পুঁজিবাজারেও আসুক কালো টাকা, দাবি ডিএসই-সিএসইর

আবাসন, হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে শর্ত সাপেক্ষে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন বাজেটে। একই রকম সুযোগ পুঁজিবাজারের জন্যও চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাবি, পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্ডে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে হবে।

গতকাল রবিবার মতিঝিল কার্যালয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তারা আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এবারের বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব, এতে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, বাজেটে সংস্কারমূলক দিকনির্দেশনা ও একগুচ্ছ প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটাবে, পুঁজিবাজারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেম বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যথেষ্ট প্রণোদনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজার কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাবে। বোনাস লভ্যাংশ ও রিজার্ভের ওপর কর বসানো নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এটি প্রয়োজন। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে পুঁজিবাজারে।

ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দিয়ে বিনিয়োগকারীদের হাতে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার ধরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কম্পানির মধ্যে। আবার অর্জিত মুনাফা রিটেইনড আর্নিং বা বিভিন্ন রিজার্ভের নামে রেখে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত রাখার ঘটনাও ঘটছে। এসব চর্চা নিরুৎসাহ করতে নতুন বাজেটে স্টক ডিভিডেন্ড ও রিটেইনড আর্নিংয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, কিছু কিছু কম্পানির ঢালাও বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া নিয়ে আমরা খুব বিব্রত অবস্থায় ছিলাম। অনেক কম্পানি প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। নগদ লভ্যাংশে উৎসাহিত করতে ১৫ শতাংশ কর আরোপ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের পরিমাণ কোনো কম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে ১৫ শতাংশ কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে কম্পানির সম্প্রসারণ ব্যাহত হবে, ভালো কম্পানি পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট হবে না বলে আশঙ্কা করে এ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।

অবশ্য রিজার্ভের ওপর কর বসানোর প্রস্তাব সমর্থন করে ডিএসইর আরেক পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, অনেক কম্পানি বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীকে লভ্যাংশ না দিয়ে রিজার্ভ বাড়িয়ে বসে আছে। নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণেও যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরাও লভ্যাংশ পাচ্ছে না। কাজেই রিজার্ভের ওপর ট্যাক্স আরোপ যথাযথ হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে না হলেও স্বল্প মেয়াদে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বন্ডে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছেন ডিএসইর এই পরিচালক।  তাঁর বিশ্বাস, এতে পুঁজিবাজার উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে।

সিএসই : ফ্ল্যাট বা জমি কেনা, হাইটেক পার্ক এবং ইকোনমিক জোনের মতো পুঁজিবাজারেও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দাবি করে সিএসই বলেছে, একই সঙ্গে পুঁজিবাজার টেকসই উন্নয়ন ও গুণগত সম্প্রসারণে কিছু প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা দরকার। রাজধানীতে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক বলেন, ‘অর্থপাচার রোধ ও বিনিয়োগের স্বার্থে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে কর দেওয়া সাপেক্ষে পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রুগ্ণ কম্পানিকে ভালো কম্পানি কতৃক একত্রীকরণ/অধিভুক্ত করার প্রস্তাব পুঁজিবাজারের জন্য একটি ভালো প্রস্তাব। বোনাস লভ্যাংশ ও রিটেইনড আর্নিংস বা রিজার্ভের ওপর করের প্রস্তাব কম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি।’

বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য লভ্যাংশ আয়ের দ্বৈত কর তুলে নেওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।