চট্টগ্রাম বন্দর: জালিয়াতি করে পাচারের সময় ৭ কন্টেইনার পণ্য আটক

আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র জালিয়াতি করে পণ্যভর্তি দুটি ট্রাক বন্দর থেকে ছাড় নিয়ে গেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদিব ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড। একই চালানের বাকি ৬ কন্টেইনার পণ্য পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তার হাতে। গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-১ গেইটে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। চালান ধরা পড়ার পর পরই আদিব ইন্টারন্যাশনালের জেটি সরকার বন্দর এলাকা থেকে পালিয়েছে।

কাস্টমস বলছে, ৭ কন্টেইনারে কমপক্ষে সোয়া কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছিল আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। গত সোমবার রাতে পাচার হয়ে যাওয়া দুই ট্রাক পণ্য এখনো আটক করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস। ঘটনার পর থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক দুইজনই ফোন বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার (জেটি) সাধন কুমার কুন্ডু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার রাতেই আমরা বন্দর থানাকে অবহিত করে বন্দর থেকে বের হয়ে যাওয়া দুটি ট্রাকের নাম ও নম্বর দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি। তবে বন্দরের ভেতরে থাকা বাকি কন্টেইনারগুলো আমরা জব্দ করেছি। এগুলো কায়িক পরীক্ষার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা সোমবার বিকালেই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিরাপত্তা বিভাগের সার্জেন্ট হাসানুজ্জামানের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন তারা।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিভাগের সেই কর্মকর্তা সার্জেন্ট হাসানুজ্জামানকে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের সকল কর্মকর্তাকে ফোন দিলে সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি সবকিছু কাগজপত্র জালিয়াতি করে সব পণ্য খালাসের চেষ্টা হয়েছিল। নিরাপত্তা বিভাগের সাহসিকতায় চালানটি ধরা পড়েছে। এরইমধ্যে দুই ট্রাক পণ্য বের হয়ে গেছে; সেগুলো থানায় অভিযোগ দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বাকি ছয় কন্টেইনার পণ্য বন্দরের ভেতরে আছে।’

অভিযোগ পাওয়া গেছে, জালিয়াতির সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদিব ইন্টারন্যাশনাল ও আমদানিকারক ডাবল এ ট্রেড কমিউনিকেশন একই ব্যক্তি। তাদরে ঠিকানাও একই। ফলে পরস্পরের যোগসাজশে তারা পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটায়।

জানা গেছে, সাত কন্টেইনার জিপসাম বোর্ড আমদানির ঘোষণা দিয়ে টাইলস নিয়ে এসেছে চট্টগ্রামের আমদানিকারক ডাবল এ ট্রেড কমিউনিকেশন। যার ঠিকানা চট্টগ্রাম হালিশহর মধ্য রামপুরের নয়াবাজার এলাকার। আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদিব ইন্টারন্যাশনাল চালানটির বিল অব এন্ট্রি চট্টগ্রাম কাস্টমসে জমা না দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে শুল্ক পরিশোধ না করেই চালানটি খালাসের চেষ্টা করে। এরপর সব কাগজপত্র জালিয়াতি করে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে বন্দরের এনসিটি-১ গেইট দিয়ে চালানটি খালাস করতে যায় আদিব ইন্টারন্যাশনালের জেটি সরকার। এজন্য গাড়িও ঠিক করে। বিকাল সাড়ে ৩টায় এনসিটি-১ গেইট দিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে একটি গাড়ি বের হয়ে যায়। আরেকটি ডকুমেন্ট যাচাই করতে গেলে এসময় উপস্থিত বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের সার্জেন্ট হাসানুজ্জামানের সন্দেহ হয়। তখন গাড়ি বের হওয়ার অনুমতি না দিয়ে তিনি একটু দূরে থাকা অফিসে কর্মরত কাস্টমস অফিসারকে কাগজগুলো দেখান। কাস্টমস অফিসাররা সেগুলো দেখে জালিয়াতি বলে নিশ্চিত করার সাথে দৌড়ে গিয়ে তিনি গাড়ি আটকান। এসময় উপস্থিত কাগজপত্র জমাদানকারী সিঅ্যান্ডএফ আদিব ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা (জেটি সরকার) দৌড়ে পালিয়ে আটক হওয়া এড়ান। কিন্তু বন্দরের ভেতরে থাকা বাকি সব গাড়ি ও কন্টেইনার আটক করতে সক্ষম হন তারা।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদিব ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ কাউসার আলীর ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির টিএন্ডটি নম্বরে ফোন দিলেও সাড় মিলেনি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।