নির্বাচনে হেরে ইউপি সদস্যকে প্রহার:এলাকায় অস্থিরতা বিরাজমান

153

জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে হেরে গিয়ে আতাউর রহমান সাজু নামে এক পরাজিত প্রার্থী ভোটের টাকা ফেরত চেয়ে জোড়াবাড়ী ইউপি সদস্য আব্দুল খালেককে গ্রাম আদালতের ভিতর ঢুকে মারধর করে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিতর অবস্থিত গ্রাম আদালতে এই ঘটনাটি ঘটে। এ সময় গ্রাম আদালত চলমান থাকায় গ্রাম আদালতের ভিতর বিচার প্রার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে।
স্থানীয়রা ইউপি সদস্য আব্দুল খালেককে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্ত্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আতাউর রহমান সাজু সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন। তিনি জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মোঃ আজিজুল ইসলামের ছেলে। ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক ৩ নং ওয়ার্ড আইজার মিয়ার হাটের মোঃ মফিজুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়,গত ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে আতাউর রহমান সাজু ৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী প্রার্থী মনজুর আহম্মেদ ডনের কাছে পরাজিত হন। ভোটে হারার পর থেকে পরাজিত প্রার্থী সাজু জোড়াবাড়ী ইউপি সদস্যদের সাথে বিভিন্নভাবে খারাপ ব্যবহার ও হুমকি দিতে থাকেন।

ইউপি সদস্য আকবর আলী জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক জোড়াবাড়ী ইউপি ভবনে প্রবেশ করে গ্রাম আদালতের ভিতর চলে যান। এর কিছুক্ষন পরেই হাতে লাঠি সোঠা নিয়ে গ্রাম আদালতে প্রবেশ করেন সাজু ও তার বড়ভাই। এ সময় তাদের সাথে আরো কিছু লোক ছিল। তারা লাঠি নিয়ে গ্রাম আদালতের ভিতরেই ইউপি সদস্য খালেককে মারধর ও তার পকেটে থাকা জমি রেজিষ্ট্রির টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর তারা গ্রাম আদালতের ভিতর থেকে ইউপি সদস্য খালেককে বের করে এনে ইউপি ভবনের সামনে মারতে থাকে। খবর পেয়ে ইউপি সদস্যরা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যান।

ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল জানান, এর আগে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরন করেন। মহিলা ইউপি সদস্য ও সাজুর সমর্থনকারী গোলাপী বেগম জানান, ভোটে হারার পরে সাজু তার স্বামীকে আটক করে আমার বিরুদ্ধে নানা কটু কথা বলেন। এমনকি আমাকে ধর্ষন করারও হুমকি দেন তিনি।
মহিলা সদস্য খাদিজা জাহান বলেন, আমার স্কুলে তিনি মোটর সাইকেল নিয়ে প্রবেশ করে উচ্চস্বরে হর্ণ বাজিযে আমাকে নানা হুমকি দিযে চলে যান। ইউপি সদস্যরা জানান, ইউপি ভবনের ভিতর ইউপি সদস্যকে মারধরের ঘটনায় সাজুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে তারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র বলেন, ভোটে হারার পর থেকেই সে আমাদের নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকেন। আজকে সে ইউপি ভবনের ভিতরে এসে ইউপি সদস্যকে মারধর করেছেন। তার এত সাহস হয় কিভাবে। আমরা তার গ্রেফতার দাবী করছি। জেলা পরিষদ সদস্য মনজুর আহম্মেদ ডন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইউপি সদস্যকে ইউপি ভবনের ভিতর মারধর করার সাহস তিনি কিভাবে দেখান। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জানার জন্য সাজুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন বাবু ইউপি সদস্য আব্দুল খালেককে মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আতাউর রহমান সাজুর বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।