পার পেয়ে যাচ্ছে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা

সারা দেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরোধিতাকারী নেতাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এসংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হবে। প্রায় ২০০ নেতাকে দেওয়া হচ্ছে এ চিঠি। তবে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করেও পার পেয়ে যাচ্ছে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখনো সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের কোনো তালিকা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই উপজেলায় নৌকার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা আগেই নেওয়া হতো; কিন্তু গুজব, ডেঙ্গু, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শোকের মাস আগস্টের কারণে তা পিছিয়ে যায়। উপজেলায় নৌকার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নেত্রী (শেখ হাসিনা) সিরিয়াস।’

একই ধরনের তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় নৌকার বিরোধিতাকারীদের এ সপ্তাহেই চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। শোকের মাস আগস্টের কারণে গত মাসে চিঠি দেওয়া হয়নি।’

উপজেলায় নৌকার বিরোধিতাকারী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের কোনো তালিকা করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তালিকা আমরা করিনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘উপজেলায় বিদ্রোহী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ। অভিযুক্তদের তালিকা তাদের কাছেই আছে। সে তালিকায় যুবলীগের কেউ আছে কি না, তা আমাদের জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আমরা নিজেরাও কোনো তালিকা করিনি। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যদি কোনো তালিকা দেওয়া হয় তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারী নেতাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগেই ৮ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা নৌকার বিরোধিতাকারী প্রায় ২০০ নেতার একটি তালিকা তৈরি করেন। সারা দেশে থেকে আসা অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ওই তালিকা করা হয়। তালিকায় স্থান পাওয়া বেশির ভাগ নেতাই উপজেলায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেওয়া এবং তাঁদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ প্রমাণ করা বেশ জটিল হওয়ায় অনেককেই তালিকাভুক্ত করা যায়নি। তবে যাঁরা প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, ভোট চেয়েছেন এমন বেশ কয়েকজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।