কাকে ভোট দিলেন নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেন?

116

ভারতের লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনে বরাবরই ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেন। এবারও বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাটের মেহসানা জেলার উঞ্ঝায় ভোট দিয়েছেন সোমবার দুপুরে।

গুজরাটে দ্বিতীয় দফার ভোট ছিল সোমবার। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ যশোদা উঞ্ঝারই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন।

বেলা ১২টা নাগাদ আত্মীয়দের সঙ্গে স্থানীয় রঘুভাই সভাভাই পরমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি।

সেখান থেকে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন যশোদাবেন। কাকে ভোট দিলেন, সে প্রশ্নের সরাসরি জবাব সযত্নে এড়িয়ে সহাস্যে যশোদা বলেছেন, কাকে দিলাম (হাসি)? প্রতি বারই ভোট দিই। তাই এ বারেও ভোট দিলাম। প্রার্থনা সবার জন্যই। সবাই যেন ভালো থাকেন, তার জন্য।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচনের ফল বের হওয়ার দিন পুরো ভারত যখন টিভির সামনে, তিনি তখন গিয়েছিলেন আম্বাজি মাতার মন্দিরে। পূজা দিয়ে প্রার্থনা করছিলেন।  

ওই সময় যশোদা জানিয়েছিলেন, মোদির নেতৃত্বে তিন শতাধিক আসন নিয়ে যেন কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসে, সেই প্রার্থনা করেছিলেন। উঞ্ঝার ওই মন্দিরে আম্বাজির পাশাপাশি মহাকালেশ্বরের লিঙ্গও রয়েছে। সে বার তার কাছেও প্রার্থনা করেছিলেন যশোদা।  

ঘটনাচক্রে, বিজেপি প্রাথমিকভাবে গত লোকসভা ভোটে একাই ৩০৩টি আসন পেয়েছিল। গুজরাট বিধানসভা ভোট সাধারণত ‘মোদির পরীক্ষা’ বলেই পরিগণিত হচ্ছে।  

কারণ, একে তো রাজ্যের নাম গুজরাট। যেখানে পর পর তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন মোদি। বিধানসভা ভোটেও মোদিই গুজরাটে ‘বিজেপির মুখ’। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট। যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি তৃতীয় বারের জন্য ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। ভোট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গুজরাটের ভোটের ফলাফলের প্রভাব লোকসভা নির্বাচন এবং মোদির ওপরও পড়বে। তাই গুজরাট ভোটের প্রচারে মন দিয়েছিলেন মোদি। ঘটনাচক্রে, সোমবার মোদিও ভোট দিয়েছেন গুজরাটে। গুজরাটের পাশাপাশিই বিধানসভা ভোট হয়েছে হিমাচল প্রদেশেও। কিন্তু যাবতীয় উৎসাহ গুজরাট নিয়েই।

হিমাচল প্রদেশের পাশাপাশি ৮ ডিসেম্বর গুজরাট ভোটেরও ফলপ্রকাশ। সে দিনও কি যশোদা মহাকালেশ্বরের মন্দিরে যাবেন? যশোদা এ বারও হেসেছেন। পাশ থেকে তার ভাই অশোক মোদি বলেন, সে তো প্রতি সপ্তাহেই মন্দিরে যায়।

সোমবার রঘুভাই সভাভাই পরমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়ে স্থানীয় অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে যশোদার। তবে রাজনীতির কথা কিছুই হয়নি বলেই জানিয়েছেন তার ভাতিজা রাকেশ মোদি।  

তিনি বলেন, এমনিতেই আমার ফুফু খুবই কম কথা বলেন। যারা এসেছিলেন ফুফুর সঙ্গে কথা বলতে, তিনি সকলের সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলেছেন।

খাতাকলমে যশোদা বেন ‘মোদির স্ত্রী’ হলেও বাস্তবে তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আর কোনো যোগাযোগ নেই। মোদির জীবনীকারদের লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, অল্পবয়সে বিয়ে করলেও তার অল্পদিন পরই সঙ্ঘের প্রচারক হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন মোদি। সংসার ধর্ম করেননি।  

নিজেকে ‘রমতা যোগি’ বলেই পরিচয় দিয়ে থাকেন মোদি। যশোদাবেন বেশ কয়েক বছর ধরেই উঞ্ঝায় ভাই অশোকের বাড়িতেই থাকেন। অশোকের ছেলে রাকেশ জানান, তার ফুফু রোজকার মতো সোমবারও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে পূজাঅর্চনা করেছেন বাড়িতে। তার পর দুপুরের খাবার খেয়ে গিয়েছিলেন ভোট দিতে।
সূত্র: আনন্দবাজার।