বাড়ছে আমদানীকৃত ফলের দাম : ক্রেতার নাগালের বাইরে

71

 

পল্লব ব্যানার্জ্জী –

সুস্বাস্থ্য বা মুখরোচক স্বাদের জন্য তাজা ফল কে না খেতে চান। কিন্তু এই সময়ে ফল সবার কপালে জুটছে না। দেশীয় কিছু ফল ছাড়া বেশিরভাগ ফলের দাম মানুষের নাগালের বাইরে।

রাজধানীর নানা জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে, একই ফল ঢাকার স্থানভেদে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফল বিক্রেতারা বলছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ভাড়া বাড়ার কারণে আমদানি করা ফলের দাম বাড়ছে দিন দিন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর, বাড্ডা, গুলশান, কুড়িল, খিঁলগাও, মালিবাগ, রামপুরা, যাত্রবাড়ি ও ডেমরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা আপেল খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। আনারের দাম ৩০০ টাকা থেকে ৬৬০ টাকা। আঙুর কেজি বিক্রি হচ্ছে সবুজ আঙ্গুর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কমলা কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। নাশপাতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায়। ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়। ভালো মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায়।

দাম বাড়ার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে, ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিত্যপণ্যের বাজার আগে থেকেই চড়া। যার কারণে মানুষ দাম শুনে ফল না কিনেই চলে যাচ্ছেন। আবার বিশেষ প্রয়োজনে যারা কেনেন, তারাও অল্প পরিমাণে কিনছেন।

বাড্ডা বাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলী ইমাম বলেন, বাসায় মা-বাবা ও ছোট ছেলে-মেয়ে আছে, তাদের জন্য আগে হরেকরকম ফল নিয়মতি ক্রয় করতাম। এখন তা পারছি না, কারণ ফলের দাম দিন দিন নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। এখন যা দুই-এক জাতের ফল কিনেছি তাও খুব সীমিত পরিমাণে।

ধানমন্ডির খুচরা ফল ব্যবসায়ী ইয়াকুব হোসনে বলেন, ৩-৪ মাস ধরেই আমদানি করা ফলের দাম বাড়তি। চায়না থেকে হানি ফুজি আপেল, ক্রাউন আপেল, গালা আপেল, লুগাম কমলা, ছোট কমলা, নাশপাতি প্রভৃতি ফল আমদানি করা হতো। করোনাভাইরাসের কারণে ফল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে এ সংকট। সেইসঙ্গে ডলারের বাড়তি দাম ও পরিহন খরচ বাড়ার কারণে আমাদেরও পাইকারি বাজার হতে বেশি দাম দিয়ে ফল কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে ফলের দাম চড়া।

রাজধানীর বাদামতলী ফল বাজারের আমদানিকারকরা বলছেন, ফলের আমদানি কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসাও কমে গেছে। ডলারের বাড়তি দাম ও আমদানি কমার কারণে বাজারে ফলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মাঝে একটা সময় এ দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এ জন্য অনেকে মুনাফা কমিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক আমদানিকারক বড় ক্ষতির শঙ্কায় আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশি ফলের মধ্যে আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন (ছোট কমলা), আঙুর ও নাশপাতি আমদানি হয়েছে ৯৩ হাজার ৩৬১ টন। এর আগের বছরের একই সময়ে এই পাঁচ ধরনের ফলের আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৬ টন। অর্থাৎ আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগের ফলে আমদানি কমেছিল ৪৫ হাজার ৯৬৫ টন বা ৩৩ শতাংশ। উল্লিখিত পাঁচ ধরনের ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি কমেছে আপেল, কমলা ও আঙুরের।

দেশে ডলার সংকট দেখা দেওয়ায় গত বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ফল আমদানিতে নিরুৎসাহিত করতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরে ফল আমদানিতে ঋণসুবিধাও বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে আমদানিকারকদের নগদ টাকায় ফল আমদানি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইল বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ফলের দাম বাড়লে সবাই আমাদের দোষারোপ করেন। আমাদের কী করার আছে, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফলের দাম বেড়েছে। ডলারের দাম বাড়ায় শুধু ফল নয়, সব জিনিসের দাম বেড়েছে।