আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর : বাংলাদেশকে ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ৫১ বছর পূর্তি

244

আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর । বাংলাদেশকে ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ৫১ তম বছর পূর্তির দিন।

বাংলাদেশের ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন। এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারিত হয়। এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ হিসেবে অভিহিত হবে। আমি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তাদের অন্যান্য সহকর্মীদের কাছে আমাদের ঐকান্তিক সংবর্ধনা ও আন্তরিক অভিবাদন পৌঁছে দিই।’ ইন্দিরা গান্ধী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সময়ে আরও অনেক রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে এবং শিগগির জাতিসংঘে বাংলাদেশ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে।’

এদিন ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক তারবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তার তারবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন জানাচ্ছে। তার এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত আমাদের বিজয়ের পথে অনেকখানি পথ ধাবিত করলো।’ ভারত সরকার বাংলাদেশের ন্যায় সঙ্গত মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন করায় ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বন্ধুত্ব শান্তি ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।’এ স্বীকৃতি দানের কয়েক ঘণ্টা পরেই কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হোসেন আলী বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন৷ এরপর তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর বীর সৈনিকেরা যেভাবে এগিয়ে এসে বাংলাদেশকে বিজয়ের দিকে অগ্রসর করেছেন তা অতুলনীয়৷ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে তাদের ত্যাগ ও রক্তের ফলে যে বন্ধন গড়ে উঠেছে তা চিরকাল অটুট থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় হয় । প্রশিক্ষণ দেয় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের । এযুদ্ধে ভারতের প্রায় ছয় হাজার সৈন্য হতাহত হয় ।

এই দীর্ঘ ৫১ বছর সম্পর্কের পরীক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব আজ উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়িয়েছে। আজ ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘গোল্ডেন এজ’ বা ‘সোনালি অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করছে দুই দেশই।বাংলাদেশ ভারতের জন প্রকিবেশী ঘনিষ্ঠ বন্ধু । গত দুই যুগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গঙ্গার জল বন্টন চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিরোধ মিমাংসা সহ দুই দেশের যোগাযোগ, জ্বালানী, প্রযুক্তিতে নানা নতুন দার উন্মোচিত হয়েছে ।
আজকের এ ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণ করতে ভারত – বাংলাদেশ সম্প্রীতি রক্ষায় নানা সংগঠন আলোচনা সভা ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক উৃৎসবের আয়োজন করেছে।

দিনটি স্মরণ করে বীর ও মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার এ এস এম সামছুল আরেফিন আজকালকে বলেন , ৬ই ডিসেম্বর ‘৭১ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনের ভাষণে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেন। ১১ দিনের এক সমন্বিত যুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী সার্বিকভাবে পরাজিত হয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর ‘৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে “যৌথ বাহিনীর” কাছে আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সহযোগিতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর এই অবদান বাংলাদেশের জনগণের মনে চির জাগ্রত থাকবে ।