প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা

 

ড. মিল্টন বিশ্বাস

১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডানপন্থী তথা পাকিস্তানবাদী মতাদর্শের বিপরীতে যিনি অনবরত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে জয়গৌরব সূচিত করেছেন, যিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান সময়ের মহিমান্বিত রাষ্ট্রনায়ক তিনি আমাদের অতিপ্রিয় নেত্রী দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ডানপন্থী তথা মৌলবাদী রাজনীতির মূলে কুঠারাঘাত করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্ভব করেছিলেন তেমনি শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক আদর্শ গড়ে তোলেন নি। ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ পরিবর্তিত হয়ে(আওয়ামী লীগ) ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনে পরিণত হয়েছিল; তেমনি শেখ হাসিনা কেবল এই সংগঠনের রাজনীতিতে ননÑ ব্যক্তিজীবনে ধর্মাচার রক্ষা করেও নেতৃত্বে প্রগতিশীলতার সোনালি স্বাক্ষর মুদ্রিত করেছেন। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে ১৯৭২ সালে আমরা যে সংবিধানটি পেয়েছিলাম তাতে ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি-জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে মিলেছিল এবং তখন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব স্বাভাবিকভাবেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশের ইতিহাস উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেন মেজর জিয়া। তাঁর শাসনকালেই ধর্মভিত্তিক দলের রাজনীতি পুনরায় শুরু হয় এবং ধর্মীয় জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করে। তবে ১৯৭৫ পরবর্তী যারা সংবিধানকে কলুষিত করেছিল তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছেন শেখ হাসিনা; ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে গেছেন ক্ষমতায় আসীন হয়ে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধও করেছেন। ক্যান্টনমেন্ট থেকে অশুভ রাজনীতির নেত্রী খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বের করে দিয়েছেন।
প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রগতিশীল ধারায় তিনি ব্যতিক্রম। তিনি নিজে ধার্মিক কিন্তু অন্যের ধর্মীয় চেতনাকে সম্মান করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শেখা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার এই চিন্তাধারা সম্প্রীতির মূল মন্ত্র। বিরোধী দলীয় নেতা কিংবা সরকার প্রধান হিসেবে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিয়েছেন; যা অন্য ধর্মের মানুষকে মানসিক প্রশান্তি এনে দিয়েছে। প্রগতির অনন্য দৃষ্টান্ত হলোÑ সকল জেলা ও উপজেলায় ১টি করে মডেল মসজিদ ও মন্দির নির্মাণ করা। উল্লেখ্য, বিগত বছরের সকল রেকর্ড ভেঙে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকার সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। সেই তুলনায় বিএনপি মাত্র ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ১৯৭০ থেকে ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যালঘু প্রার্থী বিভিন্ন নির্বাচনে ৮-১৮টি জেলায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের ৩৭টি জেলায় ৬৩টি আসনে প্রার্থী হন। প্রাচীন কাল থেকে ভারতবর্ষ বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অন্যতম পুণ্যভূমি। বাংলাদেশে সেই চেতনা লালন করে বলেই ২০১১ সালে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’ বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকারের বিষয়ে ন্যায্যতা আসে। ২০১৮ সালে কোটা বাতিল হলেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের কোটা বহাল রেখে মানবতাবাদী চেতনার পরিচয় দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আসলে শেখ হাসিনা ‘আদর্শবাদী ও আত্মত্যাগী রাজনৈতিক নেতা’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি। বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন; সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছেন; তাঁর সেই আদর্শিক ধারায় ¯œাত হয়ে শেখ হাসিনা মেধা ও দূরদর্শিতাসম্পন্ন রাজনীতিক হিসেবে জনগণের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। জননেত্রীর নেতৃত্বে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতি অসামান্য।
২.
