শুধু বীজের জন্য করলা চাষ করে সফলতা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুরে শুধু বীজের জন্য করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজারো কৃষক। নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী চলতি মৌসুমে ৬ একর জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি সবজী হিসেবে বাজারে বিক্রি না করে বীজ করেন সবটুকু ক্ষেতের করলা।

শুধু হায়দার আলীই নয়- তার ছেলে রবিউল ইসলাম, নাজমুল হক, একই গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান, সামসুজ্জামানসহ নয়াপাড়া, পাইকান, আফজালপুর, হাবিবপুর ও খাঁনাপাড়া গ্রামের হাজারো কৃষক শুধু বীজ উৎপাদনের জন্য করলা চাষ করেছেন। এসব এলাকায় স্থানীয় জাত নেপা, চল্লিশা ও জংলী চাষাবাদ করা হয়। অন্যান্য জাতের চেয়ে স্থানীয় জাতের বীজে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি বলে জানান কৃষকেরা।

সরেজমিনে রানীপুকুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া, আফজালপুর, হাবিবপুর ও লতিবপুর ইউনিয়নের পাইকান গ্রামে গিয়ে চোখ জুড়িয়ে গেছে করলা বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখে। ক্ষেতের পাশের ও রাস্তার ধারে লাল, সবুজ এবং হলুদ রঙে রাঙিয়ে আছে এসব গ্রাম। ক্ষেতের একেকটি করলাতে মিশে আছে একেকজন চাষির স্বপ্ন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে নয়াপাড়া গ্রামে প্রথম করলা বীজ উৎপাদন শুরু করেন কৃষক হায়দার আলীর পিতা আফাজ উদ্দিন। প্রথম সময়কার দিকে নিজের জমিতে চাষাবাদের জন্য এই বীজ সংগ্রহ করা হতো। আশপাশের এলাকা থেকে করলা চাষিরা বীজ ক্রয় করতে আসেন। শুরু হয় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে করলা বীজ সংগ্রহের কাজ। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় ওই গ্রামের অন্য চাষিরাও বীজ সংরক্ষণের শুরু করেন করলা চাষ। ধীরে ধীরে এই বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রসার ঘটে।

নয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলী বলেন, আমার সবটুকু জমিতে করলা চাষ করেছি। করলা বীজ বিক্রি করে অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ করা যায়। প্রথম দিকে আমার বাবা এই করলা বীজ উৎপাদন শুরু করেছিল। তার দেখাদেখি আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা করলা বীজ করা শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, অনেক স্থানে এখন করলা বীজ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু, রাণীপুকুর এলাকার করলা বীজ বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এই বীজ দিয়ে অধিক উৎপাদন সম্ভব। তাই, প্রতিদিন পাইকাররা এখানে এসে করলার বীজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, প্রতি মৌসুমে বীজের জন্য করলা চাষ করি। এবার চল্লিশা (স্থানীয় জাত) জাতের করলা চাষ করেছি। করলা থেকে বীজ সংগ্রহের কাজ শেষের দিকে। অন্যান্য জাতের চেয়ে স্থানীয় জাতের বীজে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি বলে এই এলাকায় স্থানীয় জাতের চাষাবাদ বেশি হয়।

কৃষক সামসুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি করলা বীজ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা দরে। ক’মাস পেড়িয়ে গেলেই এই বীজ বিক্রি হবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। শুধু বীজ উৎপাদনের জন্য করলা চাষ করলে লাভ বেশি পাই। তাই, সবজী হিসেবে না করে প্রতি মৌসুমে আমরা শুধু বীজের জন্য করলা চাষ করি।

উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, মিঠাপুকুর উপজেলার মধ্যে বেশি করলা চাষ হয় রাণীপুকুর এলাকায়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এসব বীজের গুনগত মান অনেক ভালো। উৎপাদন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারকে বিশেষ ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।