কাশ্মীর ইস্যুতে নাক গলাবে না জাতিসংঘ-আমেরিকা

ভারতের কাশ্মীরে চলমান সংকট সমাধানে নাক না গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জাতিসংঘ। কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান জোয়ানা রনেকা। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের ইস্যুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসকে চিঠি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। সেই চিঠিতে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোয়ানা বলেন, ‘নো কমেন্টস।’একই সঙ্গে তাদের কাশ্মীর-নীতি বদলয়ানি বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

জানা গেছে, কাশ্মীরের মতো দ্বিপাক্ষিক বিতর্কিত বিষয় এভাবেই এড়িয়ে যেতে চেয়েছে জাতিসংঘ। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর পরই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন তারা। পাক বিদেশমন্ত্রীও তড়িঘড়ি গুতেরেসকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেন। যার সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়েছিলেন মহাসচিবও। তবে গুতেরেস জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দুই দেশকে সংযত থাকতেও বলেন তিনি।

মহাসচিবের মতোই গতকাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান। এর বদলে গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক একটি বিবৃতিতে শিমলা চুক্তির উল্লেখ করে বলেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের সমস্যা চুক্তি মোতাবেক দুই দেশকেই শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধান করতে হবে।’ অর্থাৎ পাক সরকারকে কার্যত ঘুরিয়ে তাঁরা এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই মুহূর্তে কোনোভাবেই বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নাক গলাবে না।

পাশাপাশি ভারত সরকার পাশে পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনকেও। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ পরবর্তী পরিস্থিতিতে কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার নীতি বদলাচ্ছে কি না মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগাসের কাছে আজ তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। যার উত্তরে ‘না’ বলেছেন মর্গান। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে মনে করে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মর্গানের কথায়, ‘কাশ্মীর নিয়ে আমাদের নীতি পরিবর্তিত হয়নি। তা হলে সেটা এ ভাবে আপনাদের আমি বলতামও না।’