বিকাশ-রকেটের ব্যালান্স জানাতে মোবাইল কম্পানিকে ৪০ পয়সা করে দিতে হবে

বিকাশের মতো সেবার ভোক্তাদের জন্য দুঃসংবাদ। হিসাবের ব্যালান্স জানাতে এখন থেকে ৪০ পয়সা করে দিতে হবে। বিটিআরসি বলছে, মোবাইল অপারেটরদের এ অর্থ দেবে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ, শিওরক্যাশ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েই তা মোবাইল অপারেটরদের দেবে। এর মাধ্যমে মূলত এমএফএস সেবা থেকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আয়ের একটা ব্যবস্থা হলো।

তবে কবে থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকেই এ অর্থ আদায় করা হবে কি না তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই চার্জ মোবাইল অপারেটরকে দেবে সংশ্লিষ্ট এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান;  গ্রাহকদের ওপর এ চার্জ বর্তাবে না।

এ বিষয়ে বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম গতকাল সোমবার বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনাটি পাইনি এবং নির্দেশনাটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অনুমোদন লাগবে। সে কারণে  এখনই  ‘সেন্ট মানি’ এবং ‘ক্যাশ আউটপুট’ ছাড়া আমাদের গ্রাহকদের আর কোনো সেবার চার্জ দিতে হচ্ছে না।’

বিটিআরসির পরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) লে. কর্নেল আজিজুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত গত ১৩ ডিসেম্বরের এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা বা ইউএসএসডির ওপর প্রতিবার ৪০ থেকে ৮৫ পয়সা পাবে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। বলা হয়েছে, ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হলে এ জন্য মুঠোফোন অপারেটররা ৮৫ পয়সা পাবে। আর্থিক লেনদেন ছাড়া অন্য কাজের জন্য প্রতিবার ৪০ পয়সা দিতে হবে। প্রতিটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়া অথবা ব্যালান্স দেখার জন্য গ্রাহকরা নির্দিষ্ট নম্বরে ডায়াল করার পর ফিরতি এসএমএস পায়। এটাই ইউএসএসডি। মূলত আর্থিক লেনদেন ছাড়া ব্যালান্স দেখার কাজই করে গ্রাহক।

এর মাধ্যমে মূলত এমএফএস সেবা থেকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আয়ের একটা ব্যবস্থা হলো। এতে গ্রাহকের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা নিশ্চিত নয়। কারণ অপারেটররা বলছে, এ অর্থ গ্রাহকরা নয়, এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দেবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েই তা সংশ্লিষ্টদের পরিশোধ করে থাকে। সূত্র জানিয়েছে, এমএফএস সেবার ব্যয়কাঠামো নিয়ে গত বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উপস্থিত ছিল।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এমএফএস নিয়ে বিটিআরসির সমন্বিত নির্দেশনাকে আমরা স্বাগত জানাই। চার বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর এবং এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ আলোচনার পর সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের দাবি সেশনভিত্তিক চার্জ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই চার্জ মোবাইল অপারেটরকে দেবে সংশ্লিষ্ট এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান,  গ্রাহকদের ওপর এ চার্জ বর্তাবে না। এমএফএস খাতের বিকাশের মূল হাতিয়ার দেশজুড়ে বিস্তৃত মোবাইল ফোন  নেটওয়ার্ক। এই নির্দেশনাটির মাধ্যমে ব্যয়বহুল এই অবকাঠামোর গ্রহণযোগ্য একটি আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে।