বিশ্ববিখ্যাত যাদুসম্রাট প্রতুলচন্দ্র (পি. সি.) সরকার

১৯৫৭ সালে পি.সি. সরকার লণ্ডনের বিবিসি টেলিভিশনে এক তরুণীকে করাত দিয়ে কেটে দুটুকরো করে দেখিয়েছিলেন। এতে বহু টেলিভিশন দর্শক অজ্ঞান হয়ে যায়। পরের দিন লণ্ডনের পত্রিকাগুলো এই রোমহর্ষক ও বিস্ময়কর খেলার খবরের সচিত্র বিবরণ প্রকাশ করে। ওই বছরের ২২ মে তাঁকে আমেরিকার টিভি কোম্পানীগুলো বিশেষ বিমানে করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। কলেজে পড়ার সময় নিজের পদবি সরকার বাদ দিয়ে তিনি যাদু খেলার জন্য নিজের নাম তৈরী করে নিলেন পি.সি. সোরকার। ‘সোরকার’ একটি প্রচলিত ইংরেজী শব্দ যা যাদুকর অর্থে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তিনি পি.সি সোরকার নামেই পরিচিত ছিলেন। তারপর বিশ্বব্যাপি খ্যাতি লাভ করার পর আবার তিনি নিজের পদবিতে ফিরে গিয়েছিলেন। কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়বার সময় তিনি “হিপ্লোটিজম” নামে বই লিখেছিলেন। আনন্দমোহন কলেজে পড়বার সময়ে তিনি “ম্যাজিক শিক্ষা” নামক আরও একটি বই লেখেন। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর যাদু খেলার উপর লিখিত বইগুলোতে পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিতেন যে, এটা কোনো ঐশ্বরিক অথবা অলৌকিক শক্তি হাসিল করার ব্যাপার নয়। যাদু খেলার পুরো বিষয়টা হলো বাস্তবিক অর্থে যাদুকরের কতকগুলো কলাকৌশল ব্যবহার করার পারদর্শিতার উপর নির্ভরশীল। যাদুকর তার প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম এবং সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে প্রভাবশালী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে দর্শকদের সামনে এমনিভাবে তার যাদুবিদ্যা প্রদর্শন করবেন, যেন দর্শকবৃন্দ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা উপভোগ করে এক অপূর্ব আনন্দলোকে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ভ্রমণ করবেন বাস্তব পৃথিবীর যত কদর্যতা এবং দুঃখ-শোক ভুলে গিয়ে। ১৯৬৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৪৬ ও ১৯৫৪ সালে জাদুর অস্কার নামে পরিচিত “দ্য ফিনিক্স” (আমেরিকা) পুরস্কার লাভ করেন। জার্মান ম্যাজিক সার্কেল থেকে “দ্য রয়াল মেডিলিয়ন” পুরস্কার পান। ১৯৬৭ সালে তিনি পুনরায় আমেরিকায় যাবার জন্য আমন্ত্রণ পান। এসময়ে তিনি আন্তর্জাতিক রোটারী ক্লাবের সদস্য এবং বিলেতের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন ফেলো নির্বাচিত হন। ফ্রান্স, ইংল্যাণ্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং জাপানের ম্যাজিশিয়ান সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। আমেরিকার অন্যতম যাদুকর ভ্রাতৃসংস্থার কলকাতার শাখার নামকরণ করেছে তাঁর নামে। তিনি দেশের সরকারী, বে-সরকারী সংস্থা থেকে যে পুরস্কার পেয়েছিলেন তার ইয়ত্তা নেই। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে ভারতীয় সরকার তার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ৫ টাকার স্ট্যাম্প চালু করে। যাদুবিদ্যা প্রদর্শনে জগৎব্যাপী সুনাম লাভ, দেশের গৌরব অর্জন করে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে বিশ্বের একজন অনন্য ব্যক্তিত্বের পরিচিতি এনে দিয়েছে।

পি.সি সরকার পড়াশোনা শেষ করে যাদুকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে তাঁর যথেষ্ঠ পরিচিতি হয়ে গেছে। তাঁর নাম শুনলে হাজার লোকের ভিড় জমে যায়। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৩৭ সালে ২৪ বছর বয়সে জাপানে গমন করেন। সেখানে তিনি যাদুখেলা দেখিয়ে অশেষ খ্যাতি ও সাফল্যের পরিচয় দেন।

যাদুকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার পর তিনি কলকাতায় চলে যান। প্রথমে তিনি ভাড়া বাড়িতে উঠেছিলেন। পরে নিজ্ বাড়ি করলেন কলকাতার বালিগঞ্জে।