আমরা জানি, রাজনীতিতে সাফল্য নির্ভর করে শক্তিশালী নেতৃত্বের ওপর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞার্থ অনুসারে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নেতা ও অনুসারীগণ কর্তৃক স্বাধীনভাবে অথবা সমঝোতাপূর্ণভাবে স্থিরকৃত কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও মূল্যবোধ, বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অন্যান্য সম্পদরাজি ব্যক্তির দ্বারা সহজলভ্য করার পরস্পর বিনিময়কৃত প্রক্রিয়াই হলো নেতৃত্ব। এই সংজ্ঞায় রাজনীতি ও উন্নয়নের ধারণা বিজড়িত। জনগণের মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজনসমূহ একটি ভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর চাহিদা ও প্রয়োজনে রূপান্তরিত করা নেতৃত্বের মৌল লক্ষণ।
জনগণের কাছে নেতৃত্বের একটি ভিন্নতর আবেদন থাকে যা কোনো ব্যক্তির গুণাবলির প্রতি জনগণের মধ্যে আকর্ষণ ও সক্রিয়তা সৃষ্টি করে। তিনি নির্দিষ্ট গুণাবলির দ্বারা সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা। তাঁর রয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যতিক্রমী ক্ষমতা যা সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে অনুপস্থিত। এজন্য তিনি নেতা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। শেখ হাসিনা প্রকৃতপক্ষে আলাদা, ভিন্ন, স্বতন্ত্র ও নেতৃত্বের গৌরবজনক আসনে সমাসীন। তিনি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করেছেন; সংকট উত্তরণে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জনতার আকাক্সক্ষাসমূহ এবং টিকে থাকার বাস্তবতার মধ্যে সেতু বন্ধনের সাহায্যে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর নেতৃত্বের সাফল্যে বাংলাদেশ আজ গৌরবজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ১৯৭৪ সালে মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাস্তবতায় ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ ধরনের মন্তব্য করেই ক্ষান্ত হননি তিনি বিভিন্ন দেশে ও সংস্থাকে পরামর্শ দেন বাংলাদেশকে কোনো প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা না করার। তাদের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ আজ বিশেষ অবস্থানে পৌঁছেছে। একারণে শেখ হাসিনার শাসনামলেই কিসিঞ্জারের পরবর্তী নেতৃবর্গ ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট একজন বাংলাদেশকে বলেছেন বিশ্বের মডেল এবং কেউ-বা ‘এশিয়ার টাইগার’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁরা এ ধরনের মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের নানামুখী সাফল্য ও উন্নয়নের জন্য। আজকে বাংলাদেশ যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে এটা বর্তমান মার্কিন কর্তা ব্যক্তিদের পূর্ব-পুুরুষরা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেননি। কেবল প্রগতিশীল নেতৃত্বের গুণে বাংলাদেশ এশিয়ার একটি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে; কোনো কোনো দিক থেকে কখনও কখনও বিশ্বেরও মডেল আমার স্বদেশ। এই একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনার আকাশ রূপালি আলোতে ¯œাত হয়েছে। এদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম রফতানিকারক দেশÑ বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, হিমায়িত মাছ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার টাইগার। কৃষি এবং শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটবে। অন্যদিকে অনেকেই ‘নাম্বার ওয়ান উন্নয়নমুখী দেশ’ বলেছেন এ দেশটিকে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে জনগণের প্রতি শেখ হাসিনার অঙ্গীকারদীপ্ত নেতৃত্বের জন্য।
৩.
আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের এই ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে মনে পড়ছে ২০১৪-এর ১৯ সেপ্টেম্বর প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকার বক্তব্যসমূহ। সেসময় বলা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশের সব ক্ষমতা এখন শেখ হাসিনার হাতে। বিরোধী দল রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছে। সবই এখন সরকারের হাতের মুঠোয়। অন্তহীন লড়াইয়ে জিতে চলেছেন এক নারী।’ অসাধারণ বাক্য ছিল এটি। যদিও এই ম্যাগাজিনটি তার কয়েক বছর আগে একাধিক সংখ্যায় শেখ হাসিনা সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন ছাপিয়েছিল। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর বিচার ইস্যুতে কিংবা র‌্যাবের প্রসঙ্গে তাদের ভূমিকা ছিল ন্যক্কারজনক; কিংবা পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টালবাহানার সময় মহাজোট সরকারকে নির্মমভাবে আক্রমণ করেছিল। সেই সাময়িকী আজ শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ- এর চেয়ে সুখের খবর আর কী আছে আমাদের কাছে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ প্রকাশিত ‘পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ: ওয়ান অ্যান্ড অনলি ওয়ান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসন ন্যায়সঙ্গত। সেটার কারণ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের সফলতা। ২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমে এসেছে। সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপ অনুসারে নির্বাচনের আগের তুলনায় সরকার এখন আরো বেশি জনপ্রিয়। বিদেশি সরকারগুলো এখন শেখ হাসিনার সঙ্গেই ব্যবসা করতে ইচ্ছুক। ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া তার প্রধান উদাহরণ। ওই বিদেশি পত্রিকার সূত্র ধরে আরো বলা যায়, এদেশবাসী জানেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুঃস্থ ভাতা, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ও অসহায়দের জন্য ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, ভর্তুকি মূল্যে খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি, ভিজিডি, ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। গ্রামীণ জীবনের ব্যাপক রূপান্তরে শেখ হাসিনার অবদান অতুলনীয়। তাঁর নেতৃত্বেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের তথ্য ও সেবাকেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব তথ্য কেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বিভিন্ন সরকারি ফরম, নোটিশ, পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন সেবা বিষয়ক তথ্য, চাকরির খবর, নাগরিকত্ব সনদপত্র, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, বিদেশে চাকুরি প্রাপ্তির লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশনসহ ২২০টি সেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উপরন্তু মোবাইল ব্যাংকিং, জীবন বীমা, মাটি পরীক্ষা ও সারের সুপারিশ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং জমির পর্চাসহ অন্যান্য সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা টেলিমেডিসিন সিস্টেমসহ চলছে। মোবাইল টেলিফোন সিমের সংখ্যা ১৫ কোটিতে উন্নীত হয়েছে আর ফোর-জি প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ব্যাপকভাবে। মোবাইল ফোনেই ভিডিও-কল করা যাচ্ছে এখন; টিভি দেখা হচ্ছে; ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে। ফলে টেলি-কনফারেন্স এখন সহজ ব্যাপার। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ এবং ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার একটি অনন্য অগ্রগতি। এভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠায় এদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এজন্যই চীন-জাপান-ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানসহ বিশ্বের সকল নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন নিঃশঙ্কচিত্তে। তবে তিনি জাতিসংঘের একাধিক সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে অস্ত্রের বদলে শিক্ষা খাতে আরো ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রগতির পথেই হেঁটেছেন। কারণ প্রকৃত শিক্ষা আমাদের মুক্তি অর্জনের সোপান।
৪.
প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ‘অসাম্প্রদায়িক’ চেতনা গভীরভাবে বিজড়িত; একইসঙ্গে ‘মানবতাবাদ’ও। ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘সহে না মানবতার অবমাননা’ গ্রন্থটি শেখ হাসিনার মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দলিল। তিনি এই গ্রন্থে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতা দখল থেকে শুরু করে হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ওপর বীভৎস হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাটের অনুপুঙ্খ তথ্য সংকলন করেছেন। নির্মম ও বর্বর তা-বের সেই বিবরণ দিতে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলো বিস্তৃত পরিসরে উপস্থাপন করেছেন। উপরন্তু হিন্দুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের কথা লিখে তাদের নিরাপত্তার জন্য তৎকালীন সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ হচ্ছে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। এজন্য প্রতিটি নির্বাচনের আগে দলের ইশতেহারে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর প্রতি ‘বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চির অবসানে’র প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ২৮ ডিসেম্বর(২০১৩) দশম সংসদের নির্বাচনী ইশতেহারে(২০১৪) কিংবা ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে। ইশতেহারে স্পষ্টত লিপিবদ্ধ আছে- ‘নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, তাদের কাজের ও চলাফেরার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে গিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, উপাসনালয় ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার করা হবে। সকল নাগরিকের স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম, বর্ণ, নৃ-পরিচয়, লিঙ্গ এবং সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে, রাষ্ট্রের চোখে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।’ যে কোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করার কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এ ভূখ-ে সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ়। শেখ হাসিনার সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনার পর পরই দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকা- সরকার বরদাশত করবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে বার্তা প্রদান করেন।
