জনশুমারির দুই লাখ ট্যাব পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

99

দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ প্রকল্পের আওতায় গত বছর তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনে সরকার। এতে খরচ হয় ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা। প্রায় আট মাস ধরে এসব ট্যাব পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) পড়ে আছে। এখন প্রায় দুই লাখ ট্যাব প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাচ্ছে মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষার্থীরা।

গৃহগণনা ও জনশুমারি প্রকল্পের আওতায় গত বছরের মে মাসে শেষ নাগাদ ট্যাবগুলো কেনে বিবিএস। এরপর ১৫ জুন শুরু হয় জনশুমারির কাজ। ২১ জুন শেষ হয়। এখন এই ট্যাবগুলো পড়ে আছে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে। বিবিএস জানায়, বিপুল টাকায় কেনা এসব ট্যাব কোথায় ব্যবহার করা যায়, সে উপায় খুঁজছে বিবিএস। তবে সম্প্রতি ট্যাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিবিএস বলছে, একটি আধুনিক মানের ট্যাবে যা থাকা দরকার সব কিছুই রয়েছে এই ট্যাবে। ট্যাবগুলোর কনফিগারেশন উঁচু মানের। এতে আছে ৩২ গিগাবাইট র‌্যাম। শিক্ষার্থীরা এই ট্যাব দিয়ে টাইপিং, ডকুমেন্টেশন, প্রেজেন্টেশন বানাতে পারবে, যা তাদের শিক্ষার পরিবেশ আরো সহায়ক করে তুলবে। তবে কী পদ্ধতিতে কোন জেলার শিক্ষার্থীদের এই ট্যাবগুলো বিতরণ করা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করেনি বিবিএস।

জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, ‘আমরা যে উদ্দেশ্যে ট্যাবগুলো কিনেছি সেই উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল। আমরা খুব দ্রুত সময়ে জনশুমারির ফলাফল প্রকাশ করতে পেরেছি। এখন আমরা চাই, পরবর্তী জরিপকাজে এই ট্যাবগুলো ব্যবহার করতে। পাশাপাশি প্রায় দুই লাখ ট্যাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আমরা শিগগিরই পৌঁছে দিব মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষার্থীদের হাতে। ট্যাবগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এগুলো নষ্ট হোক, তা আমরা চাই না। ট্যাব বিতরণে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন মনে করেন, বিবিএসের উচিত, এখনই ট্যাবগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারণ বেশিদিন যদি ভালো পরিবেশে এসব ট্যাব না রাখা হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা আছে।

‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩’ পরিচালনার জন্য এক লাখ ৪০ হাজার ট্যাবের চাহিদা দেয় বিবিএস। তবে বিবিএসের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন এ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক শুমারি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এ প্রকল্পে এ বছর ট্যাব ব্যবহারেরও সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া বিবিএসের বিভিন্ন শাখা থেকে ১৭ হাজার ৮১৮টি ট্যাবের চাহিদা আসে। বিবিএসের মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা আসে তিন হাজার ৫১৭টি ট্যাবের। অন্যদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য আরো ২৫০টি চাহিদাপত্র পায় বিবিএস। সব মিলিয়ে এক লাখ ৬১ হাজার ৫৮৫টি ট্যাবের জন্য আবেদন পাওয়া গেছে। এসব চাহিদা পাওয়া গেছে শুধু বিবিএস ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে।