কাল থেকে চোরাই হ্যান্ডসেটে সেবা মিলবে না

আগামীকাল ১ আগস্ট থেকে নকল বা ক্লোন আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) সংবলিত মোবাইল হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হলে তা পরে অকার্যকর করা হবে। ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বা এনইআইআরের মাধ্যমে এ ধরনের সেটের সেবা নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সতর্ক করে পরামর্শ দিয়েছে যে মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে এর আইএমইআই নম্বর সঠিক কি না বা বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেইসে নিবন্ধিত কি না তা যাচাই করে নিতে হবে। এর পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেনার রসিদ নিয়ে তা সংগ্রহে রাখতে হবে। যে কেউ মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD লিখে স্পেস দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলে ফিরতি মেসেজে জানানো হবে, সেটটি ডাটাবেইসে সংরক্ষিত রয়েছে কি না। কোনো হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর জানতে হলে ওই সেট থেকে *#০৬# ডায়াল করতে হবে।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয় যে গ্রাহকদের আগের কেনা যেসব সেট এরই মধ্যে নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে, সেসব সেটের বেশির ভাগের আইএমইআই নম্বর এখনো আইএমইআই ডাটাবেইসে সংযুক্ত হয়নি। নির্ধারিত পদ্ধতিতে মেসেজ পাঠিয়ে এসব সেটের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। তবে এনইআইআর চালু হলে এসব সেটের আইএমইআই নম্বর সরাসরি ডাটাবেইসে যুক্ত হয়ে যাবে। সংস্থাটির মিডিয়া উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান এ তথ্য জানান।

প্রসঙ্গত, দেশে চোরাইপথে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধের পাশাপাশি এর বৈধতা নিশ্চিত করা এবং চুরি যাওয়া হ্যান্ডসেট বন্ধ করার জন্য বহু প্রত্যাশিত ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি বা আইএমইআই ডাটাবেইস চালু হয় গত ২২ জানুয়ারি। ওই দিন ‘এনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডাটাবেইস (এনএআইডি)’ নামের এ ডাটাবেইস উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির ইতিহাসে এটি মাইলফলক। চুরি করে হ্যান্ডসেট আমদানি করায় যে রাজস্ব ক্ষতি হতো, তা ঠেকানো প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। এখন এটি সম্ভব হবে। আমরা যত ডিজিটাল হচ্ছি, তত ডিজিটাল অপরাধ বাড়ছে। এগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতিরোধ সম্ভব নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে এসব মোকাবেলা করতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে শুধু ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমদানি করা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সেটের আইএমইআই নম্বর এ ডাটাবেইসে নিবন্ধিত থাকছে। পরে দেশে ব্যবহৃত আরো প্রায় আট কোটি সেটের আইএমইআই নিবন্ধন করা হবে। এর ফলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের চোরাই কারবার বন্ধের পাশাপাশি এর অপব্যবহারও কমে আসবে।

এদিকে বিদেশ থেকে কেউ কোনো মোবাইল হ্যান্ডসেট কিনে আনলে বা উপহার পেলে সেই হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর কিভাবে ডাটাবেইসে নিবন্ধন হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্পষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর এখনো প্রস্তুত হয়নি। তার আগে বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।