আমরা জানি এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ধর্মের কথা বলেই জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল। অপপ্রচার করা হয়েছিল অতীতের জাতীয় নির্বাচনেও। ‘নৌকায় ভোট দিলে দেশে ধর্ম থাকবে না, ইসলাম থাকবে না, মাথায় টুপি থাকবে না, মসজিদে আজানের পরিবর্তে উলুধ্বনি বাজবে’। সন্তানের নাম ‘রহিম-করিম’ রাখতে পারবেন না, ‘রাম-শ্যাম যদু-মধু’ রাখতে হবে। বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বিসমিল্লাহ থাকবে না।’ জনৈক বিএনপির প্রার্থী নাস্তিক নয় আস্তিককে ভোট দিতে বলেছে। চরমোনাই পীরের সমর্থকরা হেফাজতকে নিয়ে শেষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়েছিল। ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে নিরন্তর।
তবে একথা স্বীকার করতেই হবে যে আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন যারা দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। সুস্থ ধারার রাজনীতির ধারক বাহক বলেই সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের নিরলস প্রয়াস রয়েছে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার।
৫.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তার এবং ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসদমনে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অনন্যরূপে চিহ্নিত। আইন, বিচার ও নিবিড় নজরদারির জন্য বাংলাদেশে জঙ্গিরা সুবিধা করতে পারছে না। জঙ্গিবাদ ও নাশকতা নির্মূলে বর্তমান সরকার গত সাড়ে ১০ বছরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে। অথচ আমাদের সকলের মনে আছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে। শেখ হাসিনার ওপর সেই ভয়ঙ্কর হামলার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার আগেই শোকাবহ আগস্টেই ২০০৫ সালে ঘটে দেশব্যাপী বোমা হামলার ঘটনা। এদেশে এখন আগস্ট পরিণত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য উল্লাসের মাস। আর সাধারণ মানুষের কাছে এই মাস শোক ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের প্রতিজ্ঞার দিন। এজন্য যে কোনো জনসভা এবং বৈঠকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নির্মম সত্য কথা উচ্চারণ করে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের উত্থান বিএনপি-জামায়াতের কারণে।’ বিশ্বনেতৃবৃন্দ একই কথা একটু অন্যভাবে বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়েছে এবং বাংলাদেশের আপামর মানুষ এখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আবহমান বাংলা সবসময়ই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ছিল। এ সেদিন পর্যন্ত অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকা-ের আগেও এদেশে জঙ্গিবাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শাসন-কালোত্তর টানা ২১ বছর সামরিক শাসকদের মদদে দেশের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদের জন্ম হয়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার ক্ষমতায় এলে পটভূমি পাল্টে যায়। মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথা তুলে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গিরা তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসীন হলে জঙ্গিরা গা-ঢাকা দেয়। আত্মগোপনে থাকা এসব জঙ্গি ও জঙ্গি সংগঠন বর্তমান সরকারের সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আবারও মাথা তোলার চেষ্টা করছে। আর সংগঠনগুলোর সবই একই নেটওয়ার্কে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার কার্যক্রম অনুসরণ করে নাশকতার বিস্তৃত কর্মকা-ে লিপ্ত হয়েছে।
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসীন হয়ে প্রথম পাঁচ বছরে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর দিকে অগ্রসর হয়। সে সময় সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং বামপন্থী সর্বহারাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির দেশে অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অন্যদিকে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাব ঘটলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু জঙ্গি সংগঠন। এদের সকলের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো। ফলে মহাজোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, তাদের কারণে খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সরকারকে অসংখ্যক সন্ত্রাসী কর্মকা- মোকাবেলা করতে হয়েছে। জঙ্গিবাদী দলের নাশকতা ব্যর্থ করেছে পুলিশ-র‌্যাবের যৌথবাহিনী। গ্রেফতার করা হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জঙ্গিকে যারা আবার হুজি, ইসলামী ছাত্র শিবির, জেএমবি, হিযবুত তাহেরি ও হিযবুত তাওহিদের সদস্য। অতীতে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ইসলামী নেতাদের মুক্ত করার জন্য দেশব্যাপী যে নাশকতার সৃষ্টি করা হয় সে পরিস্থিতিতে আরও বেশ কিছু শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় পুলিশ। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো কখনও কখনও সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করার চেষ্টা করলে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেফতার করেছে একাধিক জনকে। এদের মধ্যে কেবল হিযবুত তাওহিদ নয়, জেএমবি’র নেতারাও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ১৪ নভেম্বর ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন যে, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে। যত বাধা ও হামলা আসবে তত দ্রুত নিষ্পন্ন হতে থাকবে মামলা এবং একে একে রায় ঘোষিত হবে। সে বছরই ২৫ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। ২০১২ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হলে বিএনপি দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধের ডাক দেয়।
মূলত শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত জঙ্গিদের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে। তারা যাতে সংগঠিত হতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। একইসঙ্গে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এদেশের।
৬.
