জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধন কাল, বিনিয়োগ হবে ১৫০ কোটি ডলার

বিনিয়োগে আগ্রহী ৪০ বিদেশি কম্পানি

137

দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী কাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল)’। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করবেন।

এরই মধ্যে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণকাজ শুরু করেছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সিংগার, চুক্তি হয়েছে জার্মান কম্পানি রুডলফের সঙ্গেও।

পুরো অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রতি ডলার ১০৫ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

গতকাল রবিবার নগরের বেজা কার্যালয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সঙ্গে এ মতবিনিয়মসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন ডিজেএফবির সভাপতি হামিদ-উজ-জামান এবং বাংলাদেশ এসই জেপ লিমিটেডের এমডি তারোকাওয়াচি। এ সময় বেজার সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের উন্নয়নকাজ স্থবির হয়ে পড়লেও বেজা তার উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে প্রথমবারের মতো চারটি শিল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। যার মধ্যে ছিল ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন স্টিল, বাংলাদেশ ম্যাকডোনাল্ড ও টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর পাশাপাশি আরো ৪০টি বিদেশি কম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী। ’ 

তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণকাজ শুরু করেছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সিংগার, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে জার্মান কম্পানি রুডলফের সঙ্গে। উদ্বোধনের দিনই আগামী ০৬ ডিসেম্বর এ জোনে দুটি জাপানিজ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া আরো প্রায় ৩০টি জাপানি এবং অন্যান্য দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন। খুব শিগগির বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পুরো অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে এখানে আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হবে বলে আশা। এ ছাড়া এখানে প্রাথমিকভাবে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পথচলা শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর ২০১৪ সালে জাপান সফরের মাধ্যমে।

বেজা ২০১৯ সালে প্রস্তাবিত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করে। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৫০০ একর ভূমির উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক, নিশ্চিত করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।