে, তাই হাওর রক্ষার উপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিএডিসির গবেষণা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, সবাইকে খাদ্য নিরাপত্তা ও খাবার দিতে সরকারি পর্যায় থেকেই কাজ করতে হয়। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে আমরা কৃষিভূমি ও জলবায়ুর কতটা বিপর্যয় ডেকে আনি– সেটা বিবেচনায় আনি না। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয় করেই সব কাজ করতে হবে।

হাওরাঞ্চলের জন্য সরকারের কৃষিনীতি বদলে সেখানকার উপযোগী কৃষিনীতি প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়ে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, মানুষের লোভ ও মুনাফার প্রবৃত্তি এবং রাজনৈতিক কারণে হাওরে বিপর্যয় নেমে আসছে। এই বিপর্যয় থেকে হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষায় ওই অঞ্চলের মানুষের মতামত নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে। যেই ধান হাওরের ভাষা বোঝে, পানি বোঝে, সেই ধান আবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে কোনো অবস্থায়ই সবুজ বিপ্লবের মতো প্রকল্পের দরকার নেই।

বক্তারা আরও বলেন, হাওরের বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের উন্নয়ন নীতি ও প্রকল্প পর্যালোচনা করতে হবে। রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ-কালভার্ট কার উপকার করছে, আর কার ক্ষতি করছে তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসা কৃষক সংগঠন ও কৃষক প্রতিনিধি মানিকগঞ্জের দেলোয়ার জাহান, ঢাকার সাইদ নাবিল আঞ্জুম হাসান, সুনামগঞ্জের জয়মণি দাস ও হাবিবুর রহমান, নেত্রকোনার জাকির হোসেন ও আবদুর রব, কিশোরগঞ্জের অধীর চন্দ্র দাস ও মোবারক হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াসমিন জাহান প্রমুখ।

– সমকাল

পূর্বের খবরবলিউড : দুবাইয়ে প্রেম, গোয়ায় বিয়ে! চার বছরের দাম্পত্যজীবন, এর মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলেন মৌনী?