বাঙালি সংস্কৃতির জাগরণ ও ধারণ এবং লালন করেছেন শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও হাজার বছরের চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধারক-বাহক তিনি। গভীর মমতায় লালন করেছেন আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের সকল দৃষ্টান্ত। ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বলেছেন- ‘আমার একমাত্র দায়িত্ব পিতার অধরা স্বপ্ন সফল করা।’ শেখ হাসিনা বলে থাকেন, ‘জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমার রাজনীতি।’ শিশুদের মধ্যে ভবিষ্যৎ দেখতে ভালোবাসেন, ‘শিশুরা আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করে তাদের ভবিষ্যতকে আনন্দ, উজ্জ্বল, স্বস্তি ও শান্তিময় করে তুলতে হবে।’ শেখ হাসিনা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন ও সংগ্রাম, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সাহসী যোদ্ধা, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার প্রবক্তা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শীতার কারণে তাঁকে বিশেষভাবে শান্তি পুরস্কার ও সম্মানীয় ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনেকগুলো পদক তাঁর প্রগতিশীল রাজনৈতিক ভূমিকার স্মারক।
যে কোনো সংকট মুহূর্তে কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯৮২ থেকে আজ পর্যন্ত অনেকগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তিনি প্রচ- দৃঢ়তার সঙ্গে নিয়েছেন। প্রতিকূল পরিবেশ, সহকর্মীদের শত বাধা এবং সুশীল সমাজ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চিন্তা-চেতনা সম্পূর্ণরূপে তাঁর বিপক্ষে থাকার পরও তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবং পরবর্তীতে আবার সংসদ থেকে বের হয়ে আসা একটি বিশাল ব্যাপার ছিল। ১৯৯১ সালের পর বিএনপিবিরোধী আন্দোলনে সফলতা, ১৯৯৬ সালের সরকার প্রধান হিসেবে সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তেমনি ১/১১’র প্রেক্ষাপটে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনন্যসাধারণ। সব শেষে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি তিনি করেছিলেন দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে- বিরোধী পক্ষসহ তাবৎ দুনিয়ার ক্ষমতাবান রাষ্ট্রশক্তির হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে কেবলমাত্র নিজের দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে। এজন্য তাঁর উপলব্ধি তাৎপর্যবহ-‘বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করে উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের ভালোবাসার প্রতিদান আমাকে দিতেই হবে। জনগণের জন্য একটা সুন্দর, উন্নত জীবন উপহার দেব, এই আমার প্রতিজ্ঞা।’(সবুজ মাঠ পেরিয়ে, সবুজ মাঠ পেরিয়ে) ‘জনগণের জন্য একটা সুন্দর, উন্নত জীবন উপহার দেব’- এই প্রত্যয় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং জনগণের চেতনা বিস্তারে তিনি কাজ করে চলেছেন সাংস্কৃতিক জগত বিনির্মাণে।
বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ^বাসীর কাছে আজ ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু এদেশ এখন ভাষা ও সাহিত্যের দিক থেকে বিশ^ব্যাপী মর্যাদার আসন অলঙ্কৃত করেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যেমন স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ^সভ্যতার অমূল্য সম্পদ হিসেবে, তেমনি বাঙালি সংস্কৃতির অনেক উপকরণ আজ পৃথিবীর মানুষের কাছে বিস্ময় নিয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে। কেবল বিশ^ঐতিহ্য হিসেবে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ কিংবা ‘জামদানি’, ‘বাউল সংগীত’, ‘শীতল পাটি’ নয় এদেশের ইলিশ মাছও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অসামান্য নেতৃত্বের গুণে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনামলে শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় অমর একুশ বিশ^ব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ রূপে উদযাপন সূচনা হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাঙালির যা কিছু মহৎ সৃষ্টি তাকে বিশ^সভায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তাঁর গঠিত সরকারই। আর সাংস্কৃতিক জাগরণের ঢেউ দেশের রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার কৃতিত্বও শেখ হাসিনার। গত ১০ বছরে তিনি গণভবনে একাধিকবার শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নববর্ষে বৈশাখি অপরাহ্ণে। শেখ হাসিনা সরকার ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা চালু করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৬ সাল থেকেই তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এই ভাতা পাচ্ছেন। এই ভাতা প্রবর্তনের পুরো কৃতিত্ব এককভাবে শেখ হাসিনার। তিনি বাঙালি জাতিসত্তার চেতনাকে জাগ্রত করার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবার কোনো শিল্পী-সাহিত্যিক অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন; কারো অকাল প্রয়াণ হলে শোকবার্তা প্রেরিত হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জাগরণের এসব কথা তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গেই বিজড়িত। প্রগতিশীল রাজনীতি কি এসব কর্মকা-ে উজ্জ্বল নয়?
৭.
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ দেশ ২০৫০ সালে বিশ্বের অন্যতম ১০টি ক্ষমতাধর দেশের একটিতে পরিণত হবে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করে এদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আসলেই লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এবং ভাষার জন্য প্রাণ দেয়ার ইতিহাসই আমাদের গৌরবান্বিত করেছে। আমরা এদেশ নিয়ে গর্ব করতেই পারি। আর এ গৌরব অর্জনে যে দলটির সবচেয়ে বেশি অবদান সেটি হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। সকলে এক কথায় স্বীকার করবেন যে আওয়ামী লীগ একটি সংগ্রামী রাজনৈতিক সংগঠন। এই দলের অভ্যুদয়ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দলের নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে সকল দল নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারা প্রমাণ করেছে যে দলটি জনগণের মঙ্গল চিন্তা করে। কারণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধান অনুসরণ করে কর্মকা- পরিচালনা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে দলীয় আদর্শের চেয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আওয়ামী লীগ তার উদ্দেশ্য ও আদর্শের বাস্তবায়নে যেমন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এগিয়ে চলেছে তেমনি জনগণের সংকট মুক্তির লক্ষে কাজ করছে। কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয় আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জন বিপুল। কারণ এ দলটি জনগণের সংগঠন। বাংলাদেশ ভূখ-ের বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের অন্যতম এ দল। আওয়ামী লীগ দেশপ্রেমিক সংগ্রামী, প্রতিবাদী, নির্ভীক ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবমান। উদার জাতীয়তাবাদের আদর্শের কারণে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক, সাধারণ মানুষের জীবন-মান উন্নয়নের জন্য প্রণীত অর্থনীতিতে বিশ্বাসী সংগঠন। মনে রাখতে হবে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে নিপীড়ক শাসক-বিরোধী গণ-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনাই। নব্বই দশকে গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হলে তাতে শেখ হাসিনা পরিণত হন এদেশের রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্রে। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভারত-পাকিস্তান তীব্র উত্তেজনা প্রশমনে দেশ দুটি সফর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। গণতন্ত্র ও শান্তির জন্য শেখ হাসিনা বিশ্বখ্যাত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ডক্টরেট ডিগ্রিসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৭ সালে ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে তিনি বিশ্বের কাছে আজ মানবতাবাদের দিশারি তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কাছে দেশ-বিদেশের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা তুচ্ছ।
শেখ হাসিনা তাঁর নিজের লেখায় ও কাজে প্রমাণ করেছেন যে, রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন। এজন্য তাঁর সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের বিবরণ ব্যাপক। মহাজোট সরকারের আমলে সমুদ্র সীমানাসংক্রান্ত মামলায় মিয়ানমার ও ভারতের কাছে জয়ী হওয়ায় বিশাল সমুদ্র অঞ্চল প্রাপ্তি; জোট সরকারের চেয়ে মহাজোট সরকারের আমলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়া, খিলগাঁও ফ্লাইওভার ও কুড়িল উড়াল সড়ক তৈরি হওয়া, সেনাবাহিনীর জন্য মেকানাইজ্ড ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন গঠন করা, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়া সবই হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের সদিচ্ছায়। মূলত মিডিয়ায় প্রচারিত তথ্যাদি, সরকারের সাফল্য, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন দিবালোকের মতো সত্য। বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের একে একে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা শতগুণে বৃদ্ধি পায়। যারা একসময় ভাবতে শুরু