অল্পদিনের মধ্যে কলকাতা শহরে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়লো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি যাদুর পদর্শনীতে অংশ নিতে থাকেন এবং ক্রমেই দেশের ভিতরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন একজন চমকপ্রদ যাদুকর হিসেবে। এসময় তিনি পত্র-পত্রিকাতেও শুরু করলেন যাদুর উপর লেখালেখি। দুদিকেই তাঁর খ্যাতি বাড়তে লাগলো।

এদেশে নানা কিংবদন্তী প্রচলিত আছে তাঁর যাদুবিদ্যার পারদর্শিতার উপর।

একবার কুচবিহারে মহারাজার ওখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন তিনি যাদু খেলার প্রদর্শনী করবার জন্য। তখন তিনি দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় একজন যাদুকর। তাঁর আবার খুব সুনাম ছিল সময়জ্ঞান বজায় রাখার ব্যাপারে। সেবার কুচবিহারের মহারাজার নির্দিষ্ট একটি স্থানে ঠিক বিকেল চারটার সময় যাদুর খেলা শুরু করবার কথা। দর্শক সমাগম হয়েছে প্রচুর। সবাই ঘন ঘন হাতঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। চারটা বুঝি বাজতে চলেছে। মহারাজা পর্যন্ত এসে গেলেন দর্শকদের মাঝে। তাঁর নির্দিষ্ট আসনটিতে যেয়ে বসে পড়েছেন। কিন্তু কোথায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যাদুকর পি.সি. সরকার? তিনি বোধ হয় এবার তাঁর সময় জ্ঞানের সম্মান রাখতে পারলেন না। হাতঘড়ির দিকে একাগ্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলেন মহারাজা এবং সম্মুখের সারির দর্শকবৃন্দ। চারটে বেজে পনের-বিশ মিনিট পার হয়ে গেছে। এমন সময় দর্শকের সারিতে ফিসফিস করে গুঞ্জন, ঐ যে যাদুসম্রাট পি.সি. সরকার এসে গিয়েছেন। দর্শকদের গুঞ্জন ধ্বনির সাথে তাল মিলিয়ে শেষে মহারাজার নির্দেশে একজন যাদুসম্রাটকে বললেন, তাঁর হাতঘড়িটা দেখে নিতে এবং তিনি যে তাঁর চিরাচরিত নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তা স্বীকার করতে। কিন্তু যাদ্সম্রাট এতে মোটেই বিচলিত হলেন না। দর্শকদের দিকে একবার প্রখর দৃষ্টি বুলিয়ে তিনি একসময় হাতের কব্জিতে বাঁধা নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, না, এখন তো ঠিক চারটেই বেজেছে। আমি বরাবরের মতো ঠিক সময় মাফিকই  এসে গিয়েছি। মহারাজাসহ দর্শকবৃন্দের অনেকেই এবার নিজ নিজ ঘড়ির দিকে তাকালেন, সবাই থ। প্রথমে এসেই একি যাদুর খেলা দেখালেন যাদুসম্রাট ! সবার ঘড়িতেই দেখা যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা চারটার দিকেই সময় নির্দেশ করছে। এমনি করেই বোধ হয় হিপ্লোটিজম বা সম্মোহন বিদ্যায় পারদর্শিতা দেখাতেন যাদুসম্রাট।

আরেকবার মজার কাণ্ড হয়েছিল অবিভক্ত বাংলাদেশের মুখ্যমন্ত্রী এ.কে ফজলুল হকের সময়। মন্ত্রীসভার এক নৈশ ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল পি.সি সরকারের যাদু খেলার। এ অনুষ্ঠানে পি.সি সরকার যে যাদুটি দেখিয়েছিলেন তার শিরোনাম ছিল “বাংলার মন্ত্রীমণ্ডলীর পদত্যাগ”।

খেলাটি কলকাতার ইম্পেরিয়াল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হকের হাতে এক টুকরা সাদা কাগজ দিয়ে কিছু লিখতে বললেন। হক সাহেব কিছু একটা লিখলেন। তারপর তাঁর সকল মন্ত্রীগণ সেই লেখার নিচে স্বাক্ষর করলেন। তারপর ঐ স্বাক্ষরিত পত্রটি তিনি পড়তে দিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কমিশনার মিঃ কলসনের হাতে। কলসন পড়তে লাগলেন।

“আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সকলে এই মুহূর্তে মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করিলাম এবং আজ হইতে যাদুকর পি.সি সরকার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হইলেন।”

