রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১৯ ফেব্রুয়ারি

41

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আজ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, যিনি এ নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’। তার কার্যালয়েই (প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসে) নির্ধারিত দিনে অফিস চলাকালে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে। তবে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যাঁকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এবং সে কারণে এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনায় যাঁরা

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি—এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁরা বেশি আলোচনায় রয়েছেন তাঁরা হলেন একজন সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা, দুজন রাজনীতিবিদ, তিনজন সাবেক বিচারপতি এবং একজন শিক্ষাবিদ। রাষ্ট্রপতি পদে এবার প্রথমবারের মতো একজন নারী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ। সংবিধান অনুযায়ী আবদুল হামিদের আবারও রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাধিক্রমে হউক না হউক—দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’ 

১৯৯১ সালে পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তত্কালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন  দেয়। আর ওই সময়ে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছিল বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন।