বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চায় বীমা কম্পানি

171

শেয়ারবাজারে বীমা কম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্য জানতে দেশের ২৬টি বীমা কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল বুধবার কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে এ বৈঠকটি হয়।

তবে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের নিশ্চয়তা চেয়েছে বীমা কম্পানিগুলো।

অস্থির পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয় তারা। তারা বলেছে, বিনিয়োগকারীদের আমানত নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। ২৬টি বীমা কম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ছাড় দিয়ে ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিএসইসি। প্রজ্ঞাপন অনুসারে কম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকার তহবিল তুলতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কম্পানিগুলোকে তাদের ইক্যুইটির ন্যূনতম ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে।  

 

kalerkanthoকিন্তু কম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ও ইক্যুইটির ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ—এ দুটির কোনোটিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায় তাদের ডেকে বক্তব্য নেয় বিএসইসি।

বৈঠকে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানকে এখানে ডাকা হয়েছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ’

শেয়ারবাজারে সর্বমোট তালিকাভুক্ত বীমা কম্পানির সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার কম থাকা এমন ২৬টি বীমা কম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ইক্যুইটির ২০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করার শর্তে ছাড় প্রদান করে বিএসইসি।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, শেয়ারবাজারে চলমান মন্দা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বীমা কম্পানির বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আইডিআরএ চেয়ারম্যান ছাড়াও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন ১৯টি বীমা কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলো অন্যতম। আমাদের দেশেও ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলো বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে। ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলো যদি মৌল ভিত্তি দেখে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে, তবে অন্য যেকোনো বিনিয়োগের তুলনায় এখানে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। ’

ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্সের সিইও তালুকদার জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলোর ২০ শতাংশ বিনিয়োগের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। তবে বিনিয়োগের অর্থ যে ফেরত পাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য আমরা স্থিতিশীল পুঁজিবাজার প্রত্যাশা করছি। ’