চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীস্থ রোজভ্যালী আবাসিক এলাকায় দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান

বিপ্লব বিজয়; চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম শহরের অনেক বাসা-বাড়ির ছাদেই এখন ফুল, ফল আর সবজি চাষের মাধ্যমে প্রাকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করে চলেছে। উন্নয়নের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় সারাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সবুজে আচ্ছাদিত ‘ছাদ-বাগান’।

পাহাড়-পর্বত আর সমুদ্র বেষ্টিত এই নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও বর্ধিত জনগণের খাবারের চাহিদা মিটাতে ভেজালমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদনের জন্য বাড়ির ছাদে বাগান করতে ভবন-মালিকদের উৎসাহ দিয়ে আসছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। নগরীর প্রতিটি ছাদে, বাড়ীর আঙ্গিনায় এবং খালি জায়গায় বাগান গড়ে তুলে তিলোত্তমা চট্টগ্রামকে সবুজে সাজিয়ে গ্রিন সিটিতে রূপান্তরে এগিয়ে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী সুন্দর মনের মানুষগুলো।

এরই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে আছেন নগরীর খুলশীস্থ ‘রোজভ্যালী’এলাকায় বসবাসরত প্রকৃতিপ্রেমী ও শৌখিন মানুষ বিশিষ্ট শিল্পপতি শাহ আলম বাবুল। উন্নত পরিবেশে জীবনযাপন ও সবুজ নগরী গড়ার প্রত্যয়ে সদা উজ্জীবিত হয়ে কাজ করছেন আর.এ.বি. গ্রুপের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়েষ্টার্ণ মেরিন শিপইয়ার্ড লিঃ এর পরিচালক, লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল এর প্রাক্তন জেলা গভর্ণর, চট্টগ্রাম সরাকারী মুসলিম হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়ন শাহ আলম বাবুল।

সরেজমিনে এই সৌন্দর্যপিপাসু মানবীয় মানুষটির বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হলো আমার। বাড়িতে ঢুকতেই নকশা করা এক গেইট আর ফুলের গাছ। আসবো জেনে গেইটের সামনে দাড়িয়ে আছেন এক ভদ্রলোক। দেখে মনে হলো খুব এক সৌখিন মানুষ। খুব আন্তরিকভাবেই আমাকে বাসায় নিয়ে গেলেন। ঢুকতেই বিভিন্ন প্রকার ফুলের গাছ ও ফলের গাছ আমাকে মুগ্ধ করে।  আমিও খুব খুশী হলাম ভদ্রলোকের এমন আতিথেয়তায়। ঢুকতেই সাজানো গোছানো এক ড্রইং রুম। ওখানেও বিভিন্ন ধরনের ফুলের টপ। সুন্দর এক মনোরম পরিবেশ। আমরা সরাসরি ছাদে চলে গেলাম এবং সেই ছাদ বাগানটা দেখলাম।  সবুজপ্রেমী মানুষটি, যিনি একাধারে একজন মানবতাবাদী, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শাহ আলম বাবুল।

বাড়ির ছাদে উঠতে উঠতে সিড়ির দুপাশে বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ দেখতে পেলাম। ছাদ বাগানে উঠেই যেন মনে হলো যান্ত্রিক শহরের বুকে একটুকরো সবুজ গ্রাম। ছাদ বাগানে বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ সহ যে গাছগুলো দেখে হতবাক হলাম সেটা হলো বাঁশ গাছ। জনাব শাহ আলম বাবুল বলেন অনেকেই ছাদ বাগান করেছেন কিন্ত আমার ছাদ বাগানে মানুষ যেন উঠেই বলতে পারে বাড়ির ছাদতো নয় যেন এক সবুজ ছোট গ্রামে এসিছি।

শুরুটা কিভাবে করলেন জিজ্ঞেস করতেই বললেন তার শৈশব-কৈশৌরের কথা। তিনি বলেন আমি গ্রামের ছেলে এবং গ্রাম থেকেই উঠে আসা এই আজকের আমি শাহ আলম বাবুল। গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেটেছি, সবজি খেতে গিয়ে সবজি তুলে এনেছি। সেই স্মৃতিগুলো থেকেই চিন্তা করলাম আমার এই বিশাল বাড়ির ছাদতো শুধু শুধু পড়ে আছে, এটাকে কাজে লাগাতে পারি। তাই শুরু করলাম ছাদ বাগান। শুধু সবজি বাগান নয় এখানে বারমাসি আমের গাছ লাগিয়েছি। এই আম গাছে বার মাসে আম খেতে পারি।

বাগানে গিয়ে তিনি যেন হারিয়ে গেলেন সেই শৈশবে। বললেন, আমি আমার ছাদবাগানে, আমার সেই গ্রামকে খুঁজে পাই। সেই মাটির গন্ধ, সেই ফসলের ক্ষেত আর বাঁশঝাড়। পূর্ণিমা রাতে আমি ছাদ বাগানের বাঁশঝাড়ে বসে পরিবার নিয়ে সময় কাটায়। আমার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবরা ছাদের উপর বাঁশ বাগান দেখে খুবই খুশি হন। তারা সবাই বলেন ছাদের উপর বাঁশ বাগান আমরা আর কোথাও দেখিনাই। আমার এই বাগানে এখন শিম, টমেটা, মুলা, কাঁচামরিচ, বেগুন ধরছে। ছাদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় তারজন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। শত ব্যস্ততা থাকা সত্বেও আমি নিজেই বাগানের পরিচর্যা করি।

এই বাগানে হরেক রকমের ফুল ফুটে আছে। আমি মনে করি প্রতিটি ফুল ও ফলের গাছ আমার সন্তানের মত। আমার এই বাগান দেখে আমাদের এই রোজভ্যালী এলাকায় অনেকেই ছাদবাগান করছেন এবং আরো অনেকেই করার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিটি বাড়ীর ছাদে বা আঙ্গিনায় যদি সবাই ছোট ছোট সবজি ও ফলের বাগান করেন তাহলে সদ্য তাজা ফল সবজি নিজেদের প্রয়োজনে রান্না করে খেতে পারবে। এটার স্বাদও আলাদা এবং আনন্দও লাগে। আমরা সবাই যদি ছাদ বাগান করি তাহলে বিষমুক্ত শাক-সবজি, পুষ্টিকর ফল-মূল খেতে পারবো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা একটুকরো জমি যেন খালি না থাকে। আমরা নগরীতে যারা বসবাস করছি সকলকে ছাদ বাগান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। জয়বায়ু পরিবর্তনের কারনে পৃথিবী আজ উত্তপ্ত। ক্ষরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মানুষ বনজঙ্গলের গাছ কেটে উজাড় করে ফেলছে।

কলকারখানার রাসায়নিক পদার্থ, ধোঁয়ার কারনে জলবায়ু পরিবর্তন ফলে দিন দিন পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান দিন দিন কমে যাচ্ছে, উকি মারাছে নানান ধরনের রোগ বালাই। তার মধ্যে আমরা বলতে পারি করোনা মহামারী। করোনার চেয়েও ভয়াবহ মহামারী রোগ পৃথিবীতে সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাই; পৃথিবীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে পারবো।

এস/ভি নিউজ

পূর্বের খবরবিডিআর বিদ্রোহে যুক্ত ছিল বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তি খবরবাইডেনের চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী