মাওলানা ভাসানীর রাজনীতির পথেই হাটছে বিএনপি

জেমী হাফিজ

১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার কারনে মাওলানা ভাসানীর রাজনীতির জনপ্রিয়তা চরম বিপর্যয় নেমে আসে। একজন ত্যাগী জননেতা হয়েও বাংলাদেশের রাজনীতি তে স্থান করে নিতে পারেন নি। তাইতো তার অনুসারী রা তার অবর্তমানে স্বৈরাচার সামরিক সরকারের সাথে বিলীন হয়ে যায়। ভাসানীর মত তার অনুসারীরা আজো বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে ভাসানীর দলের রাজনীতির কবর রচনা করেছেন। এটাই সত্যের উপলব্ধি, সত্যের উচ্চারণ, আমি আমার মতো করেই বিশ্লেষণ করেছি।

মাওলানা ভাসানী অস্থির প্রকৃতি নেতা ছিলেন, তিনি কোন আর্দশতেই স্থির ছিলেন না।

তার সারা জীবনটা একটা স্ববিরোধীতাপূর্ণ। তিনি সব সামরিক শাসকদের (আইয়ুব খান, জিয়াউর রহমান), খুনি মোস্তাক কে সমর্থন করেন। তিনি সব সময় ফাঁপা বুলি আউড়াতেন। যেমনটা বলছেন এখন বিএনপির নেতারা।

কারা মাওলানা ভাসানীকে বাম চিন্তা ধারার মোড়কে ব্যাবহার করার চেষ্টা করেছিলেন? তা সবটাটাই পরিস্কার হয়ে যায় মাওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর।

মাওলানা ভাসানী নির্বাচনী রাজনীতি ও ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে সামরিক বেসামরিক আমলা প্রভাবিত পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরোধিতায় ছিলেন মনোযোগী, কিন্তু স্বাধীন দেশে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কি আর অবশিষ্ট ছিল? তিনি কি বঙ্গবন্ধুর শাসনের বিরোধিতা করেছিলেন? ৭৩ এর নির্বাচনে তাঁর দলের প্রতীক “ধানের শীষ” কি সাড়া জাগাতে পেরেছিল?

বঙ্গবন্ধু খুনের পর তাঁর ভূমিকা কি ছিলো? তিনি ও তাঁর দল বঙ্গবন্ধু খুনের প্রতিবাদে কেন অংশ নেননি? কেন?

১৯৭৬ সালে ১৭ মে এত গুরুত্বপূর্ণ “ফারাক্কা লং মার্চ” করতে পারলেন, আর বঙ্গবন্ধু খুনের প্রতিবাদ করতে কেনো পারলেন না? অসাংবিধানিক খুনি সামরিক বাহিনী প্রভাবধীন সরকারের বিরুদ্ধে একটি বাক্য তিনি ব্যয় করেছিলেন কি?

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দল সামরিক শাসক জিয়াউর রহামানের ফ্রন্টে যোগ দিয়েছিল। মশিউর রহমান যাদু মিয়া সিনিয়র মন্ত্রী হয়ে রেল যোগাযোগ মন্ত্রীর দয়িত্ত্ব নিয়েছিলেন।

যাদু মিয়ার মৃত্যুর পর ন্যাপ (ভাসানী) সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেই দলই আবার সামরিক বেসামরিক আমলা প্রভাবের রাজনীতির সূচনা করেছিল। সেই দল হরণ করেছিল ভাসানীর ধানের শীষের প্রতীক।

মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ছেড়েছেন, ন্যাপ ছেড়েছেন, তার সর্বশেষ রাজনৈতিক দলের নাম, “খোদা-ই-খিদমতগার”। মাওলানা ভাসানীর অগনিত অনুসারী আছে, কিন্তু মাওলানা ভাসানীর সেই “খোদা-ই- খিদমতগার” দলের কোন কর্মী কোথাও দেখি না, কেউ তারা এই দলটা করেনা আর এই দলটার কথা কাউকে বলতেও শুনি না, এটাই সত্য কথা। মাওলানা ভাসানী কখনো ধর্মীয় নেতা সাজেন,

কখনো লালন করেন শ্রমিক শ্রেনীর মানসিকতা, কখনো সামরিক শাষনকে বৈধতা দিতে গর্জে উঠেন।

তিনি বহুরুপের ও বহুমতের এক অচেনা মানুষ। ১৯৭২ সালে দেশের সংবিধান প্রণয়ন এর সময়, সেক্যুলার নয় “কোরআন সুন্নাহর আলোকে” সংবিধান প্রনয়নের দাবি তুলেছিলেন মাওলানা ভাসানী, এই কথাটাও কেউ বলেনা, এটাই সত্য কথা।

বঙ্গবন্ধু শ্রদ্ধা করতেন মাওলানা ভাসানীকে বাবার মতো, আর সেই মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু খুনের সাথে সাথেই খুনিদের সুর্য সম্তান বলে জানান অভিনন্দন।

এই কথাটাও কেউ বলে না, এটাই সত্য কথা। যিনি নিজের ভালোই বুঝতেন না, তিনি কী ভাবে কারো বিরোধীতা করবেন? আমার ব্যক্তিগত মুল্যায়ন তিনি ছিলেন আত্মঘাতি।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে (১৯৭২ -৭৫) সালে কারো শ্লোগান দিয়েছিলো বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র আর কারা শ্লোগান দিয়েছিল ইসলামী সমাজতন্ত্র। জনগন দেখলো বহুদলীয় গনতন্ত্রের নামে জেনাঃ জিয়া ও জেনাঃ এরশাদ এর (১৯৭৫ -১৯৯০ সাল) পর্য্যন্ত এক দলীয় মিলিটারী সামরিক শাষন। মানুষের প্রায় সব ধরনের অধিকার হরণ করার নাম হচ্ছে সামরিক শাসন।

ভবিষ্যৎই এই ইতিহাসের ভিতর থেকেই সত্যটাকে সামনে তুলে আনতে পারাটাই চ্যালেন্জ। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় ভন্ডামী এবং ধান্দা বাজী শব্দ হচ্ছেঃ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র আর ইসলামী সমাজতন্ত্র।

রক্ষী বাহিনী আর সেনা বাহিনীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ছিল, রক্ষীবাহিনী তে সবই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া যোদ্ধারা। কোন পাকিস্তান ফেরত সেনা সদস্য রক্ষী বাহিনীতে ছিলনা। অপর পক্ষে সব পাকিস্তান ফেরত সেনা সদস্য সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।পাকিস্তান ফেরত ও পাকিস্তানপন্থী দের রক্ষীবাহিনীর উপর যে মিথ্যা প্রচারনার কলঙ্ক লেপন করেছিলো তা অধ্যাবধি অহরহ যা-তা বলে বেড়ায়, কিছু পাকি প্রেমিক। আপনি আপনার আত্মীয় -স্বজনসহ বিভিন্ন মানুষকে জিগ্যাসা করে দেখুনতো, কোন এলাকার কাকে কাকে রক্ষী বাহিনী কোথায় অত্যাচার করেছে? আপনার এলাকায় খোজ -খবর একটু নিলেই বুঝতে পারবেন তার প্রমান। হ্যাঁ,রক্ষী বাহিনী যাদের অত্যাচার করেছে, তারা অত্যাচারী, লুণ্ঠনকারী, সর্বোপরি পাকিস্তানপন্থি ছিল, যা প্রচারনার সংখার তুলনায় খুবই নগন্য। খুনি সামরিক শাষক জিয়ার দায়িত্ব ছিল রক্ষী বাহিনীর বিচার করার। কিন্তু তা না করে তাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীর সদস্যকে কোর্ট মার্শালে বিনা বিচারে হত্যা করেছে। এটাও কেউ বলেনা, এটাই সত্য কথা।

আজ ক্ষমতার লোভে ডঃ কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকি, আসম আব্দুর রব, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মাহমুদুর রহমান মান্নারা বঙ্গবন্ধুর খুনীকে স্বাধীনতার ঘোষক ডেকে তার কথিত কবরে মুনাজাত করে রাজনীতি কে নীতিহীন চর্চাকেন্দ্র বানাতে চলেছে।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসে যারা বেগম খালেদা জিয়ার নকল জন্মদিন পালন করতে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেন, তাদের সঙ্গে যারা হাত মেলালেন। এটাই সত্য কথা।

মাওলানা ভাসানীর কমরেড ফকরুল ইসলাম আলমগীর যখন দলের নেতৃত্বে। মাওলানা ভাসানীর অনুসারী আবদুল্লা আল নোমান, নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু, জহির উদ্দিন স্বপন, আসাদুজ্জামান রিপনরা যখন এই দলের নেতৃত্বে।

জেমী হাফিজঃ নিউজ এডিটর, ডেইলী ইভিনিং নিউজ।

এস/ভি নিউজ

পূর্বের খবরআজ শেষ হচ্ছে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি
পরবর্তি খবর১৫ রোজার পর এবার ঈদপণ্যে ব্যবসায়ীদের থাবা