যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্থগিতের পরামর্শ ট্রাম্পের

105

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিলুপ্তির পরামর্শ প্রদানের মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে বিজয়ী ঘোষণার অযৌক্তিক দাবি পূরণ না করায় পুনরায় ট্রাম্প এমন উদ্ভট এবং অবিশ্বাস্য বিবৃতি প্রদান করায় রিপাবলিকান শিবিরেও ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে। এমন মন্তব্য করায় অনেক রিপাবলিকানই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষ ত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। ডেমোক্রেটরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এমন অগণতান্ত্রিক মতামত ব্যক্ত করার জন্যে।

শনিবার ট্রাম্প এমন বিবৃতি উপস্থাপন করেন তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে। ট্রাম্প বলেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করা হোক অথবা পুনরায় নির্বাচন দেয়া হউক। এমন একটি বিশাল জালিয়াতিকে প্রশ্রয় দিয়ে ঠিক করেনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তিধর-সংবিধান। এজন্যে তিনি সংবিধানকে স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নিউইয়র্ক পোস্ট একটি সংবাদে জো বাইডেনের পুত্র হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপের উদ্ধৃতি দিয়েছিল। সেই সংবাদের লিঙ্ক টুইটার থেকে সরানোর ঘটনাটি সঠিক ছিল না বলে শুক্রবার রাতে টুইটার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হয়েছিলেন-এমন প্রচারণা গত দু’বছর ধরেই চালাচ্ছেন ট্রাম্প ও তার কট্টর ভক্ত-সমর্থেকরা। আইনি পথেও হেঁটেছেন কিন্তু কোথাও ট্রাম্পের পক্ষে কোনো রায় আসেনি। তার পরও হরদম দাবি করে চলেছেন যে, নির্বাচনে তার বিজয়ের ফলাফল ছিনতাই করা হয়েছে। এমনি অবস্থায় সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ট্রাম্প সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ সেই নির্বাচনে জয়ী হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে শপথ নিতে হবে যে, সংবিধানকে সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর থাকবেন।  তা সত্ত্বেও তিনি সংবিধানকে আক্রমণ করে এমন মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র এ্যান্ড্রু বেটস এ প্রসঙ্গে রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, সংবিধানকে আক্রমণ করার অর্থ হচ্ছে জাতির অস্তিত্বে আঘাত করা এবং প্রতিটি নাগরিকেরই এমন মতামত ব্যক্তকারির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত।

রিপাবলিকান পার্টির অনেকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্পের এমন মন্তব্য। নিউইয়র্ক থেকে গত নির্বাচনে বিজয়ী রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললার গণমাধ্যমে বলেছেন, আমি অবশ্যই এমন উদ্ভট মতামতকে সমর্থন করতে পারি না। প্রতিটি আমেরিকানের অধিকার রক্ষা করার জন্যেই সংবিধান প্রণীত হয়েছে।

রিপাবলিকান পার্টির নীতি-নির্ধারকের কয়েকজন নাম গোপন রাখার শর্তে বলেছেন, সস্তা পাবলিসিটির জন্য মরিয়া হয়েই ট্রাম্প পাগলের প্রলাপ করছেন। এমন মানুষকে গণতন্ত্রের পূজারি ভাবা যাবে না। সামনের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তা সকলকে সতর্কতার সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে।