খালেদা জিয়ার প্য্যারোলের বিষয়ে সরকার যোগাযোগ করেনি

দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়দের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আজ রবিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে তিনি গণমাধ্যমের কাছে সুইজারল্যান্ডে জেনেভায় জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটির সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে লিখিত বক্তব্য দেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটেই খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার খোকন।

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ ইউ আহমেদ ও সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকার বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু ওইসব বক্তব্য দেওয়া ছাড়া তারা (সরকার) প্যারোলের বিষয়ে তার (খালেদা জিয়ার) পরিবার বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। সরকার তাকে কারাগারে রেখেই রাজনীতি করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, এক-এগারোর সময়ে আমি খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কাজ করেছি। তিনি বলেন, সেসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের কথা অনুযায়ী আমরা আবেদন করেছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তবুও তার প্য্যারোলের বিষয়ে সরকার কোনো যোগাযোগ করেনি।

এ সময় খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য আবেদন করেছেন কি-না প্রশ্নের জবাবে বলেন, না। আবেদন করা হয়নি। আবেদন করবেন কি-না প্রশ্নের জাবে তিনি বলেন, এটা হাইকমান্ডের বিষয়। আপনারা আবেদন না দিলে সরকার কেন প্যারোলে মুক্তি দেবে, নিজেরা আবেদন না করে সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন কি-না প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি এই আইনজীবী।

দুটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছর) কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গতবছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া। সাজা হওয়ার পর থেকে তাকে নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে রাখা হয়। সর্বশেষ গত পহেলা এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।