কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

মুফতি কাসেম শরীফ

সুরা মুলক

মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় অন্য সুরার মতো আকিদার মৌলিক বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর কুদরত, একত্ববাদের প্রমাণাদি, পুনরুত্থান, হাশর-নশর ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে।

সাত আসমান সৃষ্টি এবং চাঁদ-তারার মাধ্যমে সেগুলোর সজ্জা ও শয়তান বিতাড়নে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তাতে এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে যে পৃথিবীর নিয়ম এক ধরনের চলমান। তাতে কোনো পরিবর্তন বা স্খলন হবে না। পাখিরা কিভাবে আকাশে সারিবদ্ধভাবে উড়ে বেড়ায়, এ প্রশ্ন এনে আল্লাহর অসীম কুদরতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কাফিরদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি নির্ধারণ এবং মুমিনদের জন্য বড় প্রতিদান জান্নাত ইত্যাদি প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। গোপন-প্রকাশ্য প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর জ্ঞানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুনরুত্থানের অকাট্যতা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং আল্লাহর রাসুলের দাওয়াত অস্বীকারকারীদের সতর্ক করে সুরার ইতি টানা হয়েছে।

সুরা কলম

মক্কায় অবতীর্ণ অন্য সুরার মতো এই সুরায়ও আকিদার মৌলিক বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। কলমের কসমের মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে, যাতে কলমের পবিত্রতা ফুটে ওঠে। এরপর রাসুলের চরিত্র-মাধুর্যের কথা বলা হয়েছে। নবুয়ত-রিসালাত, পুনরুত্থান ও আখিরাত এবং কিয়ামতের দিন মুমিন ও কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

কাফিরদের কুঅভ্যাস এবং রাসুলকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে তাদের কী শাস্তি দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুল (সা.)-কে কাফিরদের দেওয়া কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণের আদেশ দিয়ে সুরাটি শেষ হয়েছে।

সুরা হাক্কাহ

মক্কায় অবতীর্ণ অন্য সুরার মতো এই সুরায়ও আকিদার মৌলিক বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। সুরা শুরু করা হয়েছে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা ও আগের জাতিগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় দিয়ে। কিয়ামতের ভীতি, ওহির সত্যতা, মহানবী (সা.)-এর ওপর কাফিরদের অপবাদ ইত্যাদি বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

রাসুল (সা.)-এর সত্যতা, ওহি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাঁর আমানত, কোরআন মুমিনদের জন্য রহমত আর কাফিরদের জন্য আফসোস ইত্যাদি আলোচনার মাধ্যমে সুরা শেষ করা হয়েছে।