বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে

282

রিয়াজুল ইসলাম: প্রত্যেক জাতির যেমন একজন শ্রেষ্ঠ পুরুষ থাকে, তেমনই বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ পুরুষ হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে যার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অসাধারণ দেশপ্রেম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি তাই ভালোবেসে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। স্বাধীনতার পর তাকে ‘জাতির পিতা’-র মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কলকাতা শহরে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং এ কে ফজলুল হকের মতো চিন্তানায়কদের সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৪২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে পাঠ গ্রহণের জন্য কলকাতায় আসেন বঙ্গবন্ধু। ভর্তি হন বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে, যা বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ। ইসলামিয়া কলেজে শেখ মুজিব খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি অফিসিয়াল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাদের পরাজিত করেন। ইসলামিয়া কলেজের মত মুজিব ছিলেন বেকার হোস্টেলে অত্যন্ত জনপ্রিয়, সবসময় গরিব ছাত্রদের যথাসাধ্য দেখভাল করতেন। ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি এই হোস্টেলের ২৪ নং কক্ষে থাকতেন। এই কক্ষটি ছিল দুর-দুরান্ত হতে কলকাতায় আগত ছাত্রদের আশ্রয়স্থল এবং মুজিবের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র। ১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর সম্মানার্থে ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষকে একত্র করে “বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ” তৈরি করে।

চল্লিশের দশকে এই তরুন ছাত্রনেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী’র সংস্পর্শে এসে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪৮ সালে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’, ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলন’, ‘৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন’, ‘৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন’, ‘৬৬ এর ৬ দফা’, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০ এর নির্বাচনসহ’ বাঙ্গালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। কিন্তু বাঙ্গালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো শাসকগোষ্ঠীর সাথে আপস করেননি। 

বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙ্গালির আবেগ ও আকাঙ্খাকে ধারণ করে বজ্রকন্ঠে ঘোষনা করেন ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ যা ছিল বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতার ডাক। যুগের দাবিকে সাহসে ও শোর্যে ভাষা দিয়েছিলেন তিনি দখলদার বাহিনীর কামান, বন্দুক ও যুদ্ধবিমানের যেকোন মুহুর্তে গর্জে ওঠার ভয়াল পরিস্থিতির মুখে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর আক্রমন চালায় এবং শেখ মুজিবকে বন্দি করে পাকিস্তানের কারাগারে প্রেরণ করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৫শে মার্চ২ রাত ১২ টা ২০ মিনিটে জাতির পিতা ঘোষনা করেন বাঙ্গালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতা। 

“This may be my last message, today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever I might be with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড ছিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদর দপ্তর। এখান থেকেই কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ক্যাবিনেট, মুক্তি বাহিনীর প্রধান কর্ণেল ওসমানি। নয় মাস ধরে মুক্তি সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করেন, রাষ্ট্রনেতাদের কাছে বাংলাদেশের সমর্থনে গনহত্যা বন্ধ, বাংলাদেশের স্বীকৃতি, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য প্রচেষ্টা চালান। 

১৯৭২ সালের ০৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের পরিণতি কথা চিন্তা করে ও আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধু ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন গমন করেন এবং ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাত করেন। লন্ডন থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরছিলেন, সে সময় তাঁর সফরসূচিতে কলকাতায় যাত্রাবিরতির কথা ছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য তা হয়নি। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় নগরীতে তিনি আবার আসবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় আসেন বঙ্গবন্ধু। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২, এ দিনটি কলকাতাজুড়ে কেবলই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর ও বিদেশ সফর। পরের দিনের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর বলছে, কলকাতার সব পথ সেদিন মিলেছিল প্যারেড গ্রাউন্ডে। বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন, সেই ভাষণ কেবল সেই নির্ধারিত ময়দানে নয়, সারা কলকাতা ও হাওড়ার ১০টি পার্কে লাখো মানুষ শুনছিল।  

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিচালিত নয় মাসব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সমগ্র বাংলাদেশের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। শেখ মুজিব এই ধ্বংসযজ্ঞকে “মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ধ্বংসযজ্ঞ” হিসেবে উল্লেখ করে ৩০ লাখ মানুষ নিহত ও ২ লাখ নারীর ধর্ষিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশ পুনর্গঠনের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হাতে নেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়  প্রতিষ্ঠাসহ ৪০০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা এবং ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্সের প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলা পূর্বক একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালান। অতি অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। 

চার বছরের কম সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে যে সাফল্য এনেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অদ্বিতীয় হয়ে আছে। যেসব দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গেও তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এমনকি পাকিস্তানের স্বীকৃতিও আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। “কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব” ছিল বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গড়ে ওঠে। মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি জাতিকে উপহার দেন বাংলাদেশের সংবিধান। 
    
কিন্তু, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল বিপদগামী সেনা রাষ্ট্রপতির ধানমন্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার এবং ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে। শুধুমাত্র তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় ঘাতকরা তাঁদেরকে হত্যা করতে পারে নাই। ঘাতকরা তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ অর্জন করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল: ভারতের সঙ্গে সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। এছাড়া, তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসা সেবার জন্য সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ, ইত্যাদি। ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এরফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্তি, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন ইত্যাদি। এছাড়াও মেট্রোরোল, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজও নিরবিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে  যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়াবে, ইনশা আল্লাহ। 

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ এক অভিন্ন সত্তায় পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে যার নাম উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দুরদর্শী, বিচক্ষণ এবং সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশর স্বাধীন হয়েছিল। বাঙ্গালি জাতি, বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আদর্শ বাঙ্গালি জাতির চিরন্তন প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌছোতে হয়। ঘাতকের নির্মম বুলেট তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিলেও পারে নাই তাঁর আদর্শকে মুছে দিতে। তাঁর দেখানো পথেই তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

লেখক: কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া), বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশন, কলকাতা।