করেছিল এই দলটি ব্যর্থ, কোনোকিছু গুছাতে পারছে না তারা এখন বলতে শুরু করেছে সাহসী দল হিসেবে এবং নির্ভীক নেতা রূপে শেখ হাসিনাই এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম। আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশকে বিশ্বসভার মধ্যমণিতে আসীন করার জন্য। সফল বাংলাদেশ দেখতে হলে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার মহিমাকেই সবার উপরে স্থান দিতে হবে।
এ কথা সত্য শেখ হাসিনাই দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা করেছেন। রাজনৈতিক গণতন্ত্রে সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক অনিবার্য। আর এসবই চর্চিত হচ্ছে তাঁর সরকারকে কেন্দ্র করে। গণমাধ্যম স্বাধীনতা ভোগ করছে বলেই সরকারের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি সঙ্গে সঙ্গে জনগণের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে।
৮.
দেশের দুটি ধারার রাজনৈতিক বলয়ের একটির লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা; দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার অপসারণ করা। অন্যদিকে আরেকটি শক্তির অভিলাষ, যে কোনো মূল্যে ১৫ কিংবা ২১ আগস্টের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়া। অথচ আমরা জানি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মান বেড়েছে, বেড়েছে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় থাকার গণতান্ত্রিক অধিকার ও মর্যাদা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাহসী নারী। তিনি রূপকল্প-২০৪১-এর ভিত্তিতে একটি উন্নত, সুশিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের সোপান রচনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, কূটনীতিক দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সব বিরূপ বিশ্বের পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে এসেছেন। তাঁর মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন মেধাবী, অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিকরা। নিজের সরকারের উন্নয়নের মডেল অন্যান্য দেশের কাছে উপস্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে শেখ হাসিনা এক আশ্চর্য সাহসী রাজনীতিকের নাম; যাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের বাংলাদেশ প্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। তাছাড়া শেখ হাসিনাবিহীন যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এজন্য তরুণ প্রজন্ম প্রত্যাখ্যান করেছিল ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে। আবার নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বীভৎস চিত্র গণমানুষকে আতঙ্কিত করে তোলায় তারা আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে আমরা দেখতে পাব।
শেখ হাসিনা পিতার মতোই অসীম সাহসী, দৃঢ়তায় অবিচল, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন একজন আদর্শবাদী নেতা। দেশের যে কোনো সংকটে তাঁর নেতৃত্ব দলমত নির্বিশেষ সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য। সেখানে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। বাঙালি এক নারী পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়ে দুঃসহ স্মৃতির রক্তক্ষরণকে জয় করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন; লড়াই করছেন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই নয়, সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেইÑ তাঁর সেই সংগ্রাম প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম দিক। বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে তিনি জনগণের কাছে আজ নন্দিত।
২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। ‘সেপ্টেম্বর’ বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে তিনি না জন্মালে আমরা থাকতাম অন্ধকার ও কুসংস্কারে আবদ্ধ; সুশাসন পেতাম না। তাঁর জন্ম মাস এজন্য আমাদের কাছে কল্যাণকর ও মঙ্গলময়; আলোক দ্যুতিতে ভাস্বর হোক তাঁর সকল কর্মকা-।

লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়