সরকারি কর্ম কমিশন বিল পাস, প্রশ্নপত্র ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড

110

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) পরিচালিত পরীক্ষায় ভুয়া পরিচয়ে অংশ নিলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বিল’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে স্পিকার বিলে ওপর বিরোধী দলের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন।

সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, কমিশন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেয় সরকার। সেখান থেকে জটিলতা শুরু হয়। নিয়োগে অনিয়ম হয়। নিয়োগকৃতরা সঠিক প্রশিক্ষণ পান না। তাঁরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সংকট তৈরি হয়। তাই সংবিধান অনুযায়ী কমিশন গঠনের বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।

সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, সংবিধানে কর্ম কমিশন আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বলা হয়েছে। অথচ বিলে ধরেই নেওয়া হয়েছে, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম-দুনীতি হবে। যে কারণে বারবার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অনিয়ম করবেন-এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

৪০তম বিসিএসের নন ক্যাডারদের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁদের নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বা প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো সাজার বিধান ছিল না। নতুন আইনে সেটি যুক্ত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেবে হাজির করলে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে বা কোনো কল্পিত নামে পরীক্ষায় অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ড।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পরীক্ষার জন্য প্রণীত কোনো প্রশ্নসংবলিত কাগজ বা তথ্য, পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে বলে মিথ্যা ধারণাদায়ক কোনো প্রশ্নসংবলিত কাগজ বা তথ্য অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে বিবেচিত হওয়ার অভিপ্রায়ে কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য যেকোনো উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এই অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হবে।

বিলে বলা হয়েছে, একজন সভাপতি অন্তত ছয়জন এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। প্রজাতন্ত্রের জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান সাপেক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করতে পারবে এই কমিশন।