কাশ্মীরজুড়ে শুধুই স্তব্ধতা আর আতঙ্ক : কী ঘটতে চলেছে ভূস্বর্গে

কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কিন্তু কি ঘটতে চলেছে তা এখনও পরিস্কার নয়। গোটা কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে শুধুই আতঙ্ক আর স্তব্ধতা। মাঝে মধ্যেই বেজে উঠছে সাইরেন আর ভারী বুটের শব্দে কেঁপে উঠছে উপত্যকা। গত কয়েকদিন আগে অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎই কাশ্মীরে বাড়ানো হয়েছিল আধাসেনার বহর।

রোজ লাফিয়ে বাড়ছে মোতায়েন হওয়া জওয়ানের সংখ্যা। প্রথমে শোনা গেল ১০ হাজার, তার পরে জানা গেল ২৮ হাজার, তৃতীয় দফায় খবর এল ৩৫ হাজার- এই বিপুল বাহিনী আচমকা নামানো হয়েছে কাশ্মীরে। মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে অমরনাথ যাত্রা। পুণ্যার্থী, পর্যটক এবং বাইরের রাজ্য থেকে যাওয়া অন্য সকলকে যত দ্রুত সম্ভব কাশ্মীর ছাড়তে বলা হয়েছে। খবর আসছে যে, নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত, দুপাশেই প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ভারী কামানের ধমকও।

সম্ভাব্য জঙ্গি হানার খবর পেয়েই কি এই ব্যবস্থা, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে সরকারের তা নিয়ে ইতিমধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাশ্মীর থেকে ফেরানো হচ্ছে পর্যটকদের। এই অবস্থায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

রবিবার মধ্যরাতে হঠাত করেই গৃহবন্দি করা হল দুবারের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাকে। শুধু তাই নয়, গৃহবন্দি হলেন প্রাক্তন বি‌ধায়ক সাজ্জাদ লোনও। গ্রেপ্তার সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামি এবং কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদ। হঠাত করে কেন এমন সিদ্ধান্ত সরকারের তা নিয়ে আরও জল্পনা-আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এরপরেই উপত্যকা জুড়ে জারি করা হল ১৪৪ ধারা। অনির্দিষ্ট কালের জন্য জারি করা হয়েছে কার্ফু। আগামী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। কোনও জায়গায় জমায়েত দেখলেই প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

আজ সোমবার সকাল থেকে ১৪৪ ধারা লাঘু হয়েছে গোটা কাশ্মীরজুড়ে। আর তা লাঘু হওয়ার পর থেকে শুনশান গোটা কাশ্মীর। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, হঠাত করে কাশ্মীর এতটাই শান্ত হয়ে গিয়েছে এখন সেখানকার রাস্তায় একটা পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে। সকাল থেকে সেখানকার দোকানপাঠ সব বন্ধ। সেখানকার স্থানীয় মানুষকে রাস্তাতেই দেখা যাচ্ছে না। যতদূর চোখ যাচ্ছে শুধুই নজর পড়ছে নিরাপত্তারক্ষীদের।

অন্যদিকে, কার্ফু থাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হল অনির্দিষ্টকালের জন্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পড়াশুনা করা পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে গোটা রাজ্যের ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কেবল পরিষেবাও। কিন্তু হঠাত কেন এমন ব্যবস্থা? কাশ্মীর হঠাত কি হতে চলেছে? সন্ত্রাস দমন নাকি অন্য কিছু? একটা প্রশ্ন শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে শান্ত কাশ্মীরে।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সরকারের এমন সর্বাত্মক তৎপরতা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং গোয়েন্দা-প্রধানদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফ থেকেও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকের জন্য তোড়জোড়- ঠিক কী কারণে এত তৎপরতা, কেনই বা তা নিয়ে এত ঢাকঢাক গুড়গুড়, কেন এত গোপনীয়তা, বুঝতে পারছে না ভারতবাসী।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, কলকাতা ২৪x৭