প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশ থাকলে বিশ্ব আমাদের অনুসরণ করবেই- মোস্তফা জব্বার

 

সচিবালয় প্রতিবেদক

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার কাছে থাকলে বিশ্ব আমাদের অনুসরণ করবেই। আমরা বিশ্বের যে দেশেই যাই সেদেশের মানুষ আমাদের এখন অনেক সমিহ করে কথা বলে এবং শ্রদ্ধা করে। এতো দ্রুততম সময়ে কোন দেশ এগিয়ে ইতিহাস একমাত্র বাংলাদেশের। আর এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের আগের স্বৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন অনেক মুরুব্বিজন আমাদের বলেছিল, তোমরা যে পাকিস্থানকে ভাঙ্গছো পরে দেখবা পাকিস্তানের সঙ্গে পারবাও না আর পারোও যদি তাহলে পাকিস্তানের সমান একটা দেশ তৈরি করতে পারবা না। কিন্তু আজ যা হয়েছে তা পাকিস্তান যাচ্ছে উল্টো দিকে আমরা চলছি সামনের দিকে।

শেখ হাসিনার জন্মদিন  প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এই মাসের ২৮ তারিখে ইচ্ছে করলেও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারি না। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। তিনি শুধ আমার প্রধানমনন্ত্রী সহকর্মী নন। খুব গর্বের সাথে বলি আমরা দু’জন এক সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছি।

মোস্তফা জব্বার বলেন, শেখ হাসিনা যে জীবন-যাপন করতেন সেখানে তিনি অতি সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে মিছিল-মিটিং থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের সব কর্মকাণ্ডে তিনি উপস্থিত থাকতেন। একজন সদস্য বিবাহিত মহিলা তার ছাত্র জীবন ও সংসার জীবন একসাথে করে কেমন করে যে সমন্বয় করে চলছেন, সেটি স্মৃতি জারণ করতে গেলে আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়।

জব্বার বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। এর ভিত্তিটা কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্থাপন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়াতে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশ যে লাঙ্গল-জোয়ালের দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলার মতো একটা পরিস্থিতিতে যাবে সেই সূচনাটা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই হয়েছে।

মোস্তফা জব্বার আরও বলেন, সকল পর্যায়ের বৈষম্য দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যেই বাংলাদেশে ১ শতাংশও শিক্ষার হার ছিল না মেয়েদের, সেখানে এখন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শুধুমাত্র ৫৩ শতাংশ ছাত্রী।

‘পৃথিবীর বহু দেশে আমরা যেখানে যাই সেখানে তারা জিজ্ঞেস করে আমাদের একটু শিখাইয়া দাও কেমন করে সামনে যেতে হয়। এই সামগ্রিক রূপান্তরটা এর পুরোটাই হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’

‘শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ যদি থাকে তবে বাংলাদেশকে অন্যদের অনুসরণ করতে হবে। এর বিকল্প আমি অন্তত চোখে দেখি না।’ যোগ করেন জব্বার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সমাজকল্যান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।