এই পাঠের মুহূর্তে সকলে বিস্মিত হতভম্ব। শেরে বাংলা অবাক হয়ে বললেন যে, তিনি তো এমন কোনো কথাই তো  কাগজে লেখেননি। মন্ত্রীগণ বললেন, তাঁরাও যে কাগজে সই করেছেন সেখানে এমন কিছু কথা লেখা ছিল না। তাহলে এমন হলো কেমন করে? এটাই ছিল পি.সি. সরকারের খেলা। এটা ছিল ফোর্স রাইটিং-এর যাদু। পরের দিন পত্র-পত্রিকায় বড় বড় হেডলাইনে এই রসিকতাপূর্ণ উচ্চমানের যাদু খেলার খবর ছাপা হয়েছিল।

১৯৩৭ সালের দিকে ভারতের সবাধীনতা আন্দোলন ছিল চরমে। এ সংগ্রামে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা আনেদালনের অন্যতম নায়ক রাসবিহারী বসু পি.সি. সরকারকে জাপানে ডেকে পাঠালেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি জাপানের পথে রওনা দিলেন। কিন্তু বার্মায় আসার পর তাঁর সবকিছু চুরি হয়ে গেল। এক প্রকার তিনি খালি হাতেই রাসবিহারী বসুর কাছে পৌঁছলেন।

এরপর তিনি খালি হাতে খেলা দেখাতে শুরু হরলেন। জাপানের মানুষ তাঁর খেলা দেখবার জন্য পাগল হয়ে গেল। তিনি যেখানেই যান সেখানেই হাজার হাজার লোকের ভিড় জমে যায়। তিনি প্রচুর টাকা আয় করতে লাগলেন। তিনি এসব টাকা দান করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বার্থে।

তারপর তিনি যাদুর খেলা দেখিয়ে বিশ্বজয়ের জন্য অভিযান শুরু করলেন। তিনি ঘুরে বেড়ালেন সারা ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান থেকে শুরু  করে বিশ্বের প্রায় সকল দেশ। তিনি যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই পেয়েছেন প্রাণঢালা অভিনন্দন। তাঁর নাম শুনলেই হাজারহাজার লক্ষ লক্ষ লোক ভিড়তো।

বিশ্বের যাদুকরদের মধ্যে এক ফ্রান্সের হুডিনি ছাড়া আর বোধ হয় কোন যাদুকরকে পাওয়া যাবে না, যিনি আন্তর্জাতিক বিশ্বে এত পরিচিত এবং সম্মানের অধিকারী হয়েছেন। বিশ্বের বোধ হয় খুব কম দেশেই তাঁর যাদুর প্রদর্শনী হয়নি বা তিনি জাতীয় সম্মান অর্জন করে আসেননি।

পি.সি. সরকার লাভ করেছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কা র। যেমন স্টেজ ম্যাজিকের জন্য আমেরিকার “যাদুবিদ্যার নোবেল প্রাইজ” বলে খ্যাত “স্ফিনক্স” পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন যাদুকরের সবচেয়ে বড় জার্মান পুরস্কার সোনার “লরেল” মাল্য। হল্যাণ্ড থেকে দু’বার পেয়েছেন “ট্রিক্স্” পুরস্কার।

তাঁর যাদুখেলা বিবিসি টেলিভিশন, অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন, শিকাগোর ডব্লিউ.জি.এ টেলিভিশন, নিউইয়র্কের এন.বি.সি টেলিভিশন এবং সিবিএম টেলিভিশনে বহুবার যাদুখেলা প্রদর্শিত হয়েছে।

তাঁর যাদু খেলার কৃতিত্বের স্বীকৃতিসবরূপ তৎকালীন মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী থাকিন নু তাঁর নাম দিয়েছিলেন “এশিয়ার গৌরব”।

তাঁর যাদুবিদ্যার উপর রঙিন চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েজ বের করেছে লং প্লেয়িং রেকর্ড। তাঁর সম্পর্কে দেশে ও বিদেশে বই বের হয়েছে ২০টির মতো। যাদুসম্রাট তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, “আগামী ১৯৭০ সালে ওসাকাতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বমেলা। এশিয়াতে আজ পর্যন্ত বিশ্বমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই সর্বপ্রথম হবে। আমরা ইতোমধ্যে ‘ইন্দ্রজাল’ প্রদর্শনের আমন্ত্রিত হয়েছি। অর্থাৎ দশমবার জাপানে আসবার ব্যবস্থা হয়েই রয়েছে। আবার কতো কি নতুন দেখাবো। আবার জাপান কিরূপে দেখা দিবে কে জানে।

কিন্তু ঘটনাটি যাদুর মতোই ঘটে গেল। তিনি দলবল নিয়ে জাপানে এলেন, কিন্তু আর ফিরে গেলেন না। এই জাপানেই ১৯৭১ সালে ৬ জানুয়ারি তারিখে সাপোরো শহরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

তিনি টাঙ্গাইল জেলার অশোকপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পবিারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ভগবান চন্দ্র সরকার এবং মাতা পরিচিতা ছিলেন কুসুমকামিনী দেবী নামে। প্রতুল ছিলেন বাবা-মায়ের বড় ছেলে। প্রতুলেরা দুই ভাই। তাঁর আর এক ভাই অতুল সরকারও পরে যাদুবিদ্যায় সুনাম অর্জন করেছিলেন।

টাঙ্গাইলের শিবনাথ হলেই শুরু হয় তার শিক্ষাজীবন। বাল্যকাল থেকেই তিনি আকৃষ্ট ছিলেন যাদুবিদ্যার শিক্ষার প্রতি। তাদের পরিবারেও আগে থেকে অনেকেই যাদুখেলা দেখাতেন। সেই বংশগত ইতিহাসই তাঁর উপর বেশী প্রভাব ফেলেছিল।

সপ্তম-অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি মজার যাদুর খেলা দেখিয়ে সকলকে অবাক করে দিতে পারতেন। এসময় তিনি পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি স্কুলের লাইিব্রেরীতে যাদুবিদ্যার উপর যত বই ছিল সব বই পড়ে শেষ করেন।

প্রথম শ্রেণীতে ম্যাট্রিক পাশ করার পর করটিয়া সাদত কলেজে ভর্তি হন। তখন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন বিখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ ইব্রাহিম খাঁ।

করটিয়া সাদত কলেজে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁ যাদুবিদ্যার নানা কলা-কৌশল আয়ত্ত করবার সাধনা। তিনি বহু পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, যাদুবিদ্যা প্রদর্শনকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করবেন। বিশেস করে এই বিষয়েই তাঁর মন সবচেয়েবেশী একাগ্র হয়ে থাকতো।

তখন কলেজে তাঁর প্রচুর নামডাক। চায়ের দোকানে, খেলার মাঠে সকলের মুখে মুখে প্রতুলের অদ্ভুৎ যাদু খেলার প্রশংসা। এমনি সময়ে একদিন সাদত কলেজ পরিদর্শন করতে এলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সপেক্টর ডক্টর হরেন মুখার্জী তাঁর সাথে এলেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মিঃ হার্লে। তাঁদের আগমন উপলক্ষে প্রতুলের যাদু খেলার আয়োজন করা হল। অনুষ্ঠানে প্রতুলের চমৎকার চমৎকার যাদুখেলা দেখে দুজনেই চমৎকৃত হলেন।

১৯৩১ সালে আই.এ পাশ করে ডিগ্রী পড়ার জন্য তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে তিনি ভর্তি হন। এই কলেজ থেকেই তিনি অংকে অনার্স নিয়ে বি.এ পরীক্ষা দিলেন। তিনি যাদুবিদ্যার উপর ২০টির অধিক বইও লিখেছেন। পি.সি. সরকারের পারিবারিক জীবন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিময়। ১৯৩৮ সালে তিনি টাঙ্গাইলের চিকিৎসক প্রমথনাথ গুহ মজুমদারের প্রথমা কন্যা বাসন্তী দেবীকে বিয়ে করেন। বাসন্তী দেবী ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। পি.সি. সরকার পারিবারিক জীবনে তিনি দুই মেয়ে তিন ছেলের জনক। বড় ছেলে প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার। মেজো ছেলে অ্যাপ্লাইড সাইকোলজিতে মাস্টার্স করে পিতার পেশায় নিয়েজিত। তিনিই জুনিয়র পি.সি. সরকার নামে খ্যাত। ছোট ছেলে কমার্শিয়াল পাইলট।

যাদুসম্রাট পি.সি সরকারের বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি যাদু দেখানোর সময় ভারতীয় রাজা-মহারাজাদের পোশাক পরতেন। বিশ্ববাসী স্বীকার করে গিয়েছেন, তিনি শুধু যাদুর রাজপুত্র নন, তিনি ছিলেন যাদুর সম্রাট, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্রাট।

আজ তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই।

তথ্য সংগৃহীত: প্রতাপ সাহা।

এস/ভি নিউজ

পূর্বের খবর‘বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখঢাক রাখছে না ভারত’
পরবর্তি খবরআমি এই দেশের সন্তান, এই দেশেই থাকব: ড. ইউনূস