স্বাস্থ্য পেশাদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী ডাব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) চিকিৎসক এবং অন্য স্বাস্থ্য পেশাদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত রোগ মোকাবেলায় এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ অর্জনেও বাংলাদেশকে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডাব্লিউএইচও। ডাব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ গতকাল শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ডাব্লিউএইচও বিশেষ করে চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পেশাদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী, যেমন—নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ করবে। যেহেতু বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ, যেকোনো দুর্যোগে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই ডাব্লিউএইচও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর জন্য কাজ করবে। এ ছাড়া ডাব্লিউএইচও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত রোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করবে, যার মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট রোগ।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সংস্থাটি সব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পেশাদারদের পাঠ্যক্রমে রোগীদের সঙ্গে আচরণ করার ক্ষেত্রে আচরণগত পদ্ধতির মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য সহায়তা দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে এবং ক্লিনিক থেকে নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

সুতরাং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে।

অল্পবয়সী মেয়েরা স্তন ক্যান্সার নিয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্তন ক্যান্সার দ্রুত নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে রোগটি নিরাময়যোগ্য। স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয়ে সরকার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রেফারেল সিস্টেম চালুর জন্য কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভুটানকে সেখানে বার্ন ইউনিট নির্মাণে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য শিক্ষার একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে যাচ্ছে; কারণ এরই মধ্যে ভুটান, নেপাল ও ভারত থেকে আসা প্রচুর শিক্ষার্থী বাংলাদেশে রয়েছে। সরকার এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক সুগত বসু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এস/ভি নিউজ

পূর্বের খবরজিম্মি জাহাজে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র বসিয়েছে জলদস্যুরা
পরবর্তি খবররমজানে মহানবী (সা.)-এর পরিবার যেসব আমল করতেন