আইএমএফ’র ঋণপ্রস্তাব আজ উঠছে নির্বাহী বোর্ডে

187

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবটি সংস্থাটির আজকের নির্বাহী বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, সভায় বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণপ্রস্তাবটি অনুমোদিত হতে পারে। অনুমোদন হলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়া যাবে।

জানা যায়, আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য সভার এজেন্ডাভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আইএমএফ কার্যালয় থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এর আগে আইএমএফ-এর ডিএমডি মিসেস অ্যান্তইনেত এম সায়েহ ঢাকা সফর করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করেন। প্রতিবেদনটি বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে। এতে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, ঋণ দেওয়ার শর্তের বিপরীতে বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে কোন কোন শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি আইএমএফ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অনুকূলে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণপ্রস্তাবটি ৩০ জানুয়ারি সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, ঋণপ্রস্তাবটি বোর্ডে অনুমোদিত হতে পারে।

দুটি খাতে বাংলাদেশকে এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার আওতায় সদস্য দেশগুলোয় ঋণ দেওয়ার জন্য আইএমএফ নতুন যে তহবিল গঠন করেছে, তা থেকে এই অঞ্চলে বাংলাদেশই প্রথম ঋণ পাচ্ছে। ঋণের প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারিতে পাওয়ার পর প্রতি ছয় মাস পর একটি করে কিস্তি পাওয়া যাবে। পুরো ঋণটি দেওয়া হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। ঋণের সুদের হার হতে পারে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সূত্র জানায়, দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার জন্য গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ আইএমএফ-এর কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে চিঠি দেয়। এর আলোকে গত বছরের ২৬ অক্টোবর আইএমএফ বাংলাদেশে আসে। তারা ৯ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে ঋণবিষয়ক আলোচনা করে শর্তের বিষয়গুলোর কাঠামো তৈরি করে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করার জন্য সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মিসেস অ্যান্তইনেত এম সায়েহ ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন। তিনি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে ঋণ আলোচনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসেন। ইতোমধ্যে আইএমএফ-এর ঋণ পেতে প্রাম্ভিক প্রধান শর্তগুলো সরকার বাস্তবায়ন করেছে। তাদের শর্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হতে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ ও সংস্কারের বিষয়ে দেওয়া শর্তগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে শর্ত অনুযায়ী ঋণ দেওয়া হলেও প্রতি কিস্তির আগে আইএমএফ শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। অর্থাৎ প্রতি কিস্তি ছাড়ের আগেই সরকারকে কিছু শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে ২২ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। কমিটি শর্তগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে কাজ করছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ-এর ঋণ পেলে চলমান বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিছুটা হলেও কাটাতে সহায়তা করবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থা থেকেও ঋণ পাওয়ার বিষয়টি সহজ হবে। কেননা আইএমএফ যখন কোনো দেশকে ঋণ দেয়, তখন অন্য সংস্থাগুলোও ঋণ দিতে আগ্রহী হয়।