মডার্ন হারবাল সিলগালা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি, টেক্সটাইল কারখানার রাসায়নিক ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই উৎপাদন ও বাজারজাত করার দায়ে মডার্ন হারবাল গ্রুপকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ডেমরার পার ডগাইর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সমকালকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি একই জায়গায় ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করে আসছিল। বাজারে তাদের ৪শ’র বেশি পণ্য থাকলেও সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে কারখানাটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাজারে থাকা তাদের পণ্যগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করা হবে। সেগুলো মোটামুটি মানসম্মত হলেও বিক্রিতে বাধা দেওয়া হবে না। তবে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিছু পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, কোনো ওষুধ বাজারে ছাড়তে হলে উৎপাদনের আগে-পরে এর উপাদানগুলোর গুণগতমান পরীক্ষা করতে হয়। অথচ তাদের মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারে যেসব রাসায়নিক মজুদ আছে, সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে আট-নয় বছর আগে। সঙ্গত কারণেই তাদের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ঠিক নেই। আবার প্রত্যেক ব্যাচের ওষুধ বা খাদ্যপণ্য উৎপাদনের তথ্য (ব্যাচ ম্যানুফ্যাকচারিং রেকর্ড) এবং উৎপাদিত পণ্যের নমুনা সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। এতে কোনো কারণে তাদের পণ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ওই নমুনা পরীক্ষা করে বোঝা যাবে যে ওই ব্যাচে কোনো সমস্যা ছিল কি-না। কিন্তু তারা এসবের কিছুই রাখেনি।

ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহূত উপাদানগুলোর কোনো কোনোটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর। আগের মেয়াদ ঘষামাজা করে নতুন তারিখ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া টেক্সটাইল কারখানায় ব্যবহূত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড তারা ওষুধ ও খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করে আসছিল। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা তারিক বিন হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যে কোনো ত্রুটি নেই। সবকিছুরই মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এতে বাইরের কারও হাত রয়েছে।