মুক্তিযুদ্ধে ভারত : ঐতিহাসিক ও রক্তের সম্পর্কের ৫১ বছরের পথ চলা

288

জয়ন্ত আচার্য – 

বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক সর্বোপরি ৭১ এর রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশি দুটি দেশ বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক অবেগের ও বন্ধুত্বের। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের চারদিকে ভারতের অবস্থান। দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, মানুষের ভাবাবেগ ও স্বার্থের এক অসাধারণ সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নানা টানাপোড়নের মধ্য আজ সোনালি অধ্যায়ে পৌছিয়েছে।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের বিভাজনের পর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি যে নিজস্বতা হরণের হিং¯্র ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ছিল সে অমানবিকতার শেষ দৃশ্যপট ছিল ১৯৭১ সাল। অসহায়ত্বের শেষ সীমানায় সেদিন গর্জে উঠেছিল বাঙালি। তার নেতৃত্বে ছিল প্রবল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই ৭১ এর ৭মার্চ তার বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল-‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই আহবানে সারা দিয়ে একত্রিত হয়েছিল বাঙালি, বাঙালি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে লড়েছিল, জিতেছিল এবং গড়েছিল উজ্জ্বল ইতিহাস। বাঙালি প্রতিষ্ঠা করেছিল বাংলাদেশ নামক নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র ।


পুরাতন একটি প্রবাদ আছে ‘বিপদের দিনে বন্ধু চেনা যায়’, ঠিক তেমনি ১৯৭১ সালে বিভীষিকাময় দিনগুলো বাঙালিকে তার বন্ধু এবং শত্রু দুটোই চিনে ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের হায়েনাদের অমানবিক অত্যাচার আশ্রয়হীন, বস্ত্রহীন এবং অন্নহীন করেছিল বাঙালিদের। নরপিশাচের মতো হত্যা খেলায় মেতে উঠেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেদিন। সেদিন সেই আশ্রয়হীন, বস্ত্রহীন, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারত। এক কোটির অধিক শরণার্থীকে সেদিন খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়েছিল ভারত। মুক্তিযোদ্ধাদের সেদিন ট্রেনিং ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বন্ধুদেশ ভারত। শুধু তা-ই নয়, যুদ্ধে সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতা ও সকল বাধাবিপত্তি অগ্রাহ্য করে এক হয়ে বাঙালির পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। যার কারণে মাত্র নয় মাসে জয় পেয়েছিল বাঙালিরা, গড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পৃথিবীর শক্তিধর অধিকাংশ দেশই বিরোধিতা করেছিল বাংলাদেশের। শুধু বিরোধিতাই নয়, অস্ত্র দিয়েও সহযোগিতা করেছিল পাকিস্তানকে। পক্ষান্তরে সেদিন নিরীহ মানুষদের আশ্রয় বা মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র কিংবা সহযোগিতা করেই ক্ষান্ত ছিল না বন্ধু ভারত। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব পরিমন্ডলে সমর্থন জোগাতে যে ধরনের ‘ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাপ্রোচ’ করেছিল ভারত, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে সরব ও চাপ প্রয়োগের অন্যতম কারিগর ছিল ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতারযুদ্ধে ভারতের প্রায় আট হাজার সৈন্য হতাহত হয় । জেনারেল জ্যাকব তার লেখা Surrender at Dacca Birth of Nation বইয়ে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যা লিখেছেন পাঠকদের অবগতির জন্য তা তুলে দেয়া হলো : ‘পূর্ব রণাঙ্গনে পাকিস্তানিদের ক্ষয়ক্ষতি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার সৈন্য নিহত ও আহত হয়। বাঙালি জাতি ভারতের এ রক্তের সেই ঋণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে বিজয় লাভের ঠিক পূর্বে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। সেদিন ভুটানও স্বীকৃতি দেয়, যার মূল কারিগর ছিল ভারত। এই দুই দেশই সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে।
প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু বারবার বলে গেছেন ভারতের কথা। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে তার লক্ষ জনতার সমাবেশে তার অবেগময় বক্তব্যে বলেন, বর্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমার দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার ও তার জনসাধারণ নিজেদের অনেক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও এই ছিন্নমূল মানুষদের দীর্ঘ নয় মাস ধরে আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে। এজন্য আমি ভারত সরকার ও ভারতের জনসাধারণকে আমার দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমার অন্তরের অন্তস্থল হতে ধন্যবাদ জানাই। এরপর ১৯৭২ সালের ৭-ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু একইভাবে বলেন- ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে। বিশ্বের কোনো শক্তিই পারবে না এই মৈত্রীতে ফাটল ধরাতে। ভারত-বাংলাদেশ ভূখন্ডে আর সা¤্রাজ্যবাদের কোন খেলা চলতে দেয়া হবে না।’
কার্যত স্বাধীনতা অর্জনের পরই বাংলাদেশ বিনির্মানে সহযোগিতার হাত বাড়ায় ভারত সরকারের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে ‘দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও নিরাপত্তা’ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের সরকার প্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক ২৫ বছর মেয়াদি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে। ১৯৭৩ সালে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭২ সালে মৈত্রী চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের চুক্তি যথার্থ ছিল বলে মতামত ব্যক্ত করেন বোদ্ধারা। উভয় দেশই পরস্পরের ভৌগোলিক সীমারেখা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। দুই দেশের মানুষ যখন তাদের ইতিহাস-ভূগোল-সংস্কৃতির এক অপূর্ব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সম্পর্ককে এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চলেছিল, ঠিক তখনই স্বাধীনতার পরাজিত প্রতিক্রয়াশীল শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে । রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ক্ষমতার দখল নেয় । ক্ষমতায় এসেই তারা শুরু করে ভারত বিরোধিতা এবং জাগিয়ে দেয় সাম্প্রদায়িক উসকানি। যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম এবং বিনষ্ট হয় একাত্তরের মিলিত রক্ত¯্রােতে পাওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসন এবং সামরিক সমর্থনপুষ্ট সরকারের স্টিমরোলারে ধ্বংস হয় বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধে সকল মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং অধিকার। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি অন্যান্য সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর থেকে জিয়া-এরশাদের বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চলতে থাকে। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শুরু হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত মূলত এই সময় থেকে তথা ১৯৯০ সালের পর থেকে সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ৯৬ সালে নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন। তখন আবার শুরু হয় ভারত বাংলাদেশের নবতার যাত্রা ।

ক্ষমতায় এসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের সম্পর্ক পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে বাড়িয়ে দেন বন্ধুত্বের হাত। যার অন্যতম ফল হিসেবে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি হয়। সে সময় বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও সাধিত হয়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ভারতের সহায়তা ছাড়া অসম্ভব ছিল। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নতুন নতুন যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তা আর বেশি দিন সম্ভব হয় না। আবারও শুরু হয় ষড়যন্ত্র। ক্ষমতায় এলো একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামাত নিয়ন্ত্রিত বিএনপি জোট । তারা পরিকল্পিত ভাবে দুই দেশের সম্পর্ক বৈরি করে তুললো ।
আবারও সকল দুর্যোগ সামাল দিয়ে ২০০৮-এর শেষে ক্ষমতায় ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যার মধ্য দিয়ে আবারও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নের একটি নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে অর্থনৈতিক বিনিময় বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ত্বরান্বিত হয়। শেখ হাসিনা সরকারের জোরালো সাম্প্রদায়িক বিরোধী অবস্থান ভারতীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ উত্থানের সম্ভাবনাকেও তিনি শক্ত হাতে দমন করেন। যার ফলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করার দুর্লভ সুযোগ লাভ করে। ফলশ্রুতিতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ট্রানজিট সুবিধা, সীমান্ত সমস্যার সমাধান, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ দান, যৌথ সমর্থনে ভুটান-নেপাল ট্রানজিট সুবিধা, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত স্থলসীমানা চুক্তি, ১৯৭৪-এর প্রটোকল স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে স্থলসীমানা চুক্তির অনুসমর্থন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদীর্ঘ প্রচেষ্টারই সুফল। ইন্সট্র–মেন্ট অব রেটিফিকেশন এবং লেটার অব মোডলিটিস স্বাক্ষরের মাধ্যম তৎকালীন ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের এবং আমাদের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়। ৬৮ বছরের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হয়। ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে এর আগে নাগরিকত্বহীন ৫০,০০০ এর বেশি মানুষ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাগরিকত্ব লাভ করে। এই মাইলস্টোন ঘটনাটি ঘটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত আগ্রহে। তিনি ২০১৫ সালের ৬-৭ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরে সর্বমোট ২২টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা ও সমুদ্রসীমা শান্তিপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
তবে মনে রাখা দরকার, ২০১১ সলের ৬-৭ সেপ্টেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরের ঐতিহাসিক সাফল্য হচ্ছে, এর সুবাদেই ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ঘটে যার ফলে ভারতে কংগ্রেসের উভয় পক্ষ অর্থাৎ লোকসভা ও রাজ্যসভায় চুক্তির রেটিফিকেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এ সাফল্যের কারণেই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা নির্ধারণ ও ছিটমহল বিনিময় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। অবশ্য নরেন্দ্র মোদির আমলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশের সুযোগের কারণে (সাফটা নেগেটিভ লিস্ট এর ২৫ ধরনের আইটেম ব্যতীত) ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে গতিশীলতা এসেছে।


দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়টির উল্লেখ করে বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়িতে (বাংলাবান্ধার বিপরীতে) ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু করা হয়। স্থল শুল্ক স্টেশন/স্থল বন্দর এবং অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে দু’দেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে এ সব পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেেেছ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল রুট সম্পর্কিত প্রটোকল, ঢাকা-গৌহাটি-শিলং এবং কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি দেশ দু’টির আন্তঃযোগাযোগ সম্প্রসারণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের ঢাকা ও কলকাতায় প্রান্তীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চলছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশের মানুষেরই ভিসা প্রাপ্তি সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর ১৫ লাখ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা প্রদানসহ অনেক উল্লেখযোগ্য বিষয় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৪ বছরের শাসনামলের খতিয়ানে। এখন রেল, বিমান ও বাস যাত্রার তারিখ উল্লিখিত টিকিট দিয়ে কোনো ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। যদিও এ যোগাযোগ গত দুই বছর করোনার কারণে থমকে গিয়েছিল। এখন হাইকমিশনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ভারতের হাসপাতাল/ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে সরাসরি মেডিক্যাল ভিসার জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা ইস্যুর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জনযোগাযোগ তথা কূটনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভারত বাংলাদেশের খুলনা ও সিলেটে এবং বাংলাদেশ ভারতের মুম্বাই ও গৌঁহাটিতে উপ-হাইকমিশন চালু করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারতের গোয়াতে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোতে মানসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। পুনরায় ২০১৮ সালের ২৫-২৬ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদির আমন্ত্রণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন।
এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় ভারত সফর। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থায়নে নবনির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবর্তনে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে যোগদান করেন।
সফরকালে আসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি. লিট) উপাধিতে ভূষিত করে। ভারত সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বারোপের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারতের সাথে আজ সহযোগিতার এক অনন্য অবস্থানে উপনীত হয়েছি।
ভারত থেকে ভেড়ামারা-বহরমপুর গ্রিডের মাধ্যমে এবং ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্তমানে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ প্রথমবারের মত বাংলাদেশ রেলপথে ভারত থেকে ২২৬৮ মেট্রিকটন হাই-স্পিড ডিজেল আমদানি করে। ইতোমধ্যে দু’দেশের মধ্যে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
পাশাপাশি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর শক্তি ও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে দু’দেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্সে বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালন করবে।
ভারতের সঙ্গে ‘তিস্তাচুক্তি’ সম্পন্ন না হলেও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য সুপেয় ও নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিতকরণ ভারত-বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারবদ্ধ। দুই পক্ষই অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বন্টন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
২০২০ ও ২০২১ সাল ছিল করোনা মহামারীর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বছর । তবে এর মাঝেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাল সহযোগিতামূলক লেনদেন গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশই প্রধম প্রতিবেশী দেশ, যাদের সঙ্গে ভ্যাকসিন দেওয়ার চুক্তি করেছে ভারত। এতে বাংলাদেশকে যে ভারত কতটা গুরুত্ব দেয়, তা পরিষ্কার হয়েছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকায় এসে বলেছিলেন, ‘ভারতের কাছে প্রতিবেশী প্রথম। আর প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।’ যা এই চুক্তির মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনা মোকাবিলায় চীনের আগে এদেশে এসেছে ভারতের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা সরঞ্জাম। ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৫ হাজার হেড কভার ছিল আমাদের জন্য মূল্যবান। এই উপহার ছিল করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার প্রশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অংশ হিসেবে এবং কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ করার জন্য একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ নিতে ১৫ মার্চ ২০২০ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য সার্ক নেতৃবৃন্দ একটি ভিডিও সম্মেলন করেন।
২০২১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ উদযাপন করছে তার জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ। ঠিক সেই সময়ই বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৭ মার্চ (২০২১) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০ তম জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় টুইট করে লিখেছেন, ‘মানবাধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। সকল ভারতীয় নাগরিকের কাছেও তিনি একজন বীর হিসেবে গণ্য হন।’ অন্যদিকে গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে দশ দিনের অনুষ্ঠানমালার পাঁচ দিনের আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিবেশী পাঁচ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান; যার মধ্যে নরেন্দ্র মোদিও ছিলেন। এই সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মোদি টুইটে লিখেছেন, ‘এই মাসের শেষের দিকে ঐতিহাসিক মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফর করতে পারা আমার জন্য ছিল সম্মানের বিষয়।’
নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেন গত ২৬ মার্চ (২০২১)। তার ঢাকা সফরের মধ্যে দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয় । সফরের অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বৈঠকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা করেন দুই সরকার প্রধান। আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু নিয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদান করেন। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে পৃথক দুটি স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করেন। এই সফরকে সামনে রেখে গত ৯ মার্চ (২০২১) সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর ওপর একটি সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটি সরাসরি যুক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোকে। এখন ভারতের এই রাজ্যগুলো সেতু দিয়ে সহজে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আনা নেয়া করতে পারবে। পাঁচ বছর আগেই ভারতের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার বা ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা কার্যকর হয়েছে। মূলত স্থল সীমান্ত বাণিজ্যে সমস্যা কমানো গেছে, কানেক্টিভিটি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন নতুন জিনিস যোগ হয়েছে। এ সব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, দু’দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

সীমান্তের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই সীমান্ত হাট চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত হাট নিয়ে আলাপ-আলোচনার পর অবশেষে আটটি হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ইতিমধ্যে চারটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব হাট সীমান্তের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখছে।

এবছর ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন । এসময় ভারত-বাংলােদেশর মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে-অভিন্ন সীমান্ত নদী কুশিয়ারা থেকে ভারত ও বাংলাদেশের পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত সরকারের জল শক্তি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, ভারতে বাংলাদেশের রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে ভারতের রেল মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের রেলওয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এফওআইএস ও অন্যান্য আইটি অ্যাপ্লিকেশনের মতো আইটি সিস্টেমে সহযোগিতার জন্য ভারতের রেল মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের রেলওয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক। ভারতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচির বিষয়ে ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) ও বাংলাদেশের কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের (বিসিএসআইআর) মধ্যে সমঝোতা স্মারক, মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবং প্রসার ভারতী ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মধ্যে সম্প্রচার সহযোগিতা সংক্রান্ত স্মারক। এ সফরে সমঝোতা হয় বাংলাদেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে উভয়পক্ষই আন্তসীমান্ত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্তির আশা করছে যার মাধ্যমে ভারত থেকে সরাসরি বাংলাদেশে উচ্চ গতির ডিজেল পরিবহন হবে। এ সমঝোতার সফল হিসােব আগামী মাস খেকে ভারত থেকে পাইফ লাইনে জ্বালানী তেল আসছে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এ সফর সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই দীর্ঘ ৫১ বছর সম্পর্কের পরীক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়িয়েছে। আজ ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘গোল্ডেন এজ’ বা ‘সোনালি অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করছে দুই দেশই। প্রত্যাশা দ্রুত বন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই মীমাংসিত হবে অমীমাংসিত বিষয়াদি। আগামী দিনের প্রত্যাশা আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হবে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক। একে অপরের প্রয়োজনে সর্বদা পাশে থাকবে অতীতের মতোই। আগামী ৬ ডিসেম্বর ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫১ বছর পূর্তি। শুভ এ লক্ষেè èএই হোক প্রত্যাশা ।

লেখক -সম্পাদক ভিনিউজ বিডি ডট কম , ব্যুরো চীফ আজকাল ( বাংলা দৈনিক ভারত) ও সদস্য আ্ওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক উপকমিটি