তামিমের আরেকটু ধৈর্যধারণ করা দরকার : সিডন্স

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে রান পাচ্ছেন না দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট থেকে রান এসেছে মাত্র ২৯.৩৭ গড়ে। তাই দেশে ফিরে সবার আগে অনুশীলনে দেখা যায় তামিমকে। সেই ব্যর্থতা ভুলে আবার সামনে তাকানোর চেষ্টা ছিল তাঁর। কিন্তু চলতি শ্রীলঙ্কা সফরের প্রথম দুই ম্যাচেও ব্যাট হাতে বাজে সময় পার করছেন তিনি। প্রথম ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে ০ এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯ রান এসেছে। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হচ্ছে টানা ৬ ম্যাচেই বোল্ড আউট হওয়ার লজ্জায় ডুবেছেন তামিম, এক বছরে ৮ ম্যাচে বোল্ড! তাই তামিমকে ধৈর্য ধরতে বললেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কোচ জেমি সিডন্স।

উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জেমি সিডন্স। তামিম, সাকিব, মুশফিকরা তার হাত ধরেই বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন বলে মনে করা হয়।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি ক্রিকইনফোকে সিডন্স বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তামিম বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল বলেই মনে হয়েছে। প্রথম ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গার অসাধারণ এক ইয়র্কারে পরাস্ত হলো এবং পরের ম্যাচে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিল। সে গায়ের জোরে বল মারতে চাইছে যার কোনো প্রয়োজনই নেই। আমার মনে হয় সে কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলগুলো তার বিপক্ষে ভালো বোলিং করছে আর এতে তার বাউন্ডারি হাঁকানো কমে গেছে। তাই খেলাটা আরেকটু মেলে ধরতে তার আরেকটু ধৈর্যধারণ করা দরকার। তাকে ৫০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করার পরিকল্পনা সাজাতে এবং প্রথম ২০ ওভারেই সব রান করার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

তবে তামিমের ব্যাটিংয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না জেমি সিডন্স। কিন্তু তার মত, টেকনিকে কিছু হালকা পরিবর্তন আনলে সেটা বর্তমান সমস্যা সমাধানে কাজে দিতে পারে।

সিডন্স আরো বলেন, ‘টেকনিক্যালি তামিম ঠিক আছে। আমি তার সামনের পা আরেকটু সোজা করতে বলব। কিন্তু আমার মনে হয় সে আগের মতোই একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। সে অতীতে দেশকে অনেক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাই করবে।’

তামিমকে দেওয়া পরামর্শ নিয়ে জেমি সিডন্স বলেন, ‘প্রথম ১০ ওভার দেখেশুনে পাড়ি দিতে হতো এবং এরপর বলের টার্ন কমে যেত। এতে সে ভালো ইনিংস গড়তে পারত। ভালো লেন্থের বলে অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলাও সহজ হয়ে যেত। গত বিশ্বকাপেও অধিকাংশ বোলার তার বিপক্ষে শর্ট বল করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি তামিম, সাকিব এবং মুশফিক দলের সেরা পারফর্মার হওয়ায় তাদের প্রতি সবার প্রত্যাশাটা বেশি। সবার প্রত্যাশা যেমন, নিজেকে নিয়ে তামিমের প্রত্যাশাও নিশ্চয় তেমনই ছিল। আমার মতে, সবার মতো তামিমও হতাশ। আমার ধারণা, তার বাজে বিশ্বকাপ আসলে দুর্ভাগ